অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার
২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে ৩০ কোটি লোকের মৃত্যু হতে পারে
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:১৫
২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে ৩০ কোটি লোকের মৃত্যু হতে পারে
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

অকারণে ও অতিরিক্ত ডোজে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স পাওয়ার তৈরি হওয়ায় ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি লোক মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকবে।


ঢাকায় শনিবার অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই আশংকা ব্যক্ত করে বলেন, জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক অতিরিক্ত মাত্রায় মানুষ ও প্রাণী স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং প্রাণীখাদ্য ও খামারের উৎপাদন বাড়াতে ব্যবহৃত হয়।


তারা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে গবাদিপশু ও কৃষি পণ্যের উৎপাদন, যা জুনোটিক প্যাথোজেন্স সৃষ্টির প্রধান ক্ষেত্র। এর ফলে এখানে সংক্রামক ব্যাধির সৃষ্টি হচ্ছে। যা থেকে মানবস্বাস্থ্য রক্ষায় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স পাওয়ারের ভুমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


ওয়ান হেলথ বাংলাদেশ আইসিডিডিআরবি, পশুসম্পদ বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আরো কতিপয় সংস্থার সহযোগিতায় আইসিডিডিআরবিতে এই সেমিনারের আয়োজন করে।


সেমিনারে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহের সরকারগুলোকে আইন প্রণয়ন ও তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করে অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার রোধ করতে হবে। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও ব্যবহার সীমিত করে আনতে হবে।


একইসাথে তারা আরো বলেন, এ ধরনের ওষুধের অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত ব্যবহারে চিকিৎসকদের প্রভাবিত করার ব্যাপক বিক্রয় প্রচারণা বন্ধে ওষুধ কোম্পানি ও চিকিৎসকদের ওপর কঠোর নজরদারি করা প্রয়োজন।


মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রাইসুল আলম মন্ডল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পশুসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. হিরেশ রঞ্জন ভৌমিক।


সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ান হেলথের সিনিয়র কারিগরি উপদেষ্টা ও পশু চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ডা. নিশিথ সি দেবনাথ। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে ডেপুটি এফএও প্রতিনিধি ডেভিড ডোলান ও আইসিডিডিআরবির সংক্রামক রোগ বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর অধ্যাপক এলেন রোস।


বাংলাদেশে এফএও-ইসিটিএডি টিম লিডার ডা. এরিক ব্রুম ও ‘এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্স : ট্রাইপেট্রিয়েল এফোর্ট টু কম্বেট’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।


এছাড়া বাংলাদেশ সেন্টার ফর কম্যুনিকেশন প্রোগ্রাম (বিসিসিপি) ‘আউট ব্রেক কম্যুনিকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করে।


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com