ভারতে সমকামিতা আর অপরাধ নয়
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:০৯
ভারতে সমকামিতা আর অপরাধ নয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ভারতে সমকামিতা আর অপরাধ নয়। একমত হয়ে ঐতিহাসিক এই রায় দিলেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতি। ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের আগের রায়ের বিরুদ্ধে গেল এই রায়।


সমকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বর্ণনা করা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ব্রিটিশ আমলের এই বিতর্কিত আইনটির সুবাদে ‘অপ্রাকৃতিক যৌনতা’র অপরাধে ভারতে কোনো ব্যক্তির ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারতো।


১৮৬১ সালের জারি করা ধারাটি ২০০৯ সালে সমকামিতা অপরাধ নয় বলে রায় দিয়েছিল দিল্লির হাইকোর্ট। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০১৩ সালে ওই আইনটি বহাল করেছিল সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ। আজ বৃহস্পতিবার সেই আদেশ বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।


একই সাথে ব্রিটিশ আমলের পুরনো আইনটিকে অযৌক্তিক বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ। এই বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি রোহিনটন নরিম্যান, এ এম খানবিলকর, ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও ইন্দু মালহোত্র।


রায় ঘোষণার পর প্রধান বিচারপতি বলেছেন, পুরনো ধ্যানধারণাকে বিদায় জানিয়ে সব নাগরিককে সমান অধিকার আমাদের দিতে হবে। ব্যক্তিগত পছন্দ স্বাধীনতার অন্যতম শর্ত। ভারতীয় সংবিধানে এলজিবিটি গোষ্ঠীর সদস্যরা বাকিদের মতো একই অধিকার পাওয়ার যোগ্য।


রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে অধিকার কর্মীরা উল্লাস করে ওঠেন। তাদের অনেককে কাঁদতে দেখা যায়। তারা এই রায়কে যুগান্তকারী বলে মনে করছেন।


ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারার বিরুদ্ধে প্রথম আপত্তি জানায় স্বে‌চ্ছাসেবী সংস্থা নাজ ফাউন্ডেশন। ২০০১ সালে দিল্লি হাইকোর্টে ওই ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে তারা। ২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্ট রায় দেয়, সম্মতির ভিত্তিতে দুই প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে যৌন সম্পর্ক অপরাধ নয়। তাদের যৌন সম্পর্ক এ ক্ষেত্রে বিবেচনাযোগ্য বিষয়ই নয়। কারণ যৌন পছন্দ যা-ই হোক না কেন, দুই প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে যৌন সম্পর্কে আপত্তি জানালে ব্যক্তিপরিসরের অধিকারকে লঙ্ঘন করা হয়।


এই রায়ের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে যান একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠন। ২০১৩ সালে দিল্লি হাইকোর্টের রায় খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ৩৭৭ ধারার সাংবিধানিক বৈধতা আছে। সমকামিতাকে অপরাধের তকমামুক্ত করতে গেলে পার্লামেন্টে আইন পাশ করতে হবে।


নতুন রিট আবেদন পেশ করে ফের আইনি লড়াই শুরু হয়। ২০১৩ সালের রায় বিবেচনা না করে ৩৭৭ ধারার সাংবিধানিক বৈধতা ফের সামগ্রিকভাবে বিচার করে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় শীর্ষ আদালত।


এর আগের শুনানিতে ৩৭৭ ধারা নিয়ে সিদ্ধান্তের ভার সুপ্রিম কোর্টের উপরেই ছেড়ে দিয়েছিল কেন্দ্র। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা ও বিবিসি


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com