যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিণতি কী হতে পারে?
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ১০:৪০
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিণতি কী হতে পারে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমন খবর প্রকাশের পর এ প্রশ্ন উঠছে, এরপর যুবরাজের পরিণতি কি হতে পারে?


মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে, সিআইএ তাদের হাতে থাকা তথ্য-উপাত্তগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করেই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। অবশ্য এসব প্রমাণ যে শতভাগ নিশ্চিত তা কেউ বলছে না। কারণ মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এ ব্যাপারে বহু প্রশ্নেরই উত্তর এখনো অজানা। সৌদি আরব নিজেরাও এ ঘটনার একটি তদন্ত করছে।


বিবিসির বিশ্লেষক ফ্রাংক গার্ডনার বলছেন, তদন্তের ফল যাই হোক, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সুনামের ওপর ইতিমধ্যেই এর গুরুতর প্রতিক্রিয়া পড়েছে। এর ফলে যুবরাজ যিনি ‘এমবিএস’ নামেও পরিচিত তার কি পরিণতি হতে পারে?


খাসোগির খুনের ঘটনা কী ভাবে সৌদি আরবের ভেতরে যুবরাজের অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।


যুবরাজ সালমানের বয়স মাত্র ৩৩। তাকে দেখা হয় লাখ লাখ তরুণ সৌদির ভবিষ্যতের আশার প্রতীক হিসেবে। মনে করা হয় তিনি প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও সার্বিক প্রগতির মাধ্যমে সৌদি আরবকে একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে দেবেন।


তবে খাসোগির খুনের ঘটনার পর যুবরাজের সেই অবস্থান কি আর থাকবে?


সেদিনও পশ্চিমা দেশগুলোর নেতা থেকে শুরু করে হলিউড পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে প্রশংসিত হচ্ছিলেন প্রিন্স মোহাম্মদ। কিন্তু এখন অনেকেই গভীরভাবে সন্দেহ করছেন যে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে হয়তো তার হাত ছিল। এর ফলে সৌদি আরবের নেতৃত্ব ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর সবচাইতে গুরুতর রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছে।


কূটনৈতিক সংকট:


সৌদি আরবের সরকার এখন ইয়েমেনের যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছে। এতে দেশটিতে প্রাণহানি হয়েছে ব্যাপক, দেখা দিয়েছে গুরুতর মানবিক সংকট। ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের পরাভূত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও কিছুটা যুক্তরাজ্যের ওপর নির্ভরশীল সৌদি আরব।


প্রতিবেশী কাতারের সাথে বৈরিতার অবসান ঘটানোর জন্যও সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়ছে। কাতারে রয়েছে মার্কিন-নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের এক বিশাল ঘাঁটি, যা এ অঞ্চলে মার্কিন কৌশলগত স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘাঁটিতে ১৭টি দেশের লোক কাজ করে। তাই যুক্তরাষ্ট্র চায় কাতার-সৌদি বৈরিতার দ্রুত অবসান।


কি হতে পারে এমবিএসের?


বিবিসির বিশ্লেষক ফ্রাংক গার্ডনার বলছেন, সৌদি সরকার হয়তো এটা প্রকাশ্যে স্বীকার করবে না। কিন্তু এটা খুবই সম্ভব যে কোনোভাবে তার ডানা কেটে দেয়া হবে, অর্থৎ তার ক্ষমতা ও প্রভাব অন্তত কিছুটা খর্ব করা হবে।


মোহাম্মদ ‘যুবরাজ’ অর্থাৎ বর্তমান বাদশার উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন ২০১৭ সালের জুন মাসে।


গার্ডনার বলছেন, তাকে যদি তার পদ থেকে একেবারেই সরিয়ে দেয়া হয়, সেটা হবে খুবই নাটকীয় ও বিস্ময়কর। বরং মনে করা হচ্ছে, তার উপাধি ও মর্যাদা হয়তো অপরিবর্তিতই থাকবে। কারণ তিনি এখনো তার পিতা বাদশাহ সালমানের প্রিয় পুত্র।


তবে তার হাতে থাকা কিছু ক্ষমতা হয়তো অন্যদের হাতে তুলে দেয়া হবে। এর ফলে অনেকটা আগের মতোই ক্ষমতার ভাগাভাগির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে। এতে হয়তো দেশটিতে একটা স্থিতিশীলতা আসবে। এর ফলে যুবরাজ সালমানের শত্রু-সমালোচকের সংখ্যাও কমে আসতে পারে।


রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিযায় এমন আরো সৌদিদের নিয়ে আসা হবে। কারণ গত বছরের জুন মাস থেকে সৌদি আরবে কার্যত এক ব্যক্তির শাসন চলছে।


এদিকে খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ যে সরাসরি সৌদি যুবরাজের কাছ থেকে এসেছে, সেটি সিআইএ ধারণা করছে অংশত একটি ফোন কলের ভিত্তিতে। যুবরাজ সালমানের ভাই প্রিন্স খালেদ বিন সালমান ফোন করেছিলেন খাসোগিকে। যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত খালেদ।


যুবরাজের নির্দেশেই তিনি খাসোগিকে ফোন করে আশ্বাস দেন, তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে তিনি যেতে পারেন, তার কোনো বিপদ হবে না।


সিআইএ'র ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, তারা এর প্রমাণগুলো পরীক্ষা করে দেখেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, এমন একটি হত্যাকাণ্ড কেবলমাত্র যুবরাজের অনুমতি নিয়েই হতে পারে।


গার্ডনার বলছেন, হত্যাকাণ্ডের দিনে ঘাতক দলটি যুবরাজ সালমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে ফোন করেছিল বলে গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন। এসব তথ্য অত্যন্ত গুরুতর কিন্তু এতেও একেবারে নির্ভুলভাবে কিছু প্রমাণ হয় না।


এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হিদার নোযার্ট বলেছেন, মার্কিন সরকার এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে এমন ইঙ্গিত দিয়ে যেসব খবর প্রকাশ হয়েছে, সেগুলো সঠিক নয়। সূত্র: বিবিসি


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com