দীপের জন্য দুঃখগাঁথা
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০১৭, ০৩:২৮
দীপের জন্য দুঃখগাঁথা
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

দীপ। নামের সাথে ব্যক্তিত্বের আশ্চর্য মিল ছিল ছেলেটির। সবসময় নিজের চারপাশটা আলোকিত করে রাখত সে। কিন্তু সেই সদা হাস্যোজ্জ্বল, প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর ছেলেটির জীবন প্রদীপ নিভে গিয়েছিলো অকালে। নিভিয়ে দিয়েছিল মৌলবাদী ঘৃণ্য অপশক্তি।


আরিফ রায়হান দীপ বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে, নিজের আলোয় সমাজকে আলোকিত করার প্রত্যয় নিয়ে বুয়েট জীবন শুরু করেছিল ছেলেটি। প্রগতিমনা এই ছেলেটি অতি অল্প সময়ে আপন করে নিয়েছিল এই বুয়েটকে। বুয়েটও তাকে জড়িয়ে ছিল মায়ার বাঁধনে। অথচ কি অসময়ে সেই বাধনটি ছিড়ে গেল। সহপাঠী, সিনিয়র, জুনিয়র প্রত্যেকের অতি প্রিয় মানুষ ছিল সে। কেউ কখনো গোমড়া মুখে দেখেনি তাকে। দেশপ্রেমের দৃপ্ত চেতনা ছিল মনে। প্রগতিশীল আন্দোলনের একজন হওয়ার আশা নিয়ে যোগ দিয়েছিল ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগে। অতি অল্প সময়ে হয়ে উঠেছিল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় সংগঠক। জামাত-শিবির ও মৌলবাদীদের দেশবিরোধী যেকোন কাজে সে হত প্রতিবাদমুখর। বুকভরা সাহস নিয়ে এগিয়ে যেত তাদের রুখে দেয়ার জন্য।


৫ই ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন শুরু হওয়ার প্রাক্কালে শাহবাগে উপস্থিত হয় সে। নিজ হাতে প্ল্যাকার্ডে লিখেছিল, “এই পথে আজ জীবন দিব, রক্তের বদলা ফাঁসি নেব”। অনেকে মুখে চেতনার কথা বলতে পারে, কিন্তু কতজন পারে দীপের মত নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিতে? দীপরা তাই মরেও মরে না, মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে বেঁচে থাকে মানুষের মনের মণিকোঠায়।


দীপরা জন্মযোদ্ধা। এরা সেই প্রকৃত বীর যারা সবসময় শুকরের সাথে সহবাসের ফতোয়া অস্বীকার করে দৃপ্তকন্ঠে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানায়। এর জন্য চরম মূল্যটা এদেরকেই দিতে হয়। তবুও এরা ভয় পায় না। এই অকুতোভয় দীপরা আছে বলেই এখনো টিকে আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এদের জন্যই এখনো মৌলবাদের আখড়া হতে পারেনি এই সোনার বাংলা। কিন্তু আফসোস, এই রাষ্ট্র এই বীরদের ধরে রাখতে পারে না। দীপের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে এই রাষ্ট্র কিছুটা প্রায়শ্চিত্ত করতে পারে।


এই সমাজ, এই রাষ্ট্রকে তুই ক্ষমা করে দিস দীপ। কাপুরুষ এই সমাজে তোদের মত সাহসীদের আসলেই স্থান নেই। তবে এটুকু জেনে রাখিস তোকে আমরা কখনো ভুলব না, ভুলতে পারবো না। তুই আমাদের চেতনায় সবসময়ই জাগ্রত থাকবি শিখা অনির্বাণের মত, আকাশের তারা হয়ে মৌলবাদবিরোধী সংগ্রামে আমাদের পথ দেখাবি নিরন্তর। সকলের আদর্শ হয়ে বেঁচে থাকবি আমাদের মাঝে।


সৃষ্টিকর্তার কাছে একটাই নিবেদন, আমাদের দীপকে তুমি তোমার সর্বোচ্চ স্থানে ঠাই দিও। এই জনমে সে তার যোগ্য মর্যাদা পায়নি। তুমি সেটা পুষিয়ে দিও।


আমিনুল হক পলাশের ফেসবুক থেকে


বিবার্তা/পলাশ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com