ভ্যাকসিন থাকলেও দ্রুত নাগরিকদের দিতে পারছে না কানাডা
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:২০
ভ্যাকসিন থাকলেও দ্রুত নাগরিকদের দিতে পারছে না কানাডা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানিয়েছেন, জানুয়ারির মধ্যে কানাডায় এক মিলিয়ন ডোজ টিকা এসে পৌঁছাবে। এর মাধ্যমে ৫ লাখ নাগরিককে জানুয়ারির মাঝেই টিকা দেয়া যাবে। তবে ভ্যাকসিন প্রয়োগে অন্টারিও অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল পার্টির নেতা স্টিভেন ডেল ডুকা। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় আইন প্রণেতারা ভ্যাকসিনেশন পরিকল্পনায় আরো স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন।


স্টিভেন ডেল ডুকা বলেন, ভ্যাকসিন হচ্ছে টানেলের শেষ প্রান্তের আলো। এটির প্রয়োগও যদি এক সপ্তাহ বিলম্ব হয়, তাহলে এর পরিণতি খারাপ হবে। আমাদের হাতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন থাকলেও প্রয়োগ হয়েছে খুবই কম। প্রয়োগে বিলম্বের পেছনে কোনো অজুহাতই গ্রহণযোগ্য হয়।


সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফাইজার-বায়োএনটেকের ৯০ হাজার ভ্যাকসিনের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১১ হাজার ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে। এই ধীর গতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা। তাদের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের ব্যক্তিরাও রয়েছেন।


একইসঙ্গে ছুটির দিনে ভ্যাকসিনেশনের গতি কম হওয়ায় সমালোচকদের তোপের মুখে পড়েছে অন্টারিও সরকার। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, অন্টারিওর ১৯টি ভ্যাকসিনেশন ক্লিনিকের মধ্যে রোববার খোলা ছিল পাঁচটি। ১০টি চালু ছিল সোমবার।


এ প্রসঙ্গে এনডিপি নেতা আন্দ্রিয়া হরওয়াথ এক বিবৃতিতে বলেছেন, দুই সপ্তাহ আগেই অন্টারিওতে ভ্যাকসিন পৌঁছে গেছে। কিন্তু সরকার সেগুলো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রয়োগ না করে, পরিবহনের উপায় খুঁজতেই হিমশিম খাচ্ছে।


ভ্যাকসিনেশনের ধীর গতির জন্য কর্মী স্বল্পতাকে দায়ী করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলেক্সান্দ্রা হিলকেন। তিনি বলেন, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ লং টার্ম কেয়ার হোম ও হাসপাতালে কর্মী সংকট তীব্র করে তুলেছে। এ কারণেই ছুটির দিনে কম ভ্যাকসিনেশন সেন্টার খোলা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলো।


কানাডায় আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয় ১৪ ডিসেম্বর। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ৮১ হাজার ৩২৮ জন। এর মাঝে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭ হাজার ৩৮৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬৫২ জন।


কানাডার প্রধান চারটি প্রদেশ অন্টারিও, বৃটিশ কলম্বিয়া, আলবার্টা, এবং কুইবেকে নাটকীয়ভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ কারণে হাসপাতাল ও নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ব্যাপক চাপ পড়ছে। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ সরকারি বিভিন্ন বিধিনিষেধ দেওয়া সত্ত্বেও করোনাভাইরাস কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।


বিবার্তা/এনকে

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com