দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:৩০
দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সুস্বাস্থের জন্য দরকার পরিমিত ঘুম। খুব কম অথবা খুব বেশি সময় ঘুমানো ঠিক নয়। সব বয়সের মানুষের সমান ঘুম প্রয়োজন নেই। আরো অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে মানুষের ঘুমের প্রয়োজনীয়তা। যারা রাতে দেরি করে ঘুমাতে যান এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন তাদের অকালে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।


যুক্তরাজ্যের ৪ লাখ ৩৩ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায়সকালে তাড়াতাড়ি ওঠা ব্যক্তিদের চেয়ে রাতজাগা মানুষের অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা ১০ শতাংশ বেশি। গবেষণায় দেখা যায় দেরি করে ঘুম থেকে ওঠারকারণে বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক জটিলতার শিকার হতে হয়। রাত জাগার অভ্যাস বদলাতে রাতের বেলা মোবাইল ও ল্যাপটপের ব্যবহারকমাতে হবে।


বিজ্ঞানীরা এ সংক্রান্ত গবেষণার জন্য চার ধরণের মানুষকে বেছে নিয়েছেন।যারা প্রতিদিন নিয়মিত সকালে ওঠেন, যারা মাঝে মাঝে সকালে ওঠেন,যারা মাঝে মাঝে দেরি করে ঘুমান এবং যারা প্রতিরাতে নিয়মিত রাতজাগেন। এই চারটি ক্যাটাগরিতে থাকা অংশগ্রহণকারীদের বয়স ৩৮ থেকে৭৩ বছরের মধ্যে।


পরে এই গবেষণাপত্রটি আন্তর্জাতিক ক্রোনবায়োলজি জার্নালে প্রকাশ করাহয়। সেখানে দেখা যায় যে ব্যক্তি নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে ওঠেন তার গড় আয়ু রাতজাগা ব্যক্তিদের থেকে সাড়ে ছয় বছর বেশি।সঠিক সময়ে ঘুম ও জেগে ওঠার অভ্যাস সুস্থতার প্রতীক। তবে এর সঙ্গেব্যক্তির বয়স, লিঙ্গ, গোত্র, ওজন, আর্থসামাজিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস,লাইফস্টাইল ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় জড়িত। এই সবগুলো বিষয়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেব শেষেই দেখা যায়, সকাল বেলায় যারা ঘুম থেকে ওঠেন, তাদের অকাল মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম। আর যাদের জীবনযাপন অনিয়মে চলে তাদের এই ঝুঁকি বাড়তেই থাকে।


রাত জাগার বদভ্যাস যারা গড়ে তুলেছেন তাদের ৯০ শতাংশ বিভিন্নমানসিক ব্যাধির শিকার হন। ৩০ শতাংশের থাকে ডায়বেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। এছাড়া স্নায়বিক সমস্যা থেকে শুরু করে অন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।


সুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রোনোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ম্যালকম ভনেরমতে, রাত জাগার এই সমস্যা বর্তমানে জনস্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিয়েছে, যাএড়িয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। এই সমস্যা দূর করতে অর্থাৎ সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সঙ্গে দেহঘড়ির সামঞ্জস্য ঘটাতে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে এবিষয়ে আরো গভীর গবেষণার প্রয়োজন বলে জানান তিনি।


নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপকক্রিস্টেন নুটসন জানান, অবেলায় খাওয়া দাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব,ব্যয়াম না করা, রাতে ঘুম থেকে ওঠা বা মাদক সেবন এ ধরণেরবদভ্যাসের পেছনে প্রধান কারণ দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ। এমন বিভিন্ন অনিয়মের ফলে মানুষের ঘুমের সময় ওলট পালট হয়ে যায় বলে জানানতিনি।


সুস্বাস্থ্যের জন্য আট ঘণ্টা ঘুম কতটা জরুরী?
শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ জৈব প্রক্রিয়া বা দেহঘড়ির পরিচালনা নির্ভরকরে জিনের বৈশিষ্টের ওপর। বাকিটা তার বয়স ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশেরওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আবারকয়েকটি ক্ষেত্রে চাইলেই পরিবর্তন আনা সম্ভব।


জীবনযাপনকে কিছু নিয়মের মধ্যে আনতে অনুসরণ করুন এই টিপসগুলো:


১. আপনার শোবার জায়গাটা এমন হতে হবে যেখানে সূর্যের আলোসহজেই পৌছায় কিন্তু রাতের বেলা অন্ধকার থাকে।


২. প্রতিরাতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যাওয়া এবং সেটা যেন খুবদেরিতে না হয়।


৩. সুস্থ লাইফস্টাইলের জন্য যে অভ্যাসগুলো গড়ে তোলা প্রয়োজনসেগুলো আয়ত্বে আনতে নিজের প্রতি কঠোর হওয়া। ঘুমের সময়ের সঙ্গেকোন অবস্থাতেই আপোষ করা যাবেনা।


৪. দিনের কাজ দিনের মধ্যেই শেষ করে ফেলার চেষ্টা করা।


৫. ঘুমানোর সময় মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে বিশেষ করে সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার থেকে দূরে থাকা। সূত্র: বিবিসি


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com