সাক্ষাতকার
জোটের দলগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা নেই: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২২, ১৩:৫৮
জোটের দলগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা নেই: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান
কিরণ শেখ
প্রিন্ট অ-অ+

ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের দলগুলোর মধ্যে অন্যতম দল বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান। ২০১২ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট (বর্তমানে ২০ দলীয় জোট) গঠিত হলে ওই সময় থেকে লেবার পার্টি অন্যতম শরিকদল হিসাবে জোটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নীতি-নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।


বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বৃহত্তর ঐক্য, নির্বাচন এবং আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে বিবার্তা২৪ডটনেটের সঙ্গে কথা বলেছেন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবার্তা প্রতিবেদক কিরণ শেখ।


বিবার্তা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর বিএনপি ২০ দলীয় জোটকে গুরুত্ব দেয়নি। নির্বাচনের পরে গুরুত্ব দিয়েছে, এর মূল কারণ কি?


মোস্তাফিজুর রহমান ইরান: জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করার আগে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে বিএনপি পরামর্শ করেছে এবং জোটের সম্মতি নিয়েছে। মূলত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছিলো নির্বাচনকালীন জোট। আন্দোলন-সংগ্রামে ঐক্যফ্রন্ট কখনো ছিলো না আর এখনো নাই। সুতরাং ঐক্যফ্রন্ট ছিলো দুধের মাছির মতো। তারা হঠাৎ করে জোট আসলেন, অনেকগুলো আসন তারা নিলেন এবং নির্বাচনেও গেলেন। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের দলের দুইজন সংসদ সদস্য হলেন। পরে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের অনুমতি ছাড়া সংসদেও গেলেন। আর এখন যে প্রেক্ষাপট সেটা ২০১৮ সালে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের প্রেক্ষাপট নয়। এখন তাদেরকে আসতে হলে পরীক্ষা দিয়ে আসতে হবে। যে পরীক্ষায় ২০ দলীয় জোটের বেশ কয়েকটি দল উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে জোটের সব দল আন্দোলন-সংগ্রামে কখনো ছিলো না। তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতাও নেই। কিন্তু যে কারণেই হোক বিএনপি তাদেরকে স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছে।


তিনি বলেন, আজকে বৃহত্তর ঐক্য গঠনে বিএনপির প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা আসছেন এবং বিএনপি যে নতুন কাজ শুরু করছেন তার দুটি অংশ রয়েছে। প্রথমত বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তারা আমাদের সুযোগ-সুবিধা দেবে। কিন্তু ক্ষমতায় গেলে কে কাকে মনে রাখে? এটা কিন্তু বৃহত্তর ঐক্য গঠনে এবং আন্দোলনের সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। আর বিএনপিকে যদি এখন আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয় তাহলে এই ২০ দলীয় জোট এবং ঐক্যফ্রন্টের কয়টি দলের সাংগঠনিক ক্ষমতা আছে যে, বিএনপি যে কর্মসূচি দেবে সেই কর্মসূচি নিয়ে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে রাজপথে অবস্থা নিতে পারবে? এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। তাই বিএনপি যাই করবে তাদেরকে ভেবে-চিন্তে একটা রূপরেখা দিতে হবে। আর বৃহত্তর ঐক্যের একটা ঘোষণা আসবে। আমরা সেই পর্য‌ন্ত অপেক্ষায় আছি। এই ঐক্যে করতে বিএনপির সঙ্গে সবাই একমত পোষণ করেছে, এটা যেমন সত্য। কিন্তু শেষ পর্য‌ন্ত কি হয়- সেটাও দেখতে হবে। আর আমরা মনে করি, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের জন্য একাধিক প্লাটফর্মও হতে পারে।


বিবার্তা: সম্প্রতি দেখা গেছে, বিএনপি ২০ দলীয় জোটকে কম গুরুত্ব দিচ্ছে। দলটি কি জোট ভেঙে দিতে চাচ্ছে?


মোস্তাফিজুর রহমান ইরান: বিএনপি ২০ দলীয় জোটকে গুরুত্ব দেবে কি না, জোট রাখবে কি না এবং আন্দোলন করবে কি না- এগুলো বিএনপি ওপরে বর্তায়। আজকে যদি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া থাকতেন তাহলে উনি ২০ দলীয় জোটকে আরো সক্রিয় করতেন এবং থানায় থানায় কমিটি করতেন।


বিবার্তা: বিএনপি বৃহত্তর ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে লেবার পার্টির সঙ্গে সংলাপ করেছে। সংলাপে আপনারা যে সব প্রস্তাব দিয়েছেন সেগুলো মেনেই কি ঐক্য গঠন করা হবে?


