মুসলিম শিশুদের বিছিন্ন করার অভিযোগ অস্বীকার চীনের
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯, ১৫:১৯
মুসলিম শিশুদের বিছিন্ন করার অভিযোগ অস্বীকার চীনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

চীনের পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিম শিশুদেরকে কৌশলে তাদের মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত।


সম্প্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক শিশুর মা-বাবা হয় জেলে, না হয় ক্যাম্পে বন্দি আছেন। পাশাপাশি উইঘুর মুসলিম শিশুদের জন্য বোর্ডিং স্কুল তৈরির জন্য দেশটিতে ব্যাপক ভিত্তিতে একটি প্রচার কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।


সমালোচকেরা বলেন, শিশুদেরকে তাদের মুসলিম কমিউনিটি থেকে বিচ্ছিন্ন করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


তবে এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত লিউ জিয়াওমিং। বিবিসিকে রবিবার দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, শিশুদেরকে তাদের অভিভাবকদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে না। মোটেও না।


কিন্তু বিবিসি এর আগে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছে যে, জিনজিয়াংয়ের একটি এলাকাতেই ৪০০ এর বেশি শিশু মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।


চীনা কর্তৃপক্ষ বলছে, উগ্রবাদকে মোকাবেলা করতে উইঘুর সম্পদ্রায়ের সদস্যদের শিক্ষায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হচ্ছে।


কিন্তু বিভিন্ন তথ্য প্রমাণে দেখা যায় যে, এমনকি নিজের বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নামাজ পড়া বা হিজাব পড়া বা তুরস্কে কারো সাথে যোগাযোগ থাকার কারণেও অনেককে আটক করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।


মা-বাবাকে আটক করার পর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় যে শিশুটিকে সেন্ট্রালাইজ কেয়ার বা কেন্দ্রীয় পরিচর্যার আওতায় নেয়া হবে কিনা।


জিনজিয়াংয়ের স্থানীয় একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব শিশুর মা-বাবাকে আটক করা হয়েছে, তাদেরকে বোর্ডিং স্কুলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানেই শিশুদের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয় এবং এই শিশুদেরকে ভালোভাবে দেখ-ভাল করার নির্দেশ দেয়া হয়।


শিশুদেরকে মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন করার এই বিষয়টি নিয়ে বিবিসির হয়ে গবেষণা করেছেন ড. আদ্রিয়ান জেঞ্জ। তিনি বলেছেন, বোর্ডিং স্কুলগুলোতে মূলত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোকে সাংস্কৃতিকভাবে রি-ইঞ্জিনিয়ারিং বা নতুন করে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়।


তার মতে, বোর্ডিং স্কুলে রাখার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মূলত জিনজিয়াংয়ের সরকার এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করছে যারা নিজের ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বেড়ে উঠছে।


উইঘুর সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ তুরস্কে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে, কেউ নিজের পরিবারের সদস্যদের দেখতে আর কেউ-বা পাড়ি জমিয়েছেন ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে পালিয়ে বাঁচতে। সূত্র: বিবিসি


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

বি-৮, ইউরেকা হোমস, ২/এফ/১, 

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com