চামড়ার পর কুমিরের মাংস রপ্তানির উদ্যোগ
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০১৬, ১০:৩৩
চামড়ার পর কুমিরের মাংস রপ্তানির উদ্যোগ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের নতুন আইটেম হচ্ছে কুমিরের মাংস। তবে এর আগে উভচর এ প্রাণীটির চামড়া রপ্তানি শুরু হয়। অস্ট্রেলিয়াসহ পশ্চিমাবিশ্বে কুমিরের মাংসের চাহিদা রয়েছে। বার্গারসহ বিভিন্ন খাদ্যে এই মাংস ব্যবহৃত হয়।


ময়মনসিংহের ভালুকায় বেসরকারি মালিকানায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কুমিরের চাষ হচ্ছে এক যুগ ধরে। ইতিমধ্যে উৎপাদিত কুমিরের চামড়া রপ্তানি হয়েছে বিভিন্ন দেশে। এবার মাংস রপ্তানির ঘোষণা দিয়েছে উৎপাদকারী রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড। রপ্তানিবাণিজ্যে কুমিরের মাংসের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


জানা গেছে, কুমিরের কোনো কিছুই ‘ফেলনা’ নয়। প্রাণীটির চামড়া, মাংস, দাঁত ও হাড় বাজারজাত করা যায়। চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউগিনি ও থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৭০থেকে ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যমানের কুমিরের মাংসের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকক, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও চীনসহ অর্ধশত দেশে কুমিরের চাষ হচ্ছে।



রেপটাইলস ফার্মের প্রজেক্ট ম্যানেজার ডা. আবু সাইম মোহাম্মদ আরিফ জানান, ‘২০০৪ সালে এটি দেশের প্রথম বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কুমিরের প্রজনন শুরু করে। ২০১৪-১৫অর্থবছর থেকে আমরা কুমিরের চামড়া রপ্তানি শুরু করি। এখন পর্যন্ত জাপানে ২০১৪সালে ৪৩০টি ও ২০১৫সালে ৪০০টি চামড়া রপ্তানি হয়েছে। এর পরিমাণ বাড়িয়ে বছরে দুই হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাশাপশি খুব শিগগির আমরা মাংস রপ্তানির চিন্তাভাবনা করছি।’


ভালুকা উপজেলা সদর থেকে ১৭কিলোমিটার দূরে ভরাডোবা-সাগরদিঘী সড়কের উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের হাতীবেড় গ্রামে রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠান কুমির চাষ ও রপ্তানি করছে।


প্রতিষ্ঠানটি সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালের ৫ মে কুমির খামারটি প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা সিআইটিইএস এর অনুমোদন নিয়ে ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে মালয়েশিয়ার সারওয়াত থেকে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫টি পুরুষ এবং ৬০টি মাদি কুমির আমদানি করে। পরে একই বছরের ২২ডিসেম্বর কুমিরগুলোকে খামারে অবমুক্ত করা হয়। তখন আমদানি করা কুমিরগুলোর বয়স ছিল গড়ে ১০-১৪বছর, আর কুমিরগুলো লম্বায় ছিল ৭-১২ফুট।


২০০৬ সালের আগস্টে ওই খামারের প্রথম দুটি মাদি কুমির ডিম দেয়া শুরু করে। ক্রমান্বয়ে কুমিরের বংশ বিস্তারের মাধ্যমে ওই খামারে প্রায় ৮০০ কুমিরে উন্নীত হয়। সরকারের কাছ থেকে কুমির রপ্তানির চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে ২০০৯ সালের অক্টোবরে জার্মানির হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটি কুমিরের শরীরের অংশ বিশেষ থেকে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধক মেডিসিন আবিষ্কারের জন্য ওই রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড থেকে কুমির রপ্তানির চুক্তিতে আবদ্ধ হয়।


২০১০ সালে ওই খামারের রপ্তানিযোগ্য ৩০০কুমিরের মধ্য থেকে ৬৯টি কুমির জার্মানিতে রপ্তানি করা হয়। বাকি ২৩১টি কুমির ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির প্রক্রিয়াও চলে।


জানা গেছে, জার্মানিতে ৭০লাখ টাকায় ৬৯টি কুমির বিক্রির মধ্য দিয়ে লাভের মুখ দেখে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে কুমির রপ্তানিকারক দেশের খাতায় বাংলাদেশ নাম লেখায়।


সূত্র মতে, আমদানি করা কুমিরের মধ্যে বর্তমানে ২৫টি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ রয়েছে। ডিম দেয়ার মত বড় কুমিরদের প্রতি মাসে দুই টন মাংস খাবার হিসেবে দেয়া হয়। বন্য অবস্থায় ১০/১২বছর বয়সে এবং ফার্মে ৬/৭বছর বয়সের একটি স্ত্রী কুমির বছরে একবার (এপ্রিল-মে) মাসে ৪০ থেকে ৫০টি করে ডিম দেয়। ডিম ফুটতে সