‘করোনা মোকাবিলায় চতুর্মুখী কাজ করতে হবে’
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২০, ১৩:১১
‘করোনা মোকাবিলায় চতুর্মুখী কাজ করতে হবে’
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

করোনা মোকাবিলায় আমাদের চতুর্মুখী কাজ করতে হবে। তৃপ্তির ঢেকুর তোলার সুযোগ নাই, হতে হবে ইস্পাতসম কঠোরঃ


১) সকল বেসরকারি হাস্পাতালের ম্যানেজমেন্ট মহামারি না যাওয়া পর্যন্ত সরকারের নির্দেশে পরিচালিত করা যেতে পারে। প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালে একজন সরকারি ডাক্তার ও একজন সেনা অফিসার দায়িত্বে থাকবে এবং সকল বেসরকারি হাস্পাতাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে কেন্দ্রীয় মনিটরিং টিমের অধিনে পরিচালিত হবে।


২) অক্সিজেন এর উৎপাদন ও রিজার্ভ বৃদ্ধি করা হোক। লিনডে বাংলাদেশ এর কার্যক্রমে একজন সরকারি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও একজন সেনা অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হোক। মহামারি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে।


৩) অক্সিজেন ভেন্টিলেশন বানানো শুরু করা হোক এবং যে সকল ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানি এগুলো বানাতে সক্ষম তাদের সবাইকে নির্দিষ্ট গাইড লাইন দেয়া হোক এবং তা মনিটরিং এর জন্য ইঞ্জিনিয়ার ও সেনা অফিসারদের নিয়ে টিম গঠন করা হোক। করোনা রোগী’র সেবার জন্য রোবট তৈরি করা যেতে পারে। রোবট এর ডিজাইন আমাদের দেশের ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে রয়েছে।


৪) "সরকার ইচ্ছা করলে মহামারি প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য যে কারো এবং যে কোন স্থাপনা, সম্পদ অস্থায়ী ভাবে বাজেয়াপ্ত ও ব্যবহার করতে পারবে, মহামারীকালীন সময়ে বৃহত্তর স্বার্থে সরকারি নির্দেশ অমান্যকারীকে গুলি করার মতো ক্ষমতা সরকার রাখে" মহামান্য রাষ্ট্রপতি এর এমন নির্বাহী আদেশ জারি করা যেতে পারে।


৫) স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মীদের যাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তাদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা করুন। হোটেল, রিসোর্ট ও আলাদা বিল্ডিং ব্যবহার করা যেতে পারে। তাদের পরিবারের নিরাপত্তা ও খাওয়া দাওয়ার দায়িত্ব সেনা, পুলিশ, স্বাস্থ্য অধিদফতর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটি দেখবে।


৬) প্রয়োজনীয় ঔষধ বানানোর সম্ভাব্য কাঁচামাল সকল ঔষধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মজুদ শুরু করবে। ঔষধ প্রশাসন ও সেনা অফিসারসহ গঠিত টিম সকল ঔষধ কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং করবে। প্রয়োজনীয় ঔষধ বাজারে ছাড়া যাবে না। শুধুমাত্র হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা যেতে পারে। বাজারে ছাড়লে মানুষ বসায় মজুদ করা শুরু করবে।


৭) পিপিই, টেস্টিং কিট ও চিকিৎসা সামগ্রী আমদানী বাড়ানো হোক। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমদানী করতে উৎসাহ দেয়া হোক। হয়রানি বন্ধ ও ট্যাক্স-ভ্যাট মাফ করা হোক। ভোক্তা অধিকার অধিদফতর ও সেনা অফিসাররা মিলে মনিটরিং করে দাম এর সহনশীলতা ও বিতরণে শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করবে।


৮) পরিবহনপুলের সকল গাড়ি মহামারিতে নিয়োজিতদের জন্য ব্যবহৃত হবে।


৯) সকল সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ সবাই রাস্তা ও গুরুত্বপুর্ণ স্থানে জীবাণুনাশক ছিটাবে।স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সেনা অফিসার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর কমিটি এগুলো মনিটরিং করবে। হাস্পাতাল গুলোকে জীবাণু নাশক করার জন্য স্পেশাল টিম রাখা যেতে পারে। পরিচ্ছন্ন কর্মীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার দিকে নজর দিতে হবে।


