জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই: মিয়ানমার সেনাপ্রধান
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৫০
জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই: মিয়ানমার সেনাপ্রধান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাং বলেছেন, মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের কোনো অধিকার নেই জাতিসংঘের। কোনো দেশ, সংস্থা বা গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের বা দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই।


মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিচালিত দৈনিক পত্রিকা মিয়াওয়াদির বরাত দিয়ে সোমবার বার্তা সংস্থার এএফপি'র খবরে বলা হয়েছে, গত রবিবার সেনাদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণ তিনি এসব কথা বলেন।


রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিচারের জন্য জাতিসংঘের তদন্তকারীদের আহবানের এক সপ্তাহ পর এই মন্তব্য করলেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান। মিয়ানমারের মানবাধিকার নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই বিষয়ে এটাই তার প্রথম প্রতিক্রিয়া।


মিয়ানমারের সেনাপ্রধান বলেন, বিশ্বের একেক দেশের গণতন্ত্র চর্চার ধরন একেক রকম। একটি দেশ সেই ধরনের গণতন্ত্রের চর্চা করে, যা তার জন্য উপযুক্ত। সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারও স্বাধীন একটি পররাষ্ট্র নীতির চর্চা করে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ একটি অবস্থান বজায় রেখে চলে।


মিন অং হ্লাং বলেন, জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমার জাতিসংঘের যেসব চুক্তিতে সই করেছে, সেগুলো প্রতিপালন করে। প্রতিটি দেশ যেহেতু নিজের মত করে আলাদা মানদণ্ড ও আদর্শ নির্ধারণ করে, সেহেতু তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার বা তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কোনো দেশ, কোনো সংস্থা বা কোনো গোষ্ঠীর নেই।


প্রসঙ্গত, গত ২৭ আগস্ট এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা গণহত্যায় সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতার কথা তুলে ধরে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর সঙ্গে বেসামরিক কর্তৃপক্ষও এই গণহত্যায় ইন্ধন জুগিয়েছে। রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিও তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সহিংসতা থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন।


জাতিসংঘ জানায়, রাখাইনে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ নিয়ে মিয়ানমার সরকারের প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকারের মাত্রায় তারা অবাক হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা উচিত বলে মন্তব্য করা হয় প্রতিবেদনটিতে। সেখানে ছয়জন সেনা কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন সেনাপ্রধানও।


গত বছরের ২৫ আগস্ট নিরাপত্তা চৌকিতে আরসার হামলাকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের কারণ বলা হলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে এবং তাদের ফেরার সব পথ বন্ধ করতে আরসার হামলার আগে থেকেই পরিকল্পিত সেনা-অভিযান শুরু হয়েছিল। চলমান জাতিগত নিধনে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অন্তত সাড়ে ৭ লাখ মানুষ।


বিবার্তা/হাসান/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com