‌‘শিক্ষার্থীদের আবেগতাড়িত না হয়ে যৌক্তিক চিন্তাটা করতে হবে’
প্রকাশ : ২১ মে ২০২২, ১৮:৩৭
‌‘শিক্ষার্থীদের আবেগতাড়িত না হয়ে যৌক্তিক চিন্তাটা করতে হবে’
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক এর আগে সফলতার সাথে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।


গত বছরের ৩০ মে চার বছরের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তাঁকে নিয়োগ দেয়া হয়। একই বছরের ৩১ মে গাজীপুর মূল ক্যাম্পাসে যোগদানের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ড. মশিউর রহমান।


সম্প্রতি মুখোমুখি হন বিবার্তা২৪ ডটনেটের সাথে। একান্ত আলাপচারিতায় জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাঁর নানা পরিকল্পনার কথা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমন্ডির নগর কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবার্তার প্রতিবেদক মহিউদ্দিন রাসেল।



বিবার্তা : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে আপনাদের অভিযোগ দেয়। এই বিষয়ে যদি কিছু বলতেন?


অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান: আমি আমার শিক্ষার্থীদের বলব, আমরা অভিযোগ করতে শিখেছি কিন্তু আত্মজিজ্ঞাসা কম। আমি কি পড়াশোনায় প্রতিদিন ৬/৮ ঘণ্টা দেই? আমরা যদি দেখি, আমাদের আগের প্রজন্ম যারাই পড়াশোনা করেছে, প্রত্যেকদিন ন্যূনতম একটা সময় তারা পড়াশোনা করত। কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীরা ৬/৮ ঘণ্টা পড়াশোনা না করে অভিযোগ নিয়ে বসে থাকে। আমি ফেল করলে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফেল করিয়ে দেয়। আমি খারাপ করলে, প্রশ্নপত্র কঠিন হয়। আবার বেশি পাস করলে, প্রশ্নপত্র সহজ হয়। কিন্তু আমাদের মাঝে আত্মজিজ্ঞাসা নেই! আমি কি আমাকে প্রস্তুত করেছিলাম অথবা আমি কি আমার মান বৃদ্ধির জন্য সচেষ্ট ছিলাম? আমার সিলেবাসে যেসব বই আছে, সেই বইগুলোর একটাও যদি পড়ার অভ্যাস না থাকে, গাইড বই পড়ে পাস করি। এভাবে পাস করা যায় কিন্তু শেখা যায় কি? এই জায়গাটাতে যারা অভিযোগ করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে আমরা সেটা বুঝতে পারি, তাদের সমালোচনার মাত্রা কতটুকু।


বিবার্তা : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের পড়াশোনা-ফলাফলকে ঘিরে অসন্তুষ্টিতে ভোগে, আত্মহত্যারও হুঁমকি দেয়। এ ব্যাপারে আপনারা অবগত আছেন কিনা?


অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান: এটা ঠিক যে, আমাদের কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগের উপর থাকতে চায়। তারা অনেক সময় বাস্তবতা বুঝতে চায় না। তাদের অনেকে বলে, স্যার ভর্তি হতে না পারলে সুইসাইড করব। আমি তাদের কাছে জানতে চাই, একজন কোভিড রোগী যে মৃত্যু যন্ত্রণায় ভোগে- তার পাশে গিয়ে দেখো, জীবন কত কঠিন। যখন কেউ বলে আমি সুইসাইড করব, সে কি জানে- জীবন কত মধুর, কত সুন্দর। যে মানুষটির হাত নেই, পা নেই, চোখ নেই কিংবা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে অথবা যে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে- সে বোঝে জীবনে চ্যালেঞ্জ কত বেশি। একজন সুস্থ সবল মানুষ যখন বলে, এটি না হলে, ওটি না হলে সুইসাইড করবো- তখন মনে হয়, আমরা শিখাতে পারিনি। খুব কম মানুষই আছে, যারা সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মে সেটা ধরে রাখতে পারে। সবাই অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমাদের মধ্যে একটা প্রবণতা কাজ করে, অন্যকে দোষ দেয়া অথবা অন্য কেউ আমাকে করে দিলো না কেন?



বিবার্তা : অভিযোগকারী ও হতাশায় নিমজ্জিত এসব শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আপনার বিশেষ কোনো পরামর্শ আছে কিনা?


অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান: শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আমি বলবো, পড়াশোনার ক্ষেত্রে সাধনার বিষয় আছে, সেটি করছি কিনা? সেটি যদি আমি না করি তাহলে অন্যকে দোষ দিয়ে কী লাভ? আমরা ভেবে দেখেছি কি? একজন কৃষক যখন ফসল ফলায়, কি কষ্টটা তাকে করতে হয়। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বীজ বোনা, জমি পরিচর্যা, ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ খুবই কষ্টসাধ্য। এটা অনেক চ্যালেঞ্জিং, একই সাথে কত সাধনার কাজ, সেটি ভালো করে দেখলে উপলব্ধি করা যায়। আমি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে কী করছি? শুধু প্যান্ট শার্ট পড়ে ঘুরছি। আমার কাজ অনেক কম, আমাকে সবাই তৈরি করে দিবে- এসব যদি ভাবি, তাহলে আমি বড় ভুল করছি। আমি সরাসরি এসব বলাতে শিক্ষার্থীরা হয়তোবা বিষয়গুলো সমালোচনা হিসেবে নিবে। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা যেটা বলে, একজন শিক্ষার্থী যখন সুযোগ পায়, তখন সেটা কাজে লাগানো উচিত। ধরুন, সে ৪ বছর সময় পাচ্ছে। এই ৪ বছর তো নিজেকে পাল্টে ফেলার জন্য যথেষ্ঠ সময়। এরমধ্যে সে বহুকিছু করতে পারে। শিক্ষার্থী যদি মনে করে উদ্যোক্তা হবে, তাহলে সে ৪ বছর পড়ার পাশাপাশি এটা নিয়েও ভাবতে পারে। সে যদি বিজ্ঞানী হতে চায়, তাহলে সে সেটিও হতে পারে। শিক্ষার্থীরা একইরকম না হয়েও নিজ নিজ জায়গায় তো সে অনন্যা হতে পারে। আমাদের মাঝে একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে, অল্পতে অস্থির হওয়া। আসল কাজ না করে আমি এটা করব,ওটা করব- এসব বলে বেড়াচ্ছি। আসলেই আমাকে ভাবতে হবে, আমি সাধনার মধ্যে আছি কিনা, কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে আছি কিনা ?


শিক্ষার্থীরা তিন থেকে পাঁচ বছর কঠোর পরিশ্রম করলে অবশ্যই তার জীবন নিঃসন্দেহে বদলে যাবে। আর আমাদের মধ্যে যারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, তারা অনেক লাকি। কত কম পয়সায় আমরা পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছি।



বিবার্তা: অনেক শিক্ষার্থী দেশের বাহিরে ক্যারিয়ার গড়তে পছন্দ করে। যেটা অনেকের ক্ষেত্রে ফ্যাশনও হয়ে গেছে। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?


অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান: দেশের ভিতরে ক্যারিয়ার গড়ুক বা দেশের বাহিরে- সব জায়গায় কিন্তু চ্যালেঞ্জ আছে। যারা ভাবে, দেশের বাহিরে গেলে জীবনটা মনে হয় সোনায় ভরে উঠবে, ব্যাপারটাতো তা নয়। একটা শীতের দেশে গিয়ে পড়লে বোঝা যায় যে, কত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে ওই জেনারেশন বেড়ে উঠছে। এই ডিজিটাল যুগে এসে আমরা হয়ত ভাবছি, টাচ করবো আর হয়ে যাবে- বিষয়টি এরকম নয়। যে মোবাইল ফোন বানানোর সাধনা করেছে, সে জানে এখানে তার কত মেধা-মনন জড়িয়ে আছে। সুতরাং বিজ্ঞানমুখী ভাবনা আমাদের ভাবতে হবে। আবেগতাড়িত না হয়ে যৌক্তিক চিন্তাটা করতে হবে। আত্মজিজ্ঞাসা, আত্মবিশ্লেষণ যদি শিক্ষার্থীরা করে, আমি নিশ্চিত তখন তাদের মধ্যে প্রশ্ন করার প্রবণতা বাড়বে এবং ভালো করবার পিপাসা তৈরি হবে। সাধনার মধ্যে যে একটা সৌন্দর্য আছে, সেটি উপলব্ধি করতে হবে। এগুলো না হলে জীবন আসলে পরিপূর্ণ হবে না, অর্থময় হবে না। জীবনকে যদি উপভোগ করতে হয় তাহলে নিজেকে চ্যালেঞ্জের মধ্য ফেলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার দৃঢ়তা থাকতে হবে। সবকিছু অন্য কেউ পাইয়ে দিবে, এ চিন্তা থাকলে জীবন উপভোগ্য হয়ে উঠবে না। আমি শিক্ষার্থীদের এই আহ্বানটাই করবো, শিক্ষা জীবনকে যদি কাজে লাগাতে হয়, তাহলে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় অধ্যয়ন করতে হবে। শিক্ষক পড়াক বা না পড়াক। এটি করলেই আমাদের সমাজ পাল্টে যাবে।


বিবার্তা : আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেকে পাস করেও বেকার জীবনযাপন করে। আপনি এর পেছনে কী কারণ দেখেন?


অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান: আমরা বলি- আমাদের শিক্ষিত বেকার আছে, কিন্তু আমি শিক্ষিত বেকার বলবো না। কারণ, ওই শিক্ষার্থী সচেতন হয়নি বলেই শিক্ষার সনদ পেয়েও সে নিজেকে প্রত্যাশিত জায়গায় নিতে পারেনি। আমি শিক্ষার্থীদের বলব, এই অভিজ্ঞতাগুলো থেকে তারা যেন দৃঢ় হয়। কঠোর সাধনা যদি করে, তাহলে সে একটা জায়গায় পৌঁছাবেই।


বিবার্তা : শিক্ষার্থীদের সম্পদকেন্দ্রিক ক্যারিয়ারের দিকে ঝোঁক বেশি দেখা যায়। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?


অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান: আমরা সবাই যদি ধনবান হওয়ার মাঝে পরিবর্তন খুঁজি, তাহলে ভুল করব। আপনি ভাবুন, আবদুল গাফফার চৌধুরী, শামসুর রহমান, কাজী নজরুল ইসলাম অথবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর- এসব মহান ব্যক্তিদের আমরা স্মরণ করি অর্থবিত্তের কারণে নয়।


এই যুগের কবি নির্মলেন্দু গুণের কথা বলেন, কার জীবন এত অর্থময় এবং বিত্তময় ছিল। কিন্তু এরাই তো বড় হয়েছে। এরাই তো শিল্পী হয়েছে। আপনি সেলিনা হোসেনের কথাই ধরুন, কত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত লিখছে। আমাদের শ্রদ্ধেয় আনিসুজ্জামান স্যার, রফিকুল ইসলাম স্যারের কথা বলেন- ওনারা প্রত্যেকে সাধনার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। আমরা যদি ড. জাফর ইকবাল, অধ্যাপক অনুপম সেন, প্রফেসর জামাল নজরুলের কথাই বলি- ওনারা সাধনার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আমাদের এসব গুরুজনরা বিত্তবান হতে চাননি, তাঁরা মানুষ হতে চেয়েছেন। তাঁরা পরিপূর্ণ মানুষ হয়েছেন বলে আমরা তাদের স্মরণ করি।


সুতরাং জীবনকে অর্থময়-তাৎপর্যময় করা শুধুমাত্র আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়ে নয়- সেটি যদি জ্ঞানচর্চার মধ্য দিয়ে হয়, তাহলে অবশ্যই সে ভালো করবে। যে কৃষক ফসল ফলান, তার মনে কি আনন্দ নেই? তার মনেও অপার আনন্দ আছে। আর এই আনন্দ যদি খুঁজতে না পারি, তাহলে আমরা তৃপ্ত হতে পারবো না। আমরা সবসময় অন্যকে অভিযুক্ত করেই যাবো, কিন্তু তাতে জীবনের সমাগম ঘটবে না।



বিবার্তা : কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান ?


অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান: আমি খুব আশাবাদী মানুষ, ভীষণরকম আশাবাদী। আপনি দেখুন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হলো। সেদিন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা নয়, বাঙালি ও বাংলাদেশকে হত্যা করা হয়েছে। তারপর বাংলাদেশ বহুদিন অগণতান্ত্রিক পথে হেঁটেছে, সামরিক শাসনের পথে হেঁটেছে। সেই সামরিক শাসক ও অগণতান্ত্রিক সরকার এক সময় গণজোয়ারে রুদ্ধ হয়েছে। ১৯৯০-এর গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার সামরিক শাসকের পতন হয়েছে। বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে হাঁটছে। আমি প্রায় একটা কথা বলি, বাঙালির শক্তি আছে। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে সাড়ে ৭ কোটি বাঙালিকে একই জায়গায় আনবার যে অপরিমেয় শক্তি দেখিয়েছেন, সেটি আমাদের শক্তি।


আমাদের কিছু কিছু জায়গায় ঐক্য হয়ে গেছে। আমরা সংবিধানে বলেছি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ,গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র- এ চারটি মূলনীতির ওপরে দেশ গড়বো অর্থাৎ অসাম্প্রাদয়িক বাংলাদেশ গঠনে আমরা একমত হয়েছিলাম। এই যে চার মূলনীতি, সেগুলোর যে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, সেগুলো তো বৃথা যেতে পারে না। এর পেছনে ত্রিশ লক্ষ শহীদের অবদান, লক্ষ লক্ষ নির্যাতিত মা-বোনের আত্মত্যাগ দেশ গঠনের একটা ভিত্তি তথা বুনিয়াদ হয়ে গেছে। তাই আমরা কখনো পরাজিত হবো না, বাঙালি কখনো পরাজিত হবে না। যদি হত তাহলে আমরা জলোচ্ছ্বাসের সময় ভেসে যেতে পারতাম। বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসেছে, কিন্তু আমরা জয়ী হয়েছি।


আমাদের দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কিন্তু ঠিকই গ্রহণ করেছে। আমরা কোভিডের টিকা নিতেও কোনো অস্বস্তিবোধ করিনি। পাশ্চাত্যের উন্নত দেশগুলোর অনেকে কোভিডের টিকা নেয়নি, উল্টো স্লোগান দিয়েছে। বাঙালি আধুনিকতাকে, প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে পারে। একই সঙ্গে কিছু মানুষ ভুল পথে হেঁটে জঙ্গী হয়। দেখুন- যার সন্তান জঙ্গী হয়, তার পিতামাতা বুকে কষ্ট চেপে বলে, যে অন্যকে হত্যা করে, সে আমাদের সন্তান হতে পারে না। সন্তানের প্রতি মায়া থাকলেও দেশ, সমাজের কথা ভেবে তারা সেটা প্রকাশ করে না। তারা বলে, জঙ্গী আমাদের সন্তান না। তারা সন্তানের লাশটাও গ্রহণ করে না। এটা অনেক বড় দৃষ্টান্ত।


বাংলাদেশকে অবনত, পদানত করা অসম্ভব বিষয়। আমাদের ভীষণ রকমের আত্মশক্তি আছে। আবার কিছু মানুষ অগণতান্ত্রিকতার পথও বেছে নেয়। কিছু কিছু শিক্ষিত অতি লোভী হয়ে বিত্তবান হতে চায়। কিন্তু আমাদের মূলধারা চমৎকার। বাংলাদেশে অসম্ভব রকমের ভালো করবে। আর স্বাধীনতার বীজ যেটি আমরা বলি সেটি হচ্ছে ঐক্যে।
ডিজিটালাইজেশনের যে উদ্ভাবন চলছে তার ভিত্তিতে যদি দক্ষ জনবল গড়ে তোলা যায়, তাহলে তারা দেশ বিদেশে ভালো করবে। আমাদের বিভিন্ন সেক্টরে কাজ থাকলেও অনেক সময় বিদেশিদের দিয়ে সেগুলো করাতে হয়। এ জায়গাগুলোতে আমারা দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিবেচনায় অসম্ভব রকমের ভালো করবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে আমরা গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সূচকে নিশ্চয়ই ভালো আছি। মিয়ানমারের শরনার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আমরা মানবিক এপ্রোচ দেখিয়েছি। এ জায়গায় আমাদের জন্য অনেক রিস্ক থাকলেও আমরা মানবিকতা দেখিয়েছি। আমরা বিত্তবান হতে চাই, সেটা আমাদের সংবিধানও বলে না। আমরা মানবিক, আদর্শনিষ্ঠ বাংলাদেশ দেখতে চাই। অনেকে মনে করেন এগুলো কথার কথা। আসলেই তা না। আমাদের রাষ্ট্র দর্শনে এটা আছে। আমি মনে করি, পাশ্চাত্যের আমাদের কাছ থেকে শেখার আছে। ১৯৭১ সালে ভারত আমাদের লাখো শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। আজকে আমরা লাখো লাখো শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছি। এটিই এই ভূ-অঞ্চলের শক্তি। এরপরেও যারা আমাদের শেখাতে চায়, তাদের বরং এখান থেকে শেখা উচিত। তারা কতটা পেরেছে? তাদের তো অনেক বেশি অর্থ-বিত্ত। সেসব দিয়ে আসলেই কি লাভ?



বিবার্তা: বিবার্তাকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।


অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান: আপনাকেও ধন্যবাদ। বিবার্তার জন্য শুভকামনা।


বিবার্তা/রাসেল/রোমেল/জেএইচ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com