‘লেখক হওয়ার ঝুঁকি প্রথমে নিজেকেই নিতে হয়’
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০১৭, ১৬:৫৯
‘লেখক হওয়ার ঝুঁকি প্রথমে নিজেকেই নিতে হয়’
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

‘আর কয়দিন পরেই বইমেলা শুরু হচ্ছে। বছরের এই সময়টার জন্য আমরা লেখক-প্রকাশক ও পাঠকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকি। এখন শখের লেখকের ছড়াছড়ি। রাতারাতি লেখক হয়ে যাচ্ছেন অনেকে। শখ করে অনেকে লেখালেখি করছেন। এতে করে বইয়ের সংখ্যা বাড়লেও সাহিত্যে তা খুব একটা অবদান রাখতে পারছে না। একজন লেখককে লেখক হতে হলে সময় নিয়ে, পত্র-পত্রিকায় লিখে, নিজেকে কিছুটা পরিচিত করে তবেই আসা উচিত। লেখক এগিয়ে যাবেন একটা একটা করে সিঁড়ি বেয়ে। লিফট বেয়ে হুটহাট ওপরে উঠতে চাইলে লিফটের মতই দ্রুত পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর লেখক হওয়ার পেছনে লেখকের নিজের অবদানটাই সবচেয়ে বেশি। ঝুঁকি প্রথমে নিজেকেই নিতে হয়।’


এমন মন্তব্য করেছেন এ সময়ের ব্যস্ত লেখক, কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার পলাশ মাহবুব। ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। মেলা ও তাঁর লেখালেখি প্রসঙ্গে বিবার্তার নিজস্ব প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তাঁর লেখালেখির গল্প।


বিবার্তা : লেখালেখিতে কেন এলেন?


পলাশ মাহবুব : আসলে প্রথমে লেখালেখিকে সহজভেবে এসেছিলাম। আসার পরে দেখি ঘটনা পুরো উল্টো। লেখালেখি কঠিনেরও কঠিন। কিন্তু ভালোবাসা যেহেতু হয়ে গেছে তাই ফেরার উপায় নেই। কঠিনেরেই ভালোবাসিলাম।



বিবার্তা : এবারের মেলায় কি কি বই আসছে আপনার?


পলাশ মাহবুব : নতুন বইয়ের সংখ্যা ৭-৮টি হবে। আর বেশ কয়েকটি বই পুনঃমুদ্রিত হবে। নতুন বইয়ের মধ্যে আছে কিশোর উপন্যাস ‘লজিক লাবু’। এটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী। টো টো কোম্পানি সিরিজের এবারের উপন্যাস ‘টো টো কোম্পানি ও বীরপ্রতীকের মেডেল’আসবে অন্বেষা থেকে। ছোটদের গল্পের বই ‘সূর্যমুখিরা দুইবোন’প্রকাশিত হবে অন্যপ্রকাশ থেকে। পাঞ্জেরী থেকে আসবে কিশোর গল্পের বই ‘তালা’এবং ছড়াগ্রন্থ ‘থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে’। তাম্রলিপি প্রকাশ করবে বড়দের গল্পের বই ‘রোমিওপ্যাথি’। অনিন্দ্য প্রকাশ বের করবে প্রেমাণুকাব্য সিরিজের দ্বিতীয় বই ‘প্রেমাণুকাব্য-২’।


পাশাপাশি ১৫ বছর আগে প্রকাশিত প্রেমাণুকাব্য-১ বইটিও অনিন্দ্য পুনঃমুদ্রণ করবে। এছাড়া কিশোর উপন্যাস ‘পিটি রতন সিটি খোকন’নতুনভাবে আসবে পাঞ্জেরী থেকে এবং কিশোর গল্পগ্রন্থ ‘বই খুললেই ভুত’পুনঃমুদ্রিত হচ্ছে অনিন্দ্য প্রকাশন থেকে।


বিবার্তা : আপনার প্রথম প্রকাশিত বইয়রে নাম কি? কত সালে প্রকাশিত হয়?


পলাশ মাহবুব : প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৭ বছর আগে। ২০০০ সালে। বইয়ের নাম ‘পিপিলিকার পাখা’। প্রকাশ করেছিল জাগৃতি প্রকাশন।



বিবার্তা : আপনার লেখালেখির পেছনে কার অবদান বেশি?


পলাশ মাহবুব : আমার ধারণা একজনের লেখক হওয়ার পেছনে তার নিজের অবদানটাই সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ কোনো বাবা-মা’ই প্রথম দিকে চান না সন্তান লেখালেখি করুক। এইম ইন লাইফ রচনায় লেখক হওয়ার বিষয়টি কখনো শেখানো হয় না। কারণ, আমাদের দেশে শুধুমাত্র লেখালেখি করে সম্মানজনক ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন এখনো সম্ভব না। এটি একটি অনিশ্চিত যাত্রা। সুতরাং আমার তো মনে হয় লেখক হওয়ার ঝুঁকি প্রথমে নিজেকেই নিতে হয়। আমিও তাই নিয়েছি। তবে এ পর্যন্ত আসার পেছনে বহু মানুষের সহযোগিতা, উৎসাহ, প্রেরণা আর ভালোবাসা ছিল। যা এখনো আছে। আশাকরি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


বিবার্তা : দেশের সাহিত্য নিয়ে আপনার মতামত জানতে চাই


পলাশ মাহবুব : সাহিত্য নিয়ে মন্তব্য করার মতো পর্যায়ে এখনো যেতে পারিনি। আর কিছু সময় যাক, এই প্রশ্নের উত্তর না হয় তখন দেয়া যাবে।


বিবার্তা : সাহিত্যের কোন শাখা নিয়ে আপনার লিখতে ভালো লাগে?


পলাশ মাহবুব : কবিতা ও প্রবন্ধ ছাড়া বাকি প্রায় সবকিছুই লেখা হয়েছে। তবে গল্প আর উপন্যাস লেখায় আগ্রহ বেশি। আর ছড়া অনেকটা সহজাত হয়ে গেছে।


বিবার্তা : একজন লেখক হিসেবে আপনি কেমন বইমলো প্রত্যাশা করেন?


পলাশ মাহবুব : দুর্দান্ত একটি বইমেলা প্রত্যাশা করি। যে মেলায় সবার হাতে হাতে থাকবে বই। লেখক আর পাঠকের মিথস্ক্রিয়ায় মুখর থাকবে মেলা প্রাঙ্গণ।



বিবার্তা : শুধু বইমলোকেন্দ্রিক বই প্রকাশনাকে আপনি কীভাবে দেখেন?


পলাশ মাহবুব : খারাপভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কারণ বইমেলা ছাড়া এখন নতুন বই খুব একটা প্রকাশিত হয় না। আমাদের পুরো প্রকশনা জগতটাই তো বইমেলাকেন্দ্রিক। তাছাড়া ব্যক্তিগতভাবে আমি শত ফুল ফুটতে দেয়ার পক্ষে। সব ফুলকেই যে সুবাস ছড়াতে হবে তাতো নয়।


বিবার্তা : লেখক ও প্রকাশকের সর্ম্পক কেমন হওয়া উচিত?


পলাশ মাহবুব : ভালো সম্পর্ক ছাড়া তো ভালো কিছু প্রত্যাশা করা যায় না। তবে লেখক-প্রকাশকের সম্পর্ক হতে হবে তারচেয়েও বেশি কিছু। তাদের দু’য়ের মধ্যে থাকা উচিত স্বপ্নময় একটি সম্পর্ক। ভালো কিছু করার এবং উপহার দেয়ার আন্তরিক সম্পর্ক।


বিবার্তা : নতুন লেখকদের জন্য আপনার পরার্মশ কী?


পলাশ মাহবুব : সেই পুরোনো পরামর্শ। লিখতে হলে পড়তে হবে।


বিবার্তা : আপনার পাঠকদের জন্য কিছু বলুন


পলাশ মাহবুব : আমার পাঠকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। অতি ভালোবাসা নিয়ে তারা আমাকে পাঠ করছেন। এই ঋণ শোধ করার সামর্থ্য আমার নেই। আমি পাঠকের ভালোবাসার ঋণ খেলাপি।


বিবার্তা : আপনার প্রিয় লেখকদের নাম বলবেন কি?


পলাশ মাহবুব : অনেক অনেক প্রিয় লেখক আমার। প্রতিনিয়ত সেখানে নতুন নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে। আমি মুগ্ধ হয়ে তাঁদের লেখা পড়ি। আর মনে মনে ভাবি, ইস! যদি তাঁদের মতো লিখতে পারতাম।


বিবার্তা : লেখালেখি নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?


পলাশ মাহবুব : পরিকল্পনা একটাই। লিখে যেতে চাই। লিখে যেতে চাই। লিখে যেতে চাই।


বিবার্তা/মৌসুমী


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com