ব্যবধানটা গড়ে দেয় ছাত্ররাজনীতির পাঠ
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৭, ১৩:৩৫
ব্যবধানটা গড়ে দেয় ছাত্ররাজনীতির পাঠ
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ব্যাপারটা এমন না যে, ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ না করলে আওয়ামী লীগ করা যাবে না। আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সবার জন্যই দরজা খোলা। দল যখন যাকে প্রয়োজন মনে করবে তাকেই কাজে লাগাবে।

 

তবে যারা ছাত্রলীগ করেননি (বিশেষ করে এখন যারা চল্লিশ উর্ধ্ব), তারা এখন সুবিধাজনক সময়ে নিজেদেরকে আওয়ামী লীগের সোল ডিস্ট্রিবিউটর ভাবলে দাহকালে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে ছাত্রলীগ করা মানুষগুলোর মনে কিছু প্রশ্ন আসতেই পারে।  

 

প্রশ্নগুলো আরো শক্তভাবে আসে যখন এই শ্রেণীর মানুষেরা সুবিধাজনক সময়ে সুবিধা নিয়ে দুঃসময়ের মানুষগুলোকে নিজেদের চেয়ে অযোগ্য মনে করে নাক সিটকান (প্রকাশ্যে না হোক আড়ালে করেন এই কাজ)।

 

একজন মানুষের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান সময় তার কৈশোর আর তারুণ্যের সময়টা। ছাত্ররাজনীতি করা মানুষগুলো সেই মূল্যবান সময়টাকে সংগঠনের জন্য বিসর্জন দিয়ে নিজেদের গায়ে সারা জীবনের জন্য ঘামের গন্ধ বয়ে বেড়ায়। যে গন্ধ ১০১টি লাক্স সাবান দিয়ে গোসল করলেও যাবে না।

 

চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি আপনারা যারা ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ করেননি, যারা ছাত্রজীবনে রাজনীতির পথ-ই মাড়াননি, নিজেকে নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে, আয়েশি জীবনযাপন করে এই সুসময়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণকর্তা ভাবছেন, তারা ছাত্রলীগের একজন কর্মীর (সাবেক, বর্তমান) রাজনৈতিক ধ্যান, জ্ঞান, শিক্ষার কাছে কিছুই না।

 

একজন রাজনৈতিক কর্মী জানেন, কিভাবে মানুষের সাথে মিশতে হয় আর পক্ষান্তরে আপনারা এখনো সংগঠনের কর্মীদের সাথেই মিশতে শেখেননি! গণমানুষের সাথে মেশা তো দূর। 

 

মিশতে যে শেখেননি তার প্রমাণ আপনারা আপনাদের সামান্য সমালোচনায় বিচলিত হয়ে উঠেন, ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। আপনারা এখনো জানেনই না, সমালোচনা রাজনীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। 

 

আজ এই সুসময়ে অনেকেই বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যে প্রক্রিয়ায় করেছেন সেই প্রক্রিয়া হিসাব করলে আপনারা যোগ্য। কারণ, আপনারা যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন, এমন প্রক্রিয়া একজন ঘামের গন্ধ লেগে থাকা রাজনৈতিককর্মী গ্রহণ করতে পারে না। তাতেও দোষের কিছু দেখি না। সবাই সবকিছু পারে না।

 

সংগঠনের একজন কর্মী হিসেবে আমরাও চাই সবাই সম্পৃক্ত হোক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে।  

 

কিন্তু সম্পৃক্ত হওয়ার মানে এই না যে, রাজনৈতিক অতীত না থাকা কেউ পরিপাটি পোশাকে সজ্জিত হয়ে, চটকদার কথা বলে নিজের জায়গা করতে গিয়ে দলের ঘামের গন্ধওয়ালা মানুষগুলোকে কোণঠাসা করে ফেলবে।

 

সুসময়ে ত্রাণকর্তা আপনারা ভাগ্যগুণে হয়তো সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছতে পারেন। কিন্তু মনে রাখা উচিত এই সুসময়টারও শেষ আছে। আবারও দাহকাল আসবে। এটাই রাজনীতির নিয়ম। তখনও যেন আপনারা থাকেন আজকের মতো পরিপাটি পোশাকে ত্রাণকর্তা হিসেবে এই প্রত্যাশা করি। 

 

গোলাম ইসতেজা চৌধুরীর ফেসবুক থেকে…

 

বিবার্তা/নিশি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com