ছুটি শেষ তবুও কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৭, ০৮:০১
ছুটি শেষ তবুও কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল
মুহিববুল্লাহ মুহিব, কক্সবাজার
প্রিন্ট অ-অ+

কখনো সমুদ্রের আকাশ লুকিয়ে থাকে মেঘের আড়ালে। আবার কখনো রৌদ্র ছড়ায় খরতাপ। আবহাওয়া অফিস জানালো বর্ষার সাগর বেশ উত্তাল। তবুও প্রকৃতির বৈরী আচরণ থামাতে পারছে না সৈকত বেলাভূমিমুখী পর্যটকের ঢল। ঈদের ছুটি শেষ তবুও সৈকত নগরী কক্সবাজার মুখর পর্যটকের ভারে। নানা রঙ্গে ঢঙ্গে ঈদ উৎসবে মেতেছেন চার লাখেরও বেশি পর্যটক। ব্যবসায়ীরা বলছেন, হোটেলের সব ক’টা রুম বুকিং শনিবার পর্যন্ত।


এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের পরদিন থেকে সাগর বালিয়াড়ীর কলাতলী, সুগন্ধা, লাবণী ও ডায়বেটিক পয়েন্টে লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে। সৈকতের প্রতিটি পয়েন্ট মানুষে মানুষে মুখরিত থাকছে সকাল বিকেল সন্ধ্যে। দেশের নানা জায়গা থেকে কেউ এসেছেন পরিবার পরিজন নিয়ে, কেউ দল বেঁধেছেন বন্ধু বান্ধব নিয়ে। ক্যামেরার ফ্রেমে সমুদ্রকে জড়িয়ে বন্দি করছেন সেলফি ভেলফিতে। ঢেউয়ের সাথে সাথে মেতেছেন জানা অজানা নানা খেলায়।



অপরূপ প্রকৃতির কাছাকাছি এসে বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে অনুভূতির ভাষা হারালো অনেকেই। আবার কোন কোন পর্যটকের চোখে ধরা দিলো ব্যবস্থাপনায় কিছু অসংগতি।


কক্সবাজার ট্যূর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন নেতারা বলছেন, এবার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পর্যটক এসেছে কক্সবাজারে। ঈদ উৎসবে দেশীয় পর্যটকের আগমন ঘটলেও আসেনি বিদেশী পর্যটক। তবে আগামীতে বিদেশী পর্যটক আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান নেতারা।


সিলেট থেকে আসা রিয়াজুল কাদের দম্পতি বলেন, ‘ঈদের আনন্দ ব্যতিক্রমভাবে উপভোগ করার জন্য কক্সবাজারে ছুটে আসা। কক্সবাজার সৈকত হচ্ছে একটি চমৎকার স্থান। যেখানে ঈদের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।’



জসিম উদ্দিন নামের আরেক পর্যটক বলেন, ‘ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি আর ঈদ মানে কক্সবাজার। প্রতিবছর আমি কক্সবাজার আসি। বিশেষভাবে ঈদের দিনটা উদযাপন করার জন্য।’


সমুদ্রে স্নানরত পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সি-সেইভ লাইফ গার্ডের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমদে জানান, সমুদ্রস্নানে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে ইয়াছিন, রবি, সি-সেইভ লাইফ গার্ডের কর্মীরা। এবারের ঈদে যেহেতু অতিরিক্ত পর্যটক আগমন ঘটায় দায়িত্ব পালনে লাইফ গার্ড কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে বর্ষা মৌসুমে সুইমিং জোনে পর্যটকদের গোসল করেই ভালো। কারণ এসময় সমুদ্র উত্তাল তাকে। এক্ষেত্রে পর্যটকদেরও নিজেদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।


টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী বিবার্তাকে জানান, ‘এবারের ঈদে ধারণার চেয়েও বেশি পর্যটকের আগমন ঘটেছে। ফলে পুলিশের দায়িত্ব পালনেও হিমশিমে খেতে হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে আরও প্রচুরসংখ্যক পর্যটক আসবেন বলে আমাদের ধারণা। সে অনুযায়ী পর্যটন স্পটগুলোতে নিরাপত্তাসহ পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।’


বিবার্তা/মুহিব/জিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com