দুই নেত্রীর মধ্যে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা অনেক বেশি : নিলু
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ১৬:৩৮
দুই নেত্রীর মধ্যে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা অনেক বেশি : নিলু
জাহিদ বিপ্লব
প্রিন্ট অ-অ+

ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে রাষ্ট্রপতির সংলাপ প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, এনপিপিসহ নয়টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে তিনি আমন্ত্রণ জানাননি, কিন্তু নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত নয় এমন দলকেও তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।


তিনি বিএনপি সম্পর্কে বলেন, বিএনপি ইজ এ কনফারেন্স পার্টি। আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্ট যেমন প্রতিদিন প্রেস ব্রিফিং করে, তেমনিভাবে বিএনপিরও দুই নেতা প্রতিদিন দুইবার প্রেস ব্রিফিং করেন।


শেখ শওকত হোসেন নিলু রবিবার বিকালে তার বিজয়নগর অফিসে বিবার্তার সাথে এক সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন।


বিবার্তা : দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনার বক্তব্য কী ?


নিলু : দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল। দেশের বেশিরভাগ মানুষ মনে করে জনগণ দ্বারা অনির্বাচিত সরকার অধিষ্ঠিত। অন্যদিকে জনগণের কাছে প্রধান বিরোধীদল ও বিরোধীনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভুলের পর ভুল সিদ্ধান্তে দেশ এক জটিল সংকটে নিপতিত হয়েছে। আবার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিকে দেশবাসী বিরোধীদল হিসেবে গণ্যই করে না। তিনিও দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারতেন, কিন্তু বিভিন্ন কারণে তার আকাঙ্ক্ষিত ভূমিকা থেকে তিনি বিচ্যুত। আর আমিসহ আমরা ওভাবে জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি নই।


বিবার্তা : আপনার দৃষ্টিতে বর্তমান সরকারের তিন বছরের সফলতা-ব্যর্থতা কী?


নিলু : সফলতা অনেক। সর্বপ্রথম যে সফলতা সেটা হলো বিনা যুদ্ধে ৬৮ বছরের পুঞ্জিভূত ছিটমহল সমস্যার সমাধান করে প্রধানমন্ত্রী দেশের মানচিত্র সম্প্রসারিত করতে সক্ষম হয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেনেডি বলেছিলেন, সমুদ্রসীমা বলতে কিছু নেই। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ সমুদ্রসীমায় দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে দেশকে উন্নততর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগে সফল হয়েছেন। তিনি সমুদ্র রক্ষার জন্য বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীকে সাবমেরিন যুগে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। চীনের সাথে ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক চুক্তি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক যুগান্তকারী সনদ।


অন্যদিকে, দেশে সুশাসনের অভাব, সর্বক্ষেত্রে দূর্নীতি এক মহামারীতে পরিণত হয়েছে। এটাই সরকারের বড় ব্যর্থতা।


বিবার্তা : আপনার দৃষ্টিতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন ?


নিলু : এককথায় বলতে গেলে, সন্তোষজনক নয়। খুন, গুম, সন্ত্রাস নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনের পত্রপত্রিকাই এর সবচেয়ে বড় সাক্ষী।


বিবার্তা : নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ কতটা সফল হবে বলে আপনার মনে হয় ?


নিলু : রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এই সংলাপ প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, এনপিপিসহ নয়টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে তিনি আমন্ত্রণ জানাননি। কিন্তু নিবন্ধিত নয় এমন দলকেও তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এ থেকে আমার কাছে মনে হয়েছে, তিনি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি জোটকে খুশি করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রপতিকে সাংবিধানিক কারণে মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্ত অনুসারে কাজ করতে হবে। এবিষয়ে বিএনপি নেতারা বটগাছে কাঁঠাল আশা করছেন, যা কখনোই বাস্তবায়ন হওয়া সম্ভব নয়। আমার মনে হয়, গভীর হতাশা থেকেই বিএনপি নেতাদের এই আচরণ।



বিবার্তা : বিএনপি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ণ কী?


নিলু : বিএনপি ইজ এ কনফারেন্স পার্টি। আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্ট যেমন প্রতিদিন প্রেস ব্রিফিং করে, তেমনিভাবে বিএনপিরও দুই নেতা প্রতিদিন দুইবার প্রেস ব্রিফিং করেন। এটা করে তারা রাজনীতিতে বেঁচে থাকার জানান দেন।


বিবার্তা : আপনি তো ২০দলীয় জোটের শীর্ষনেতা ছিলেন। অনেকে অভিযোগ করেন, আপনি সরকারের ইন্ধনে সেই জোট ছেড়েছেন...


নিলু : এটা ঠিক।


বিবার্তা : তাহলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সরকারী দলের সাথে জোটবদ্ধ হচ্ছেন আপনারা?


নিলু : না। সেরকম কোনো সম্ভাবনাই নেই। আমরা এককভাবে ৩০০ আসনেই নির্বাচন করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।


বিবার্তা : আগামী জাতীয় নির্বাচন কেমন হবে বলে আপনার মনে হয়?


নিলু : আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় থাকবে - এটা প্রায় নিশ্চিতভাবে বলা যেতে পারে। এখন পর্যন্তু দুই নেত্রীর মধ্যে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশিই বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়।


বিবার্তা : আপনার দল এনপিপি’র সাংগঠনিক অবস্থা কেমন?


নিলু : এ মাসে বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলন করেছি। ৪ ফেব্রুয়ারি খুলনা এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় সকল দলের শীর্ষনেতাদের উপস্থিতিতে জাতীয় সম্মেলন করে জাতিকে আমরা নতুন করে জানান দিতে চাই।


ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির (এনপিপি) সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ ছাত্রইউনিয়নের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। দায়িত্ব পান সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের। এরপর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হলে তাকে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে তিনি নিজেই গঠন করেন পিএনপি। এ দলের ব্যানারে তিনি এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনও করেন। ২০০২ সালে পিএনপি বিলুপ্ত করে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন নিলু। যোগদানের সাথে সাথেই তাকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়। ২০০৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে বের হয়ে আবারও পিএনপি গঠন করে যোগ দেন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৮দলীয় জোটে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে তার বক্তব্যে জোটেই তোপের মুখে পড়েন নিলু। পরবর্তীকালে হঠাৎ করেই খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জোট ছেড়ে দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।


ব্যক্তিগত জীবনে শেখ শওকত হোসেন নিলু দুই কন্যার জনক। তাদের একজন ব্যারিস্টার, আরেকজন ডাক্তার। তার স্ত্রী খায়রুন নাহার একটি এনজিওতে আছেন।


বিবার্তা/বিপ্লব/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com