আইন লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৯:১৪
আইন লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে ভারতের সাবেক নৌসেনা কর্মকর্তা কুলভূষণ যাদবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন পাকসেনা আদালত। পাকিস্তানের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আন্তর্জাতিক আদালতে যায় ভারত। দিল্লি দাবি করে, মিথ্যা মামলা সাজিয়ে ফাঁসানো হয়েছে কুলভূষণকে। তার কাছ থেকে জোর করে জবানবন্দি আদায় করেছে পাক সেনাবাহিনী।


আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবার রায় দিলেন ভারতের পক্ষে। বুধবার (১৭ জুলাই) ওই মামলার রায়ে জানানো হয়, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।


পাক সামরিক আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। ওই রায় পুনর্বিবেচনার আগ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি ভারতীয় কূটনীতিকদের কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে দেখা করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


১৬ সদস্যের বেঞ্চের ১৫ জন সদস্য ওই রায়ের পক্ষে ভোট দেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- আন্তর্জাতিক আদালতের ভাইস প্রেসিডেন্ট চীনা বিচারপতিও। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন কেবল পাকিস্তানি বিচারপতি তাসাদুক হুসেন জিলানি।


১৫ সদস্যের বেঞ্চে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি দলবীর ভাণ্ডারী থাকায় আনা হয় পাকিস্তানের সাবেক প্রধান বিচারপতি তাসাদুক হুসেন জিলানিকে। সেখানে আরো ছিলেন সোমালিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, স্লোভাকিয়া, জাপান, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, ফ্রান্স, উগান্ডা, জামাইকা, লেবানন, অস্ট্রেলিয়া এবং মরক্কোর প্রতিনিধিরা। তবে কুলভূষণকে মুক্তি দেয়া বা তাকে ভারতে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারতের আর্জি মানেননি আদালত।


২০১৬ সালের মার্চ মাসে ভারতীয় নৌসেনার সাবেক কর্মকর্তা কুলভূষণকে গ্রেফতার করে পাকবাহিনী। পাকিস্তান দাবি করে, বেলুচিস্তানে জঙ্গি কার্যকলাপে মদদ দেয়ার সময় কুলভূষণ গ্রেফতার হন। এরপর পাক সামরিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে ভারত পাল্টা দাবি করে, ইরানে কুলভূষণের ব্যবসা রয়েছে। তাকে সেখান থেকে অপহরণ করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।


ভারত ২০১৭ সালের ৮ মে কুলভূষণের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যায়। পরে কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ডে স্থগিতাদেশ দেন আন্তর্জাতিক আদালত। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুলওয়ামা হামলা পরবর্তী উত্তপ্ত পরিবেশে আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে এ মামলার শুনানি হয়।


ভারতের কৌঁসুলি হরিশ সালভে গণমাধ্যমকে জানান, ভিয়েনা সনদ লঙ্ঘন করে ভারতীয় কূটনীতিকদের কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি পাকিস্তান। পাশাপাশি পাক সামরিক আদালতের কাজের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।


মৃত্যুদণ্ড খারিজ করে কুলভূষণকে দেশে ফেরত পাঠানোর আর্জি জানান সালভে। তবে পাক কৌঁসুলি খাওর কুরেশি জানান, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার অধিকার নেই ভারতের। কুলভূষণ যাদব চরবৃত্তিতে যুক্ত ছিলেন বলেই ভারতীয় কূটনীতিকদের তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি।


রায়ের অংশ উদ্ধৃত করে কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, রায়কে স্বাগত জানাই। কিন্তু কুলভূষণের ফেরা নিশ্চিত হয়নি। পাকিস্তানের বেছে নেয়া মঞ্চে ফের তার বিচার হবে। তিনি ফের অবিচারের শিকার হতে পারেন।



বিবার্তা/রবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com