এমন মানুষ কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০১৭, ১৬:৩০
এমন মানুষ কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সকাল হোক, দুপুর কিংবা গভীর রাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর যখনই জরুরি প্রয়োজন তিনি ছুটে যেতে পারেন উপাচার্যের কাছে। এমন উপাচার্য দেশে একজনই আছেন। তিনি ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। আমাদের আরেফিন স্যার।


আরেফিন স্যার একমাত্র উপাচার্য, যিনি দায়িত্ব নেয়ার পর গত আট বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিনও ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকেনি। সেশনটজটের অ‌ভিশাপ থে‌কে পুরোপুরি মুক্ত হ‌য়ে‌ছে ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যালয়। আরেফিন স্যারই একমাত্র উপাচার্য, যিনি উপাচার্য হয়েও ক্লাস নিয়েছেন। এখনো নেয়ার চেষ্টা করেন।


এ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক উপাচার্য যখন নি‌জের সব প্রাপ্য টাকা নি‌য়ে উল্টো বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের আপ্যায়ন ভাতা, বৈশাখী ভাতা আত্মসাৎ ক‌রেন, তখন নিজের প্রাপ্য কোটি টাকা নে‌ননি এই একজনই - তিনি আরেফিন স্যার।


আরও আছে। এ দেশের উপাচার্যরা যখন নিজের আত্মীয়স্বজন, এমনকি নিজ এলাকার লোকজনকেও নিয়োগ দিতে ব্যস্ত থাকেন, কখনো টাকার বিনিময়ে, কখনো স্বজনপ্রীতি করে, তখন শুধু আরেফিন স্যারই কখনো এরকম স্বজনপ্রীতি ও এলাকাপ্রীতি দেখাননি।


কেউ কেউ বলতে পারেন, আমি হঠাৎ কেন আরেফিন স্যারের প্রশংসায় মেতে উঠলাম? আগেও বলেছি, এখনো বলি, স্যার যখন শুধু শিক্ষকতায়, তখন থে‌কে স্যা‌রের গ্রীন রোডের বাসায় যাই। আমি খুব বড় গলায় বলতে পা‌রি, গত ১৫ বছ‌রে কোনোদিন নি‌জের কোনো স্বার্থ নি‌য়ে স্যারের কাছে যাইনি। শিক্ষক-কর্মকর্তা হ‌ওয়ার দৌড়ে আমি কখনো ছিলাম না, ভবিষ্যতেও থাকবো না। কিন্তু আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেফিন ‌স্যারের মতো উপাচার্য বা শিক্ষক দেখিনি। আর সে কারণেই আমি স্যারের কথা বলছি ও বলব।


আমি মনে করি, আরেফিন স্যার গত আট বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে যা দিয়েছেন তা অনেক উপাচার্যই দিতে পারেননি। ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি তাঁর পুরো সময়টাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে লাগিয়েছেন। ভোর ৬টা থেকে গভীর রাত সবসময়ই তিনি কাজে মগ্ন থাকেন। আর কবে কোন উপাচার্যের কাছে গিয়ে এভাবে মন খুলে কথা বলতে পেরেছেন ছাত্র থেকে শুরু করে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই? এমন সাধারণ জীবনযাপন আর কোনো উপাচার্য করেছেন?


আমি খুব কষ্ট নিয়ে দেখছি, এ দেশের একদল সুশীল, যারা চায় উপাচার্যরা সৎ থাকবেন, যারা চায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট থাকবে না, ছাত্রদের হাতে অস্ত্র থাকবে না, তাদের অনেকেই সুযোগ পেলে আরেফিন স্যারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে।


তাদের কাছে আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, এ দেশের ৪০টা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন উপাচার্য আরেফিন স্যারের মতো সৎ, ভালো মানুষ?


কেবল কি সুশীল? আওয়ামী লীগ করেন, নীল দল করেন, সারাক্ষণ নীতিকথা বলেন - এমন উপাচার্যদেরও দেখেছি দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁরা কী কী করেন। আর্থিকভাবে অসৎ, নীতিহীন এই মানুষগুলো যখন নিয়মের কথা বলে, তখন খুব হাসি পায় আমার।


আমি জানি না, আরেফিন স্যার আবার উপাচার্য হবেন কি-না। উপাচার্য না হলে বরং আমি খুশি যে স্যারের সঙ্গে আরো বেশি করে গল্প করতে পারব। কিন্তু যারা আরেফিন স্যারের বিরোধিতা করেন, তাঁরা আমাকে কোনো একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন যোগ্য উপাচার্যের নাম বলুন তো? আমি তো বলব, বাংলাদেশে আরেফিন স্যারের মতো উপাচার্য আরো দরকার, যারা ক্ষমতায় গিয়েও সৎ থাকবেন। যাকে ছাত্ররা সব সময় পাবেন।


একজন শিক্ষক কতটা বিনয়ী, ক‌তোটা ‌নিরহঙ্কারী হ‌তে পারেন, সেটা শেখার জন্যও আরেফিন স্যারকে দরকার।


কথাগুলো একান্তই আমার ব্যক্তিগত। হ্যাঁ, আরেফিন স্যার মানুষ। তিনি ফেরেশতা নন। তাঁরও ছোটখাটো কিছু দুর্বলতা আছে। কিন্তু সব কিছু মিলিয়ে আরেফিন স্যারের মতো শিক্ষক, শিক্ষার্থীবান্ধব এমন উপাচার্য এই বাংলাদেশ কখনো পাবে কি না আমার সন্দেহ আছে। কারণ, আরেফিন স্যারের তুলনা শুধুই আরেফিন স্যার। তাই সবসময় শুভকামনা স্যারের জন্য।


শরীফুল হাসানের ফেসবুক থেকে


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com