আপাতত রক্ষা পেল জার্মান সরকার
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৮, ১৬:৩২
আপাতত রক্ষা পেল জার্মান সরকার
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

অবশেষে শেষরক্ষা হলো। আপাতত জার্মানির জোট সরকার ও দুই রক্ষণশীল দলের জোট অস্তিত্বের সংকট থেকে রেহাই পেল। সোমবার রাতে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফার তাঁদের সংঘাত মিটিয়ে নিলেন। জার্মানির সীমান্তে অবৈধ শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর দাবিতে অটল থাকার পর বাভেরিয়ার সিএসইউ দলের নেতা সেহোফার শেষ পর্যন্ত এক আপস মীমাংসা মেনে নিলেন। তবে ‘ঐকমত্য' সত্ত্বেও ম্যার্কেল ও সেহোফার একসঙ্গে সাংবাদিকদের সামনে এলেন না।


সোমবারের বোঝাপড়ার আওতায় বাভেরিয়া-অস্ট্রিয়া সীমান্তে অবৈধ শরণার্থীদের কিছু অন্তর্বর্তীকালীন কেন্দ্রে আটক রাখা হবে। তারপর অস্ট্রিয়ার সম্মতি পেলে তাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, অস্ট্রিয়া আগেই জার্মানির সীমান্ত থেকে বিতাড়িত শরণার্থীদের গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। জার্মানিতে সোমবারের বোঝাপড়ার পরও অস্ট্রিয়া সীমান্তে সুরক্ষার উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ অবৈধ শরণার্থীদের শনাক্ত করে সীমান্তে এমন কেন্দ্রে আটক রাখলেও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ছাড়া তাদের সেই দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না, যেখানে তারা নিজেদের নথিভুক্ত করেছিল।


এমন ‘সমাধানসূত্র' গত কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক অস্থিরতা এই মুহূর্তে দূর করলেও আরও কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রথমত জার্মানির বর্তমান জোট সরকারে তিনটি শরিক দল রয়েছে। গত দুই সপ্তাহে ম্যার্কেল-সোহোফার বিরোধের সময়ে এসপিডি দল প্রায় নীরব ছিল। এবার সেই ‘সমাধানসূত্র' কার্যকর করতে হলে এসপিডি দলেরও সম্মতির প্রয়োজন। অথচ ২০১৫ সালে ঠিক একই প্রস্তাব নস্যাৎ করে দিয়েছিল এসপিডি। বর্তমান কোয়ালিশন চুক্তির মধ্যে এমন কোনো কর্মসূচির উল্লেখ না থাকায় তারা এই প্রস্তাব কার্যকর করতে বাধ্য নয়। সোমবার রাতে তিন দলের বৈঠকের পরে এসপিডি নেত্রী আন্দ্রেয়া নালেস বলেন, এখনো বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। দলের মধ্যে ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এসপিডি দল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরকারি জোটের বৈঠকে যোগ দেবে।


তাছাড়া সেহোফার এ যাত্রা নিজের মুখরক্ষা করতে পারলেও তাঁর সঙ্গে চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের ব্যক্তিগত সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। সোমবার দুপুরেও সেহোফার গর্জে উঠে বলেছিলেন, ‘‘যাকে আমি চ্যান্সেলর বানিয়েছি, সে-ই আমাকে বরখাস্ত করবে!'' এ রকম পরিস্থিতিতে সরকারের কার্যকালের বাকি সময়ে দুই নেতা কীভাবে একসঙ্গে কাজ করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। দুই নেতার এ ব্যক্তিগত সংঘাতের ফলে ইউনিয়ন শিবিরের দুই দল – ফেডারেল স্তরে সিডিইউ ও বাভেরিয়ার সিএসইউ পরস্পর থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। সেই ক্ষত আদৌ দূর করা সম্ভব কিনা, তাও স্পষ্ট নয়। সূত্র ডয়চে ভেলে


বিবার্তা/হুমায়ুন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com