১০) এম্বুলেন্সগুলোকে করোনা রোগী বহনের মতো করে প্রস্তুত করা যেতে পারে।


১১) ৩৯তম বিসিএস এ কৃতকার্য হয়ে ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ না পাওয়া প্রায় ৮ হাজার ৭০০ ডাক্তারকে নন-ক্যাডার হিসাবে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে।


১২) অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মীদের রিকল করা যেতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা কাজে যোগ দিলে নাটকীয় ভাবে স্বাস্থ্যসেবা বেড়ে যাবে। সকল মেডিকেল স্টুডেন্টকে কাজে লাগাতে হবে। যারা পাশ করেছে কিন্তু জব করে না তাদেরকেও ডাকা যেতে পারে। প্রয়োজন এর চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের এক সাথে কাজে লাগানো যাবে না। রিজার্ভ ফোর্স হিসাবে কিছু স্বাস্থ্যকর্মী রাখতে হবে। একটি টিম যদি করোনায় আক্রান্ত হয়ে, সাথে সাথে রিজার্ভ টিমকে কাজে নামাতে হবে।


১৩) স্কাউট ও কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে চিকিৎসা সহায়ক টিম গঠন করা হোক। পরবর্তীতে চাকুরীর ক্ষেত্রে এদের প্রাধান্য দেয়া যেতে পারে।


১৪) করোনা যোদ্ধাদের মৃত্য হলে রাস্ট্রীয়ভাবে শহিদ হিসাবে ঘোষণা দেয়া যেতে পারে। তাদের পরিবারকে সম্মান ও আর্থিক সুবিধা দেয়া যেতে পারে।


১৫) করোনা এ আক্রান্ত সবাইকে রাষ্ট্রীয় খরচে চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে।


১৬) জরুরী সেবায় নিয়োজিত ছাড়া সবার জন্য কার্ফু জারি করা যেতে পারে এবং এই ব্যাপারে গুলি করার ক্ষমতা সেনা ও পুলিশ বাহিনীকে দেয়া যেতে পারে। কার্ফু এর মেয়াদ করোনা নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে।


১৭) জরুরী অবস্থাকালীন সময়ে বাসায় বাসায় খাবার পৌছে দেয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কাজ করবে। আনসার বাহিনীকেও এই কাজে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম্য পুলিশকে ব্যবহার করা হোক।


১৮) হাসপাতাল ও রাস্তায় জীবানুমুক্ত করন বিশেষ গেট বা রুম স্থাপন করা হোক। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এই ব্যাপার উদ্যোগ নিতে পারে।


১৯) আরো বেশি সেনা, বিমান ও নৌ বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে যারা কাজ করবে তাদের নির্দিষ্ট ড্রেস কোড মেনে সামাজিক দুরুত্ব মেনে কাজ করবে এবং স্বেচ্ছাসেবকরা স্থানীয় প্রশাসনকে অবগতি করে কাজ পরিচালনা করবে। জনপ্রতিনিধিরা সকল কাজে সরকারকে সাহায্য করবে বিশেষ করে গরীব মানুষের পাশে থাকবে।


২০) গণভবনে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হোক, যেখান থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উনার ইচ্ছামতো যে কোন সময় যে কোন কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম, যে কোন জেলা বা উপজেলা কন্ট্রোল রুম, হাস্পাতালে স্থাপিত যে কোন কন্ট্রোল রুমে সরাসরি যোগাযোগ ও নির্দেশনা প্রদান করতে পারেন।


২১) মধ্যমপন্থা অবলম্বন করলে করোনা আগামী ছয় মাসে কন্ট্রোলে আসবে না কিন্তু ১০০% চরমমাত্রার কঠোর অবস্থানে গেলে ঈদের আগে ইনশাল্লাহ করোনা কন্ট্রোলে চলে আসবে।


বিবার্তা/এনকে

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com