রোহিঙ্গা নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা নেই মিয়ানমার-জাতিসংঘ চুক্তিতে
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৮, ১২:৪৮
রোহিঙ্গা নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা নেই মিয়ানমার-জাতিসংঘ চুক্তিতে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যাবে তাদেরকে সে সেদেশের নাগরিকত্ব দেয়া ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার কোনো নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি মিয়ানমার ও জাতিসংঘের মধ্যে গোপনে স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা স্মারকে।


আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ কথা জানিয়েছে। জাতিসংঘ ও মিয়ানমার কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি শুক্রবার রয়টার্স পর্যালোচনা করেছে। এছাড়া চুক্তির খসড়াও অনলাইনে ফাঁস হয়ে গেছে।


জাতিসংঘ জানিয়েছিল, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গা নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় যাতে ফিরে যেতে পারে সেজন্য মে মাসের শেষের দিকে মিয়ানমারের সাথে একটি চুক্তি হয়েছে। তবে ওই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি জাতিসংঘ।


আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করতে বাধ্য হয়। ওই সব বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও তাদের ফিরে যাওয়ার অধিকার আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল।


গত বছরের আগস্টের পর থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে তাদের আবাস ভূমি ছেড়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের সেনাসদস্যদের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের মুখে তারা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।


জাতিসংঘ ও মিয়ানমার কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইন ও নিয়ম মেনে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের অন্যান্য নাগরিকের মতো ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গারা চলাচলের স্বাধীনতা ভোগ করবে। তবে এতে রাখাইনের বাইরে রোহিঙ্গাদের চলাচলের স্বাধীনতার বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি।


এমনকি বর্তমানে রোহিঙ্গাদের স্বাধীন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার যে আইন ও নিয়ম রয়েছে সে বিষয়ে এতে কিছুই বলা হয়নি।


শরণার্থী নেতারা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এই চুক্তি।


মিয়ানমারে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক লরা হাই বলেন, বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরার অর্থ হচ্ছে, তারা এমন একটি বর্ণবিদ্বেষমূলক রাজ্যে ফিরছেন, যেখানে তারা মুক্তভাবে চলাফের করতে পারবেন না। এমনকি তাদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও কর্মস্থলে যাতায়াতের সুযোগ থাকবে না। এই অবস্থা পরিবর্তনের কোনো নিশ্চিয়তা এই নথিতে দেয়া হয়নি।


ফাঁস হওয়া নথির ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে জাতিসংঘের এক মুখপাত্র বলেছেন, তাদের নীতি হচ্ছে, ফাঁস হওয়া নথি নিয়ে কোনো মন্তব্য না করা।


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com