মোস্তাফিজুর রহমান ইরান: আমাদের বিষয় ছিলো যে, বামপন্থী যে রাজনৈতিক দলগুলো আছে, ২০ দলীয় জোটের কোন দলের প্রতি তাদের যদি কোন অ্যালার্জি থাকে এবং তারা যদি জোটে আসতে না চায় তাহলে বামপন্থী দলগুলোকে নিয়ে আলাদা একটা মোর্চা করা যেতে পারে। যেমন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করা হয়েছিল।


বিবার্তা: শেষ পর্যন্ত যদি আপনাদের প্রস্তাবনা মেনে বৃহত্তর ঐক্য গঠন না হয় তাহলে সেই ঐক্য আপনারা যাবেন?


মোস্তাফিজুর রহমান ইরান: বৃহত্তর ঐক্যের রূপরেখাটা আমাদের কাছে প্রধান না। আমাদের কাছে প্রধান হচ্ছে, আওয়ামী লীগের দু:শাসন এবং ফ্যাসিবাদ ‍মুক্ত একটা বাংলাদেশ। এজন্য একটা আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন। বিএনপি কি ঘোষণা করে- এটা তো আমরা দেখবো। এরপরে আমাদের সমর্থন বিএনপিকে জানাবো।


বিবার্তা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কি লেবার পার্টি এককভাবে অংশগ্রহণ করবে, না কি জোটগতভাবে?


মোস্তাফিজুর রহমান ইরান: আমাদেরকে গত বছরও নিবন্ধন দেয়নি। আমরা আদালতে গিয়েছি। কিন্তু আদালত থেকেও প্রত্যাখান হয়েছি। তবে নিবন্ধন না দিলেও আমাদের বিকল্প পথ আছে। আর একটা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের নির্বাচনের প্রস্ততি আছে। কিন্তু দেশে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে হবে। সেই নির্বাচন আমরা অবশ্যই করবো। আর সেটা দলগতভাবে না কি জোটগতভাবে করবো- সেটা সময়ই বলে দেবে।


বিবার্তা: গত ১৩ জুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন- পৃথিবীর সকল দেশেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানও তাই বলে। আপনার দলের অবস্থান কী?


মোস্তাফিজুর রহমান ইরান: প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুন্দর কথা বলেছেন। কিন্তু উনি একটা জিনিস জানেন না যে, বাংলাদেশে যেমন আওয়ামী লীগ আছে অন্যন্যা দেশে কিন্তু আওয়ামী লীগ নাই। আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদ যেসব দেশগুলোতে নাই সেসব দেশে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া সম্ভব।


বিবার্তা: লেবার পার্টিকে নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?


মোস্তাফিজুর রহমান ইরান: লেবার পার্টি বাংলাদেশের একটা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা জাতীয়তাবাদী এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল। আমরা শোষণমুক্ত ইনসাফ ভিত্তিক একটা কল্যাণ রাষ্ট্রের প্রত্যশা করি। আর আমাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমরা কাজ করছি।


বিবার্তা: চলতি মাসের ২৫ তারিখে স্বপ্নের পদ্মাসেতুর উদ্বোধন। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে কি আপনার মতামত কী?


মোস্তাফিজুর রহমান ইরান: একটা সরকারের কাজ হচ্ছে অবকাঠামো উন্নয়ন করা। পদ্মাসেতু করার জন্য আমি সরকারকে অবশ্যই ধন্যবাদ জানাই। আরো অনেকগুলো মেগা প্রকল্প করছে, এজন্যও ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু ১০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতুতে ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে- এই যে ৩০ হাজার কোটি টাকা যে লুট হয়েছে- কিভাবে টাকা লুট হয়েছে এবং কারা করেছে- সেটা বের করতে আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে তাদেরকে আলাদা একটা কমিশন করতে বলব। আর এক্ষেত্রে আমি জোরালো ভূমিকা রাখবো।


বিবার্তা: কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান?


মোস্তাফিজুর রহমান ইরান: রাষ্ট্রের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ দরকার, জনগণের ক্ষমতায়ন দরকার, দুর্নীতি এবং দু:শাসন বন্ধ হওয়া দরকার। এজন্য আমরা একটা পরিবর্তন চাই।


বিবার্তা/ কিরণ/রোমেল/কেআর

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com