হেঁচকি হতে পারে ৮ রোগের লক্ষণ
প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৮, ১৬:৩০
হেঁচকি হতে পারে ৮ রোগের লক্ষণ
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

অনবরত হেঁচকি হচ্ছে? বেশ বিরক্তিকর একটি ব্যাপার বার বার হেঁচকি হওয়াটা। আর এই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েননি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে হেঁচকি কিন্তু ভয়ংকর রোগগুলোর হওয়ার প্রথম লক্ষণ, জানেন কি?


হেঁচকি কেন হয় বিজ্ঞানীদের কাছে তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে, দ্রুত খেতে চেষ্টা করলে, অনেক গরম ও মসলাদার খাবার খেলে, গরম খাবারের সঙ্গে খুব ঠাণ্ডা পানি বা পানীয় পান করতে শুরু করলে, অনেকক্ষণ ধরে হাসলে বা কাঁদলে হেঁচকি হতে পারে। মাঝেমাঝে যেকোনো মানুষের হেঁচকি ওঠতে পারে। ডায়াফ্রাম ও রেসপিরেটরি অর্গান হঠাৎ অনৈচ্ছিক স্প্যাজমের মুখোমুখি হলে হেঁচকি ওঠে।


টেক্সাস এ অ্যান্ড এম হেলথ সায়েন্স সেন্টার কলেজ অব মেডিসিনের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক টিমোথি প্যানার বলেন, ‘পেটকে ফাঁপা করে এমন যেকোনো কিছু হেঁচকি ওঠার কারণ হতে পারে।’ সাধারণত একটি সংক্ষিপ্ত পিরিয়ডে অনেকগুলো হেঁচকি ওঠে এবং তারপর নিজে নিজে চলে যায়।


কিন্তু ডা. প্যানার সতর্ক করেন যে, হেঁচকি দীর্ঘস্থায়ী হলে অথবা অস্বাভাবিকভাবে হেঁচকি ওঠলে তা মারাত্মক কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে।


৮টি বড় রোগের লক্ষণ হিসেবে প্রথমেই হেঁচকি ওঠতে পারে।


অ্যাসিড রিফ্লাক্স ডিজিজ


অ্যাসিড রিফ্লাক্স ডিজিজের উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হচ্ছে বুকজ্বালা, তিক্ত স্বাদের অ্যাসিড ওগরানো ও বমিবমি ভাব। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে হেঁচকি দূর হতে চায় না তাও জিইআরডি বা গ্যাস্ট্রোএসোফ্যাজিয়েল রিফ্লাক্স ডিজিজের একটি উপসর্গ হতে পারে। যদি হেঁচকি লেগে থাকে, আপনার অ্যাসিড রিফ্লাক্স ডিজিজ আছে কিনা তা জানতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। এ রোগ আপনার জীবনধারা, পাকস্থলীর স্বাস্থ্য ও খাদ্যনালীর স্বাস্থ্যকে বিপর্যস্ত করতে পারে।


মানসিক চাপ


হেঁচকি আপনাকে সতর্ক করছে যে, আপনার নিজের জন্য কিছু সময় ব্যয় করা প্রয়োজন। মায়ো ক্লিনিক মানসিক চাপকে হেঁচকি ওঠার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাই যদি আপনার বর্ধিত স্ট্রেস বা মানসিক চাপের সঙ্গে হেঁচকি ওঠে, তাহলে অন্তরজগতের শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য মেডিটেশন বা এক্সারসাইজ করুন অথবা সুন্দর পরিবেশে সময় কাটান।


ক্যানসার হয়েছে


হেঁচকি কয়েক প্রকার ক্যানসারের উপস্থিতি নির্দেশ করতে পারে, যেমন- মস্তিষ্ক, পাকস্থলী ও লসিকাগ্রন্থিতে ক্যানসার। ডা. প্যানার বলেন, ‘কিছু রোগীর ক্ষেত্রে হেঁচকি ৩০ দিনের বেশি সময় স্থায়ী হলে তা উপরোক্ত ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হতে পারে।’ হেঁচকি দীর্ঘসময় লেগে থাকার মানে হতে পারে আপনার শরীরের অভ্যন্তরে কোনো মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এত বেশি ভেঙ্গে পড়বেন না- বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, হেঁচকি খুব বিরলক্ষেত্রে কোনো ক্যানসারের একটি লক্ষণ হতে পারে।


