চলতি অর্থবছরে দেশের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ বিলিয়ন ডলার
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৫১
চলতি অর্থবছরে দেশের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ বিলিয়ন ডলার
বাণিজ্য ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, চলতি অর্থবছরে (২০১৮-২০১৯) দেশের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ বিলিয়ন ডলার বা চার হাজার ৪০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


বাণিজ্যমন্ত্রী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ সংক্রান্ত সভায় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন।


তিনি বলেন, এ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে পণ্য রপ্তানি খাতে ৩৯ বিলিয়ন ডলার (৩,৯০০ কোটি টাকা) এবং সেবা রফতানি খাতে ৫ বিলিয়ন ডলার (৫০০ কোটি টাকা)। গত বছর পণ্য ও সেবা খাতের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪১ বিলিয়ন ডলার (৪,১০০ কোটি টাকা)। অর্জিত হয়েছে ৪০ দশমিক ৯৪৯ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে গত বছরের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। রফতানির এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালে দেশের মোট রফতানি ৬০ বিলিয়ন ডলার (ছয় হাজার কোটি টাকা) ছাড়িয়ে যাবে।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত বছর পণ্য খাতে রফতানির প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৩৬ ভাগ এবং সেবা খাতে ৭ দশমিক ৪৩ ভাগ। মোট রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৪৭ ভাগ।


তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে ২৭টি পণ্য রফতানি খাতে বিভিন্ন হারে নগদ আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এবার আরো নয়টি পণ্য রফতানিতে ১০ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পণ্যগুলো হলো- হিমায়িত সফটসেল কাঁকড়া, ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য ও ঔষধের কাঁচামাল, সিরামিক দ্রব্য, গালভানাইজড সিট বা কয়েলস, ফটোভলটাইক মডুল, রেজার ও রেজার ব্রেডস, ক্লোরিন, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, কস্টিক সোডা এবং হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড। এর ফলে আগামীতে দেশের রফতানিকারকরা পণ্য রফতানিতে আরো বেশি উৎসাহিত হবেন।


তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের রফতানির সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক থেকে। গত অর্থ বছর ৩০ বিলিয়ন ডলার (তিন হাজার কোটি টাকা) রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। রফতানি হয়েছে ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। এ বছর তৈরি পোশাক রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩২ বিলিয়ন ডলার (৩,২০০ কোটি টাকা)। ২০২১ সালে এ রফতানির পরিমান দাঁড়াবে ৫০ বিলিয়ন ডলার (পাঁচ হাজার কোটি টাকা)। তৈরি পোশাক নতুন বাজারে রফতানিতে আগে ৩ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হতো। এখন আরো একভাগ বাড়িয়ে ৪ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামীতে তৈরি পোশাক রফতানিতে ১০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে।


সভায় ব্যবসায়ী নেতারা রফতানি বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামোর উন্নয়ন, ব্যবসায়িক জটিলতা নিরসন ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্থল ও সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম আরো গতিশীল করার দাবি জানান।


এ পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য সরকার পর্যাপ্ত কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। চলমান কাজগুলো শেষ হলে রফতানি বাণিজ্য সহজ হবে। দেশের রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সহজ করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রফতানি বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশ বিগত যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে।


বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশীষ বসু, এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ’র প্রেসিডেন্ট সিদ্দিকুর রহমান, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টচার্য্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) তপন কান্তি ঘোষ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা বুধবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com