অস্ট্রেলিয়ায় টার্নবুল যেভাবে প্রধানমন্ত্রীত্ব হারালেন
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৩২
অস্ট্রেলিয়ায় টার্নবুল যেভাবে প্রধানমন্ত্রীত্ব হারালেন
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল পদত্যাগ করেছেন আর নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন স্কট মরিসন। কিন্তু কেন এবং কিভাবে প্রধানমন্ত্রীত্ব হারালেন তিনি??


অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক ভোটাভুটিতে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির অধিকাংশ পার্লামেন্টারিয়ান প্রধানমন্ত্রী ম্যালকমের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট দেন। একই দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনও করে পার্লমেন্ট। এতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডুটনকে ৪৫-৪০ ভোটে হারিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন স্কট মরিসন।


এর আগে মঙ্গলবারও টার্নবুলকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তবে সে দফা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত ভোটে ৪৮-৩৫ ভোটে রক্ষা পান তিনি। কিন্তু তাতেও ফাঁড়া কাটেনি তাঁর। দেখা গেলো, এর পরের কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী টার্নবুলের অপেক্ষাকৃত উদারপন্থি নীতির বিরোধিতা করে তাঁর পক্ষ ত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে আছেন অর্থমন্ত্রী ম্যাথিয়াস কোরমানসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য। এরা সবাই টার্নবুলের নেতৃত্বের বিরোধী।


এ অবস্থায় টার্নবুল বৃহস্পতিবারই বুঝে ফেলেন যে তার প্রধানমন্ত্রীত্ব আর ধরে রাখা যাবে না। তাই সেদিনই তিনি ঘোষণা দেন, নেতৃত্বের লড়াইয়ে তিনি আর অংশ নেবেন না, এমনকি পার্লামেন্টেও আর থাকবেন না।


পরদিন শুক্রবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে তাঁর বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। টার্নবুলের বিদায়ের পেছনে সবচাইতে বেশি কলকাঠি নেড়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডুটন।


টার্নবুলকে সরিয়ে দলের নতুন নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে ডুটনের প্রয়োজন ছিল ৪৩টি স্বাক্ষর। ডুটন সেটি করতে সমর্থ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় টানা চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিন বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই নিজের দলের সদস্যদের কাছেই ক্ষমতা হারালেন টার্নবুল।


ডুটনের ওপর ক্ষুব্ধ টার্নবুল বলেন, ‘‘অনেক অস্ট্রেলিয়ানই যা হচ্ছে তা দেখে অবিশ্বাসে মাথা নাড়ছেন।''


ডুটনের এমন কর্মকাণ্ডকে ‘পাগলামি' ও ‘প্রতিহিংসামূলক' বলে উল্লেখ করেন তিনি।


প্রায়-একই কথা বলেছে সিডনির ম্যাকোয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি- গবেষক গ্লেন কেফোর্ড। তাঁর মতে, '‘মেয়াদের মাঝামাঝি এসে নেতৃত্বের বদলকে স্বাভাবিকভাবে নেননি অস্ট্রেলিয়ার ভোটাররা। তাঁরা এই পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেন না।''


কেফোর্ড আরো বলেন, ‘‘ইতিহাস বলে, পরবর্তী নির্বাচন যখনই অনুষ্ঠিত হোক না কেন, সরকারে ফিরে আসা তাঁদের জন্য বেশ কঠিনই হবে।''


সূত্র : এপি/এএফপি/রয়টার্স


বিবার্তা/হুমায়ুন/কামরুল


<<অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন স্কট মরিসন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com