শীতে সুস্থ থাকতে খাদ্য তালিকা পরিবর্তন করুন
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:২৯
শীতে সুস্থ থাকতে খাদ্য তালিকা পরিবর্তন করুন
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সুস্থ সবল থাকাটা, প্রত্যেকেরই কাম্য। কর্মজীবনের স্বাভাবিক কাজ কর্ম চালিয়ে যেতে সুস্থ থাকা অতি জরুরি। কিন্তু চাইলেই কিসুস্থ থাকা যায়? হ্যাঁ, যায়। সুস্থতা নির্ভর করে আমাদের নিজেদের ওপর। আমাদের অসুস্থ হওয়ার কারণ মূলত খাদ্য অভ্যাস, অসময়ে ঘুম বা সময় মতো ঘুম না হওয়া এবং শরীর চর্চা না করা ইত্যাদি। এজন্য সুস্থ থাকতে হলে তো নিয়মাফিক চলতে হবেই।


তাই সুস্থ থাকতে খাদ্য তালিকায় কিছু পরিবর্তন আনতে হয়। শীতকালে সুস্থ থাকতে কি কি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকার।


গাজর
শীতকালে খাবার হিসেবে গাজর শরীরের জন্য খুবই উপযোগী একটি খাবার। গাজরের মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ বেটা ক্যারোটিন,যা কিনা বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা কমিয়ে ফুসফুসকে সুরক্ষা দেয়।


কমলা
শীতে খাওয়ার জন্য কমলা ভালো একটি সাইট্রাস ফল। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। শীতে বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে শরীরকে সুরক্ষা দিতে দারুণ কাজে আসে। পাশাপাশি এ সময় গাজর শুষ্ক ত্বককেও ভালো সাহায্য করে।


ডিম
ডিমের মধ্যে রয়েছে নয়টি প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও আয়রন। তাই রোগ প্রতিরোধে ডিম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ডিমে রয়েছে ভিটামিন বি২, বি১২, এ ও ই। আরও রয়েছে জিংক, ফসফরাস এবং প্রয়োজনীয় মিনারেল।


আদা
শীতে আদার চা খান। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ আদা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি আদা শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ফ্লু প্রতিরোধেও আদা ভালো কাজে আসে।


প্রত্যেক মৌসুমেরই আলাদা মেজাজ রয়েছে। সেই মেজাজের আদলেই প্রকৃতি তার আপন বৈশিষ্ট্যে আচরণ করে। আর প্রকৃতির মাঝে বসবাসরত প্রতিটি জীবই এ আচরণ দ্বারা প্রভাবিত। তাই এমন খুব শীতেও আপনার মেজাজ ভালো নাও থাকতে পারে। এই জন্য আপনার শীত নিবারণে কি করে গুছিয়ে চলতে হবে তার কিছু নিয়ম দেখে নিতে পারেন।


১. শীতে বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই হাতে গ্লাভস পরে বের হবেন। কারণ শরীরের তাপগুলো হাতের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। তাই হাতের গ্লাভস শরীরকে গরম রাখতে সাহায্য করবে।


২. শীতকালে শরীরের ওজন বৃদ্ধি করা যায় খুব সহজেই। তাই আপনাদের মধ্যে যারা খুব রোগা আছেন তারা বেশি করে খাবার খান। তবে যারা মোটা তারা অবশ্যই এই সময় খাবারটা ডায়েট করে খাবেন। কারণ আপনি অতিরিক্ত মোটা হয়ে যেতে পারেন।


৩. এই সময় সকালে বা দুপুরে কাজে বের হওয়ার সময় সান'স ক্রিম মেখে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। কারণ শীতকালে সূর্য পৃথিবীর অনেক কাছে চলে আসে। আর তাই এই সময় ৮০ শতাংশ ক্ষতিকারক রে আমাদের স্কিনের ক্ষতি করতে পারে।


৪. আমরা অনেকেই মনে করি যে শীতে ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বাড়ির বাইরে বের হলে আমাদের শরীর হয়ত খারাপ করবে। তবে আপনি জানেন কি? ঠাণ্ডাতে আমাদের শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ার অনেক বেড়ে যায় ফলে শরীর খারাপ হবার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।


৫. শীতকালে আমাদের পানি তেষ্টা খুব কম পায়। তাই গরমকালের তুলনায় শীতকালে পানি খাওয়ার পরিমাণ অনেক কমে যায়। কিন্তু শরীর ঠিক রাখতে গেলে আমাদের প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ২ লিটার পানি খাওয়া আবশ্যক। না খেলে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া কিডনির সমস্যা, হজমের সমস্যা প্রভৃতিও দেখা দেয়। তাই পানি তেষ্টা না পেলেও কিছু সময়ের ব্যবধানে বেশি করে পান খান। এতে দেখবেন শীতকালে শরীরের কোনও সমস্যাই দেখতে পাওয়া যাবে না।


৬. শীতকালে ঠাণ্ডার হাত থেকে বাঁচতে আমরা অনেক গরম জামা পরি। কিন্তু প্রয়োজনের থেকে বেশি গরম জামা পরার ফলে আমাদের শরীরের ভেতরে ঘাম হয়ে যায়। যার জন্য ঠাণ্ডা লাগার সমস্যাও দেখা দেয়। তাই বেশি গরম জামা না পরে ঠাণ্ডা লাগার হাত থেকে বাঁচতে যেটুকু দরকার সেইটুকু পরাই উচিত।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com