সাক্ষাতকার
পাঁচবিবি হবে ক্লিন পৌরসভা, গ্রিন পৌরসভা
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২২, ১৫:৩৫
পাঁচবিবি হবে ক্লিন পৌরসভা, গ্রিন পৌরসভা
সোহেল আহমদ
প্রিন্ট অ-অ+

পাঁচবিবি পৌরসভায় বীর মু্ক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়কের নামকরণ করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ম্যুরালও স্থাপন করেছি। তাদের কৃতিত্বের স্বাক্ষরগুলো তুলে ধরেছি। এতে করে বর্তমান প্রজন্ম ইতিহাস জেনে তাঁদের অনুসরণে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে। পাঁচবিবির সাধারণ মানুষ সহজ সরল ধর্মপ্রাণ। এলাকাটি জামায়াত-বিএনপি অধ্যুষিত হওয়ায় সহজ সরল ধর্মপ্রাণ মানুষকে এরা কুমন্ত্রণা দিয়ে ধর্মান্ধ বানাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ হবে অসম্প্রদায়িক, বাংলাদেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ। নতুন প্রজন্ম যাতে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, কুসংস্কার থেকে দূরে থাকে সেই চেষ্টা করেছি। আমার স্বপ্ন পাঁচবিবি হবে ক্লিন পাঁচবিবি, গ্রিন পাঁচবিবি। সবকিছু ঝকঝকা, পরিচ্ছন্ন থাকবে- এটা আমার স্বপ্ন।


কথাগুলো বলছিলেন পাঁচবিবি পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. হাবিবুর রহমান। সম্প্রতি পাঁচবিবি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আসন্ন নির্বাচন, রাজনৈতিক জীবন ও পাঁচবিবি পৌরসভার মেয়র থাকাকালীন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিবার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক।


বিবার্তা: বীর মুক্তিযোদ্ধা, বরেণ্য ব্যক্তিদের নামে পাঁচবিবি পৌরসভায় বিভিন্ন সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ম্যুরালও স্থাপন করা হয়েছে। এর কারণ কি?


মো. হাবিবুর রহমান: বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চিন্তা করেন। বাংলাদেশকে কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়- তিনি সেই চেষ্টাই করছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেয়ার জন্য উনি সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নামে সড়কের নামকরণ করা নিয়ে সরকারের একটি নির্দেশনাও ছিলো। এতে আমি আরেকটু সংযোজন করেছি। বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদদের পাশাপাশি কিছু বরেণ্য ব্যক্তির নামেও নামকরণ করেছি। এছাড়া সড়কের নামকরণ করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ম্যুরালও স্থাপন করেছি। তাদের কৃতিত্বের স্বাক্ষরগুলো তুলে ধরেছি। এতে করে বর্তমান প্রজন্ম ইতিহাস জেনে তাঁদের অনুসরণে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে।


বিবার্তা: পাঁচবিবি পৌর শিশুপার্কে পাঠাগার, ম্যুরাল স্থাপনের কারণ কি ছিলো?


মো. হাবিবুর রহমান: বিপ্লবী আব্দুল কাদের চৌধুরীর নামে শিশুপার্কটির নামকরণ করা হয়েছে। পার্কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়াসহ বরেণ্য ব্যক্তিদের ভাস্কর্য রয়েছে। শিশুরা এখানে খেলবে আর খেলতে খেলতে শিখবে। শিশুদের সংস্কৃতিমনা করে গড়ে তোলার জন্য সংস্কৃতি চর্চার জন্য বিদ্যালয় করেছি। এছাড়া পার্কে একটি লাইব্রেরিও প্রতিষ্ঠা করেছি। লাইব্রেরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়ার সুযোগ পায়। বই নিয়ে পাঠচক্রও হয়। আমি বইপড়া কার্যক্রম প্রতিটি স্কুলে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি। এখান থেকে প্রতি বছর অন্তত ১০০ শিশু সংস্কৃতিমনা হয়ে গড়ে উঠছে।


পাঁচবিবির সাধারণ মানুষ সহজ সরল ধর্মপ্রাণ। এটা জামায়াত-বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হওয়ার সহজ সরল ধর্মপ্রাণ মানুষকে এরা কুমন্ত্রণা দিয়ে ধর্মান্ধ বানাচ্ছে। বাংলাদেশ হবে অসম্প্রদায়িক। নতুন প্রজন্ম যাতে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, কুসংস্কার থেকে দূরে থাকে সেই চেষ্টা করেছি।


বিবার্তা: দীর্ঘদিন পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। পৌরসভাকে কি প্রত্যাশিত জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছেন?


মো. হাবিবুর রহমান: আমি মেয়র হওয়ার পরে দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণে গিয়েছি। সেগুলো মাথায় নিয়ে দেশে এসেছি। বাইরের দেশের মতো আমাদের পৌরসভাকে কিভাবে আরো উন্নত, সমৃদ্ধ করা যায়, সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। সেই জায়গা থেকে পৌরসভাকে প্রত্যাশিত জায়গায় নিয়ে যেতে আরো কিছুটা সময় দরকার ছিলো। আমার স্বপ্ন পাঁচবিবি হবে ক্লিন পৌরসভা, গ্রিন পৌরসভা। সবকিছু ঝকঝকা, পরিচ্ছন্ন থাকবে এটা আমার স্বপ্ন। ২০২১ সালে পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন কাজ শুরু হয়েছে। আমি থাকতে প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পৌর সুপার মার্কেট করেছি। উত্তরবঙ্গে এটাই প্রথম। যেসব কাজ করেছি, সততা, দক্ষতা নিয়ে নিবেদিতভাবে করার চেষ্টা করেছি। আমার আরো কিছু কাজ বাকি রয়ে গেছে।


বিবার্তা: আপনি বলছিলেন- আপনার এলাকা জামায়াত-বিএনপি অধ্যুষিত। ১৩ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, এখন কি অবস্থা?


মো. হাবিবুর রহমান: মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ; বিএনপি-জামায়াতের আমলে কোনঠাসা ছিলো। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা কাজ করেছি। বর্তমানে পাঁচবিবি আওয়ামী লীগ আগের চেয়ে সুসংগঠিত। বিভিন্ন সময়ে আমাদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। আমি নিজেও বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছে। নব্বইব দশকে শহিদ জননী জাহানারা ইমাম হরতাল দিয়েছিলেন। সেসময় হরতাল সফল করার জন্য আমরা মিছিলে ছিলাম। আমি সম্মুখসারিতে ছিলাম। জামায়াতের লোকজন আমার মাথায় আঘাত করেছিলো। কপালে সেই দাগ এখনো আছে। এর আগে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে মার খেয়েছি। ২০১৩-১৪ সালে জামায়াতের লোকজন আমার বাড়িতেও হামলা করেছিলো।


বিবার্তা: পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। আপনি কি দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী?


মো. হাবিবুর রহমান: বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দূরদর্শী। তিনি বাংলাদেশের সকল জেলার, উপজেলার খবর রাখেন। আমি বিশ্বাস করি সেই জায়গা থেকেই নিশ্চয়ই তিনি সঠিক এবং কল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত নিবেন। আমি চেষ্টা করেছি মানুষের কল্যাণে কাজ করার। ভবিষ্যতেও সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাই। দলের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।


বিবার্তা/সোহেল/রোমেল/জেএইচ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com