স্ট্রোক হতে যাচ্ছে


ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি ওয়েক্সনার মেডিক্যাল সেন্টার দ্বারা প্রকাশিত একটি জাতীয় জরিপ থেকে জানা যায়, অধিকাংশ নারী জানে না যে হেঁচকি স্ট্রোকের একটি লক্ষণ হতে পারে। যে ১,০০০ নারীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ জানে যে স্ট্রোকের সাধারণ উপসর্গ ছাড়াও অস্বাভাবিক বুকব্যথার সঙ্গে হেঁচকি নারীদের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের সতর্কীকরণ পূর্বলক্ষণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশন হেঁচকির সঙ্গে বমিবমি ভাব, মাথা ঘোরা ও সাধারণ দুর্বলতাকে স্ট্রোকের কিছু অনন্য উপসর্গ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, যা নারীদের মধ্যে প্রকাশ পেতে পারে।


হার্ট অ্যাটাক হতে যাচ্ছে


যদি আপনার হেঁচকি কয়েকদিন পরও চলে না যায়, তাহলে আপনার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত সেন্ট লুক’স-রুজভেল্ট হসপিটালের চিকিৎসক জোশ ড্যাভেনপোর্ট ৬৮ বছর বয়স্ক এক লোকের কথা স্মরণ করেন, যার টানা চারদিন হেঁচকি উঠেছিলো। তার ডায়াবেটিস ও ধূমপানের অভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত জটিলতা ও ক্যানসার খুঁজে না পাওয়ার পর ডা. ড্যাভেনপোর্ট লোকটিকে ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম করতে বলেন- হেঁচকি ও হার্ট অ্যাটাকের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ক অতীতের একটি মেডিক্যাল ঘটনা থেকে তিনি এ সিদ্ধান্তটি নেন। ফলাফল ইঙ্গিত করেছে যে লোকটির হার্ট অ্যাটাক হতে যাচ্ছিল, যদিও হার্ট অ্যাটাকের কোনো সাধারণ লক্ষণ (যেমন- ঘামানো, দুর্বলতা অথবা বুকব্যথা) প্রকাশ পায়নি। ডা. ড্যাভেনপোর্ট সতর্ক করেন, হেঁচকি বিরলক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে।


নিউমোনিয়া হয়েছে


মার্ক ম্যানুয়াল অব ডায়াগনোসিস অ্যান্ড থেরাপি অনুসারে, দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকি নিউমোনিয়ার একটি নির্দেশক হতে পারে। আপনার নিউমোনিয়ার অন্যান্য উপসর্গ যেমন- বুকব্যথা, ঠাণ্ডা শরীর, জ্বর ও সম্ভবত শ্বাসকষ্টের সঙ্গে হেঁচকিও ওঠতে পারে। আপনার নিউমোনিয়া হয়েছে কিনা তা নির্ণয় করতে চিকিৎসক আপনার বুকের এক্স-রে নিতে পারেন।


কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ


নিউরোমায়েলিটাইস অপটিকা স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারের (এনএমওএসডি) একটি উপসর্গ হচ্ছে, দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকি। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের এই ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ বা প্রদাহ জনিত রোগের অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে বমি, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস ও বমিবমি ভাব উল্লেখযোগ্য। এ রোগে ব্রেইন, ব্রেইন স্টেম, অপটিক নার্ভ ও স্পাইনাল কর্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এনএমওএসডি’র অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে হেঁচকি ওঠলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে ভুলবেন না।


কিডনির কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে


যদি আপনার ক্রনিক কিডনি ডিজিজ থাকে এবং ঘনঘন হেঁচকি ওঠে, তাহলে তা নির্দেশ করতে পারে যে আপনার কিডনির অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। হেঁচকির সঙ্গে হাড়ে ব্যথা, শ্বাসের অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ অথবা পেশীর ঝাঁকুনি এরকম অবনতির লক্ষণ হতে পারে। যেহেতু কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে আবর্জনা ও অতিরিক্ত পানি অপসারিত হয়, তাই এটির কার্যক্রম কার্যকরভাবে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। হেঁচকির সঙ্গে এসব উপসর্গ ইঙ্গিত দিতে পারে যে আপনার কিডনি মারাত্মক সমস্যায় আছে, তখন ডায়ালাইসিসের মতো অপশন প্রয়োজন হতে পারে। সূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com