অর্থসাহায্য বন্ধ: ট্রাম্পকে একহাত নিলেন ইমরান
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৫৩
অর্থসাহায্য বন্ধ: ট্রাম্পকে একহাত নিলেন ইমরান
ইমরান খান ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

যুক্তরাষ্ট্রের শত শত কোটি ডলার অর্থসাহায্যের বিপরীতে পাকিস্তান কিছুই করেনি বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন তার তীব্র সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।


তিনি সোমবার ধারাবাহিক টুইট বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। শুধু তা-ই নয়, ইমরান জানিয়েছেন, সন্ত্রাস দমনে পাক সরকার এত দিন ঠিক কী কী করেছে, তার খতিয়ান তিনি ট্রাম্পের সামনে হাজির করবেন।


মার্কিন বিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিত ইমরান বলেন, ট্রাম্পের সুদীর্ঘ আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জবাব দিতে কিছু রেকর্ড তুলে ধরা প্রয়োজন। ওয়াশিংটনের কথিত সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে পাকিস্তান জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে গেছে।


তিনি তার টুইটার বার্তায় বলেন, ৯/১১ হামলায় কোনো পাকিস্তানি জড়িত না থাকা সত্ত্বেও ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এই যুদ্ধে ৭৫ হাজার পাকিস্তানি নিহত হয় এবং দেশটির আর্থিক ক্ষতি হয় ১২৩ বিলিয়ন ডলারের। অথচ যুক্তরাষ্ট্র কথিত সাহায্য দিয়েছে মাত্র ২০ বিলিয়ন ডলার।


তিনি আরো বলেন, আফগানিস্তানে এখনো মোতায়েন হাজার হাজার মার্কিন সেনার রসদ সরবরাহের জন্য এখনো পাকিস্তান তার স্থল ও আকাশসীমা খুলে রেখেছে। ইমরান প্রশ্ন করেন, ট্রাম্প কি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো বন্ধুরাষ্ট্রের নাম বলতে পারবেন যেটি এতবড় আত্মত্যাগ করেছে?


তিনি আরেক টুইটার বার্তায় আফগান যুদ্ধে ওয়াশিংটনের ব্যর্থতায় পাকিস্তানকে বলির পাঠা বানানোর জন্য ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেন।


ইমরান বলেন, তাদের ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তানকে বলির পাঠা বানানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আফগান যুদ্ধ পুনর্মূল্যায়ন করা। এই যুদ্ধে ন্যাটো জোটের এক লাখ ৪০ হাজার এবং আফগানিস্তানের আড়াই লাখ সৈন্যের পাশাপাশি কথিত এক ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। এরপরও বর্তমানে তালেবান অতীতের চেয়ে কেন বেশি শক্তিশালী তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।


গত বছর আগস্টে নয়া আগানিস্তান নীতি ঘোষণার সাথে সাথে পাকিস্তানকে এক হাত নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সন্ত্রাস দমনে উল্লেখযোগ্য ফলাফল দেখাতে না পারলে ইসলামাবাদকে দেয়া কয়েকশো কোটি ডলারের অনুদান দেয়া বন্ধ করে দেবেন বলে হুমকিও দিয়েছিলেন।


মার্কিন এক টিভি চ্যানেলকে রবিবার দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তান সরকারকে প্রতি বছর প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের অনুদান দেয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পাকিস্তান তো এত বছর ধরে আমাদের জন্য কিছুই করেনি।


আল-কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেয়ার জন্য পাকিস্তানকে দোষারোপ করে ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানকে বছরে ১৩০ কোটি ডলার আমরা দিতাম। আর বিন লাদেন সেই পাকিস্তানেই এক বিশাল ম্যানসনে অবস্থান করছিলেন! আমরা পাকিস্তানকে সাহায্য করতাম। যেটা এখন আর আমরা করছি না। আমি এটা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি তার কারণ আমাদের জন্য তারা কিছুই করেনি।


আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর হয়ে কাজ করা মার্কিন সেনাদের উপরে জঙ্গি হামলার দায়ও পাক সরকারের মদতপুষ্ট জঙ্গিদের উপরেই চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।


ট্রাম্পের এমন আচরণে চরম ক্ষুব্ধ ইসলামাবাদ। ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তানে সরকারের একাধিক মন্ত্রী।


ইমরানের ঘনিষ্ঠ মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রী শিরিন মাজারি টুইটারে সরাসরিই বলেছেন, ঐতিহাসিক স্মৃতিভ্রংশ রোগে ভুগছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন ড্রোন হামলায় একের পর এক বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর কথা বোধহয় ভুলে গেছেন ট্রাম্প।


তারাও যে দেশের নানা প্রান্তে একের পর এক জঙ্গি হামলার শিকার, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শিরিন।


মুখ খুলেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফও। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ আমরা রক্ত দিয়ে চুকিয়েছি, চোকাচ্ছি।


যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘বিশ্বাসঘাতকতা আর নিষেধাজ্ঞার বোঝা’ বলেও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। সূত্র: পার্সটুডে ও আনন্দবাজার পত্রিকা


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com