মোদীর দিন শেষ: মমতা
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৪১
মোদীর দিন শেষ: মমতা
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ভারতের কলকাতায় মোদীবিরোধী ঐক্যের প্রথম বৃহত্তম সমাবেশে লাখো মানুষের ঢল নামে। শনিবার ব্রিগেড সমাবেশের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘কে প্রধানমন্ত্রী হবে ভাবার কোনও দরকার নেই। নির্বাচনের পরে আমরা সবাই মিলে ঠিক করব, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন।’’ প্রধানমন্ত্রীকে তৃণমূল চেয়ারপার্সনের তীব্র কটাক্ষ, ‘‘মোদী সরকারের এক্সপায়ারি ডেট এসে গিয়েছে।’’


মজবুত বিরোধী ঐক্যের ডাক, দিল্লির মসনদ থেকে যে কোনও মূল্যে নরেন্দ্র মোদীকে সরানোর ডাক, বিপুল সমাবেশের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দনের বন্যা— ব্রিগেড সমাবেশে সব বক্তার কণ্ঠেই এ দিন ছিল একই সুর। বিপুল জনস্রোত দেখে সর্বাগ্রে উচ্ছ্বাসটা ব্যক্ত করলেন তরুণতম বক্তা তথা এ দিনের সমাবেশের প্রথম বক্তা হার্দিক পটেল। কিছুক্ষণ পরে ভিড়ের চেহারা দেখে একই রকম বিস্ময় ব্যক্ত করলেন আরএলডি প্রধান অজিত সিংহের ছেলে জয়ন্ত। পরে সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব বললেন, ‘‘যত দূর পর্যন্ত চোখ যাচ্ছে, দেখছি শুধু মাথা আর মাথা।’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা মেগা সমাবেশ এ ভাবেই চোখ ধাঁধিয়ে দিল জাতীয় রাজনীতির রথী-মহারথীদের। আর কোনও প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে এই প্রথম বার এত বড় কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের ডাক দিল।


সমাবেশে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ভারতের রাজনীতিতে আজকের দিনটি যথেষ্ট ঐতিহাসিক। গত পাঁচ বছরের মোদী-অমিত শাহের জোট দেশকে খারাপ অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। মোদী বেকারদের ভুল বুঝিয়ে ভোট নিয়েছেন। যুবকরা চাকরি পাচ্ছে না। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। দেশে দলিত অত্যাচার হচ্ছে। মুসলমানদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। গত ৭০ বছরে পাকিস্তান চেয়েছে দেশকে টুকরো টুকরো করতে। কিন্তু তা পারেনি। আর পাঁচ বছরে বিজেপি তা-ই করে দেখাচ্ছে। ওরা হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে লড়াই বাঁধিয়ে দিচ্ছে। মোদী ২০১৯ -এ আবার ক্ষমতায় এলে, দেশ টুকরো হয়ে যাবে। যে করেই হোক মোদী-অমিত শাহকে রুখতে হবে।


বিক্ষুব্ধ বিজেপি সংসদ সদস্য, বলিউড অভিনেতা শত্রুগণ সিনহা বলেন, আমি জানি আজকের সমাবেশে যোগ দেওয়ার পর আমাকে বহিষ্কার করা হবে। তাতে আমি ভয় পাই না। আমি সত্যের সঙ্গে আছি। এর থেকে বড় সমাবেশ আমি দেখিনি। এটা বেঙ্গল আর মমতার ক্রান্তিকারী ক্ষমতার জন্য সম্ভব হয়েছে। মমতার ডাকে দেশের সংবিধান রক্ষা করতে এবং দেশকে আগে বাড়ানোর জন্য আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি।


জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুখ আবদুল্লা বলেন, আজ আমরা সমাবেশ করছি, কালকে ওরা (বিজেপি) বলবে একজনকে সরানোর জন্য আমরা জোট বেঁধেছি। বিষয়টা একজনকে (মোদী) হটানোর নয়। এটা দেশ বাঁচানোর লড়াই। একটা চিন্তার পরিবর্তনের জন্য আমরা একজোট হয়েছি। জম্মু-কাশ্মীরে অবস্থা ভয়ানক। ওরা মনে করে মুসলমানরা ভারতীয় নয়। ওরা ভুলে যায় আমরাও এদেশেরই সন্তান। গোটা দেশে বিজেপিবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। এবার দেশে নতুন সরকার হবে।


সমাবেশে সবশেষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা ফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে সম্ভবত দেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, কলকাতার ব্রিগেড সব সময় ইতিহাস তৈরি করেছে। বাংলাদেশ হওয়ার পর প্রথম বিজয় উৎসব হয়েছিল এই ব্রিগেডে। ইন্দিরা-মুজিব মিলে সেই বিজয় উৎসব পালন করেছিলেন। ব্রিগেড সব সময় ইতিহাস তৈরির জন্য বিখ্যাত। দেশের প্রয়োজনে সবাই আমরা এক জায়গায় আসতে বাধ্য হয়েছি। মনে রাখবেন একটা শহর গুরুত্ব পায় না, কিন্তু অনেক শহর নিয়ে একটা দেশ তৈরি হয়।হাতে হাত মেলালেন মহাজোটের নেতারা, ছবি: বাংলানিউজ‘এখানেই গোটা ভারত আছে। ২৩টি পার্টি আজকের সমাবেশে যোগ দিয়েছে। মোদীর এক্সপেয়ার ডেট শেষ। ওষুধ কেনার সময় যে রকম আমরা এক্সপেয়ার ডেট দেখি, সেরকম মোদীর দিন শেষ। মনে রাখবেন বাংলার মাটি পবিত্র ঘাঁটি। এই মাটি স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ দেখিয়েছে, নবজাগরণের পথ দেখিয়েছে। ভারত যখন সমস্যায় পড়েছে, তখন বাংলাই পথ দেখিয়েছে।’


এই সরকার একে অপরের থেকে ভেঙে দিচ্ছে। একটা বিদ্বেষমূলক পলিটিক্স শুরু করেছে। ভারতে সব কিছুর ধস নামছে, আর বিজেপি বসগিরি দেখাচ্ছে। লুটের টাকায় তারা চলছে। তাদের সরকার পড়লে সব টের পাবে। কতো টাকা ছিল, আর ক্ষমতায় এসে কতো টাকা করেছে। তা আপনারাও জানেন। পার্টি অফিসগুলো এখন শপিংমলের সমান উন্নত। আপনার (মোদী) সঙ্গে থাকলে, সবাই ভালো আর না থাকলে সবাই চোর! ভয় দেখাচ্ছেন আমাদের! এনআরসির নাম করে আসামে মানুষ নিধন চলছে। নর্থ-ইস্ট নাগরিকত্ব বিলের নামে অত্যাচার চলছে- এমন ভাবেই মোদীর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মমতা।


মহাজোটের উদ্দেশে মমতা বলেন, এখান থেকে শুরু হলো। আপনারা কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী নিজ নিজ রাজ্যে প্রচার শুরু করুন, আমরা সবাই যাবো সেখানে। মোদীর উদ্দেশে বলেন, আচ্ছে দিনের অনেক সময় পেয়েছেন কিন্তু আনতে পারেননি। জোটের উদ্দেশে বলেন, অনেক হয়েছে আচ্ছে দিন। এবার দিল্লি বদলে দিন। আমার জন্মভূমি সকল দেশের রানি। এই ভূমিতে দাঙ্গা চাই না, বিদ্বেষ চাই না, ভেঙে যেতে দেবো না।


বিবার্তা/দানেশ/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com