সাক্ষাতকার
দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ফলপ্রসূ হবে না: সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২২, ২২:২২
দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ফলপ্রসূ হবে না: সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম
কিরণ শেখ
প্রিন্ট অ-অ+

মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বীর প্রতীক। রাজনীতির অঙ্গনে স্বচ্ছতা, আচরণে শালীনতা, চিন্তায় প্রাজ্ঞতা এবং ভারসাম্যমূলক ব্যক্তিত্বের কারণে শ্রদ্ধার আসনে উঠে এসেছেন তিনি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্যতম দল বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি। দলের চেয়ারম্যান জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা। নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।


বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, বৃহত্তর ঐক্য, আন্দোলন, জাতীয় সরকারসহ নানা বিষয়ে বিবার্তা২৪ডটনেটের সঙ্গে কথা বলেছেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবার্তা প্রতিবেদক কিরণ শেখ।


বিবার্তা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই ২০ দলীয় জোটের কোনো কর্মসূচি নেই, জোট কী আছে না নেই?


সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম: ২০ দলীয় জোট আছে বললেও সত্য, আবার নাই বললেও সত্য। সুতরাং যতটুকু দৃশ্যমান ততটুকুই বিশ্বাস করতে হবে।


বিবার্তা: রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে বিএনপি ২০ দলীয় জোট ভেঙে দেবে, এটার কি কোন সত্যতা আছে?


সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম: ভেঙে দেয়ার কথা আমরা শুনি নাই। গত ২ জুন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সঙ্গে আলাপ ছিল। সেই আলাপে আমরা লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। আমরা প্রস্তাব করেছি, ২০ দলীয় জোটকে সক্রিয় করা হোক। এটার দায়িত্ব পড়ে জোটের প্রধান শরীক দল বিএনপির ওপর। আর জোটকে সক্রিয় করার কাজে কল্যাণ পার্টি সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কারণ জোটকে যদি সক্রিয় করা না হয় তাহলে জোটগতভাবে কোন কিছু করা সম্ভব না। আর জোটগতভাবে আন্দোলন করা যদি সম্ভব না হয় তাহলে কল্যাণ পার্টি যুগপৎ আন্দোলনের প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে এবং আমরা সেটাতে অংশ নেব। আমরা যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদার হব।


বিবার্তা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০ দল থেকে কয়েকটি দল বের হয়ে গিয়েছিল, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারও কি জোট ভাঙার কোন সম্ভাবনা রয়েছে?


সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম: নদীর একূল ভাঙে তো ওকূল গড়ে। কোন সময় একটি রাজনৈতিক দল একটি সমষ্টি থেকে বের হয়ে যায়। আরেকটি সমষ্টিতে প্রবেশ করে। এটাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়াই ভালো বলে আমি মনে করি।


বিবার্তা: বিএনপি বৃহত্তর ঐক্য করতে সংলাপ করছে, কল্যাণ পার্টির সঙ্গেও সংলাপ হয়েছে- এই ঐক্য নিয়ে আপনার মতামত কি?


সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম: বিএনপি সবার মতামত ও মনোভাব জানতে চাচ্ছে। বেশ কয়েক মাস আগে থেকে তারা বৃহত্তর ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন। আমরা মনে করি প্রত্যেকের মনোভাব জেনে এগোনোটাই সমীচীন। আর আমরা এই কাজটাকে সমর্থন করি।


বিবার্তা: ঐক্যফ্রন্ট করে বিএনপি কোনো সফলতা পায়নি, বৃহত্তর ঐক্য করে সফলতা আসবে বলে কি আপনি মনে করেন?


সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম: আমরা আশাবাদী, আমরা প্রচন্ড আশাবাদী। সকলের অংশগ্রহণে যে আন্দোলন হবে, সেই আন্দোলনটাও সফল হবে। তবে অগ্রিম বলাটা উচিত না। কিন্তু আমাদের আশাবাদ বহাল থাকবে।


বিবার্তা: নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছে বিএনপি- এই ফর্মুলার বিষয়ে আপনার মতামত কি?


সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম: এটার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যেহেতু ওই প্রসঙ্গে কোন প্রকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। কিন্তু সংলাপের সময় উনাদের মতামত এবং মনোভাব আমাদেরকে জানিয়েছেন। আমরাও জেনেছি। শুধু একটা দলের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিলে তো হবে না। সবাইকে নিয়েই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে।


বিবার্তা: সরকার বলছে, আগামী নির্বাচন ইভিএম-এ হবে। বিএনপি জাতীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আপনার দলের কি মতামত?


সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম: আমরা যেহেতু এখনো ২০ দলীয় জোটে আছি। সেহেতু আমরাও বিশ্বাস করি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ফলপ্রসূ হবে না, সেই নির্বাচনে আমরাও অংশগ্রহণ করবো না। আর আমরা ইভিএম পদ্ধতি সমর্থন করি না। তবে ইভিএম এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাওয়ার সময় এখন নয়। এখন সময় 'ফোকাসটা' সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক একটা আন্দোলনের। কারণ ইভিএম নিয়ে কথা বললে মনে হবে হয়তো নির্বাচনে যাবে, তাই ইভিএম নিয়ে কথা বলছে।


বিবার্তা: বিএনপি বারবার রাজপথের আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে, এরপরও বিএনপির নেতৃত্বেই কেনো আন্দোলনে যাচ্ছে কল্যাণ পার্টি?


সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম: আমরা যার যার অবস্থানে সক্ষমতা অনুযায়ী প্রস্তুত। কিন্তু সকল রাজনৈতিক দলের সক্ষমতার মান সমান না। যার যতটুকু সক্ষমতা, যার যতটুকু দক্ষতা- এই দুটি জিনিস মিলিয়েই আমরা আন্দোলনে শরীক হব।


বিবার্তা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?


সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম: নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যদি নির্বাচন হয় তাহলে কল্যাণ পার্টি বহুসংখ্যক আসনে প্রার্থী দেয়ার জন্য গত ৫ মাস আগে থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। কিন্তু নির্বাচনের আগে অন্যন্যা শরীকদের সঙ্গে একটা আলোচনার প্রশ্ন আসবেই। সেই আলোচনার প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কল্যাণ পার্টির কোন কোন আসনে প্রার্থী ঠিক থাকলো। আর কোন কোন আসনে আমাদের ত্যাগ স্বীকার করতে হলো।
বিবার্তা: কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান?


সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম: বর্তমানের যে বাংলাদেশের চিত্র পাচ্ছি, এটা আমাদের জন্য সন্তোষজনক নয়। শুধু মাত্র ভৌত কাঠামোগত উন্নয়নকে উন্নয়ন বলে চালিয়ে দেয়া, সামাজিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলা, নৈতিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলা, দুর্নীতির স্রোতে দেশকে নিমজ্জিত করে ফেলা এবং অব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করা- অর্থাৎ সকল সরকারকে আনুপাতিক হারে এর দায়িত্ব নিতে হবে। কোন সরকার বলতে পারবে না যে, আমরা এর জন্য দায়ী না। একটা দক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলতে কেউই মনোযোগ দেয়নি। যার কারণে যে কোন প্রজেক্টে দুই গুণ থেকে তিন গুণ ব্যয় বেড়ে যায়। যেকোন প্রজেক্ট বিলম্ব হয়। সুতরাং বড় একটা নির্মাণ কাজ দিয়ে সমাজের সকল কিছু অর্জনকে বুঝাতে পারবেন না। তবে নির্মান কাজের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। তিন তিনবার ধন্যবাদ জানাব। কিন্তু তার সাথে বাংলাদেশে যে মেগা দুর্নীতিগুলো হয়েছে, তার জন্য আমরা সরকারকে অবশ্যই নিন্দা জানাব। আর এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ ঘটাতে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি সকলকে সহযোগি করতে প্রস্তুত।


বিবার্তা/কিরণ/রোমেল/জেএইচ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com