বিহারে তীব্র দাবদাহে একদিনে ৪০ জনের মৃত্যু
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৯, ১২:২৮
বিহারে তীব্র দাবদাহে একদিনে ৪০ জনের মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ভারতের বিহার রাজ্যে তীব্র দাবদাহে একদিনে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি কম করেও ৩০ জন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্ক রয়েছে।


রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।


শনিবার রাজ্যটির আওরঙ্গাবাদ, গয়া ও নাওয়াদা জেলায় অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গরমে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে আওরঙ্গাবাদ জেলায়।এই জেলাতেই ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে আরো ৩০ জন। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা সঙ্কটজনক।


চিকিৎসকরা জানিয়েছে, জেলার পরিস্থিতি খুবই খারাপ। তাপপ্রবাহ চলছে। গরম সহ্য করতে না পেরে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। যাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তাদের অনেকের অবস্থা সঙ্কটজনক ছিল। ১৫ জনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের তরফে সব ব্যবস্থাই করা হয়েছে। কিন্তু দিনে দিনে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।


জেলার ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট কমিশনার ঘনশ্যাম মীনা জানান, প্রবল গরমের এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। মৃতদেহগুলোর ময়নাতদন্ত করা হবে। ফলে মৃত্যুর কারণ আরো পরিস্কার হবে।
আওরঙ্গাবাদের পরেই রয়েছে গয়া। সেখানে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।


গরমে বিহার এখন পুড়ছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে পাঁচ ডিগ্রির উপরে। শনিবারই বিহারের তাপমাত্রা ১০ বছরের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যায়।


রাজ্যের হাওয়া অফিস জানিয়েছে, ১৮ জুন অবধি এই অবস্থা চলবে। মধ্য ও দক্ষিণ বিহার, পাটনা, গয়াতে তাপপ্রবাহ জারি থাকবে। এই অবস্থায় রাজ্য সরকার ১৯ জুন অবধি গরমের ছুটি বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ ১৮ জুনের পর থেকে আবহাওয়ার খানিক উন্নতির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।


অপরদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার মৃতের পরিবারদের সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সাথে মৃতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা জানানো হয়েছে। যারা দরিদ্র সীমার নিচে তাদের শেষকৃত্যের জন্য ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এছাড়া মৃতের পরিবারদের চার লাখ রুপি দেয়া হবে।


এরমধ্যে বিহারে তীব্র এনসেফেলাইটিসেরও প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই রোগে চলতি মাসে রাজ্যটির মুজাফ্‌ফরপুর জেলায় ৭০টিরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরো ৮০ জন। তাদের মধ্যে ৪৪ জন শিশুকে সদ্য ভর্তি করা হয়েছে।


বিহারের ১২টি জেলার ২২২টি ব্লক অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিস সিন্ড্রোমে আক্রান্ত। মুজফ্‌ফরপুর ও লাগোয়া এলাকার অপরিণত লিচু খেয়েও ওই শিশুরা আক্রান্ত হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। অসুস্থদের শরীরে আচমকা শর্করার মাত্রা কমে যাচ্ছে। গায়ের তাপমাত্রাও অত্যাধিক বেশি রয়েছে। সূত্র: কলকাতা২৪/৭, এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকা


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

বি-৮, ইউরেকা হোমস, ২/এফ/১, 

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com