শীতে সতর্কতা : ধারণা ও বাস্তবতা
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৬
শীতে সতর্কতা : ধারণা ও বাস্তবতা
মাহবুবা চৌধুরী
প্রিন্ট অ-অ+

নিয়মিত ব্যায়াম করা প্রত্যেকের জন্য জরুরি। কিন্তু অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে যে শীতকালে হাঁটা, চলা, দৌড়ানো, ব্যায়াম ইত্যাদি করলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। ঠাণ্ডায় কাঁপুনির ফলে অনেক ক্যালরি বার্ন হয়, তাই শীতে ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই।


সঠিক তথ্য হলো - যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁরা যদি শীতকালে ব্যায়াম বন্ধ রাখেন, তাহলে দেহের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে নানা সমস্যা হতে পারে। এ সময় ঠাণ্ডা্র কারণে বাইরে হাঁটাচলা করা কিছুটা কঠিন, তাই ঘরে ভেতরে শরীরচর্চা করা যেতে পারে; বিশেষ করে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, ব্যাডমিন্টন খেলতে পারেন। পাশাপাশি বাড়িঘরের কিছু কাজ যেমন, ঘরদোর পরিষ্কার করা বা গোছানো, বাগান করা ইত্যাদি সাধ্যমতো করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ার পাশাপাশি শীতকালীন রোগবালাই থেকেও রক্ষা পাবেন। যাঁদের অ্যাজমা, হৃদরোগ ইত্যাদি রয়েছে, তাঁরা যোগব্যায়াম করতে পারেন।


ঠাণ্ডার ভয়ে দুধ-দই বেশি না খাওয়া


প্রচলিত ধারণা, শীতকালে দুধ ও দইজাতীয় খাবার খেলে ঠাণ্ডাজনিত রোগ যেমন সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি বেড়ে যাবে। তাই এ ধরনের খাবার খাওয়া যাবে না। অথচ দুধে রয়েছে ভিটামিন ‘ডি’, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস। রোদ হলো ভিটামিন ‘ডি’র প্রধান উৎস, আর এই রোদের সংস্পর্শে দেহে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি হয়। শীতকালে রোদের তেজ কম থাকে, ফলে মানবদেহে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরিতে ঘাটতি দেখা দেয় এবং ক্যালসিয়াম শোষণ ঠিকমতো হয় না। ফলে মানবদেহের হাড় দুর্বল, দাঁত ও মাংসপেশির কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। তাই গরম দুধের সঙ্গে যদি এক চিমটি হলুদ ও মধু মিশিয়ে পান করা হয়, তাহলে কাশি হলে গলায় যে মিউকাস বেড়ে যায় তা রোধ হবে। এ ছাড়া দইয়ের মধ্যে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা রোধে সাহায্য করে। তবে যাঁদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, তাঁরা দুগ্ধজাতীয় খাদ্য পরিহার করবেন।


টকজাতীয় খাবার বর্জন করা


টকজাতীয় খাবার যেমন - কমলা, আমলকী, আমড়া, লেবু ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ ও খনিজ লবণ রয়েছে, যা আমাদের দেহে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়; বিশেষ করে শীতকালে সর্দি-কাশি, ফ্লু, ভাইরাস জ্বর রোধে ভিটামিন ‘সি’র ভূমিকা অপরিসীম। তবে অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে যে শীতকালে টকজাতীয় খাবার খেলে সর্দি-কাশি বেড়ে যাবে। কিন্তু অ্যাজমা ও কাশির সমস্যায় ভিটামিন ‘সি’ তাত্ক্ষণিক কাজ করে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের নালি খুলে দেয়ার কাজে সাহায্য করে, হজমে সহায়তা করে। এজন্য শীতকালে খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।


কম পরিমাণ পানি পান করা


পানি শরীরের আর্দ্রতা রক্ষা করে। শীতের শুরুতে ও শেষের দিকে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দেয়। এ সময় চারদিকের বাতাসের শুষ্কতায় শরীর ও ত্বক বেশ শুকিয়ে যায়। তাই বেশি করে পানি পান করলে ত্বক ভেতর থেকে হাইড্রেড থাকে। তবে ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে সবার পানি পান করার প্রবণতা কমে যায়। আবার অনেকে মনে করেন, শীতকালে শরীর থেকে তেমন ঘাম বের হয় না, তাই বেশি পানি পান করার প্রয়োজন নেই। আর এই ভুল ধারণার কারণে গরমের দিনের চেয়ে শীতকালে প্রস্রাবের সংক্রমণ বেশি হয়। কারণ কম পানি পান করার ফলে রেনাল সিস্টেমের ওপর চাপ পড়ে এবং শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থগুলো ঠিকভাবে বের হতে পারে না, বিশেষ করে সর্দি-কাশিতে গলা শুকনো থাকলে গলায় মিউকাস বেড়ে যায় এবং খুসখুসে ভাব হয়। তাই কম নয়, বরং শীতে বেশি পানি পান করতে হবে। পানি খুব ঠাণ্ডা হলে হালকা গরম করা যেতে পারে। পাশাপাশি ফলের রস, চা, কফি ইত্যাদি পান করলে দেহের পানির চাহিদা মিটবে এবং শরীর সতেজ থাকবে। তাই দৈনিক কমপক্ষে সাত-আট গ্লাস পানি পান করুন।


লেখক : পুষ্টিবিদ, ডায়েট প্লানেট বাংলাদেশ


বিবার্তা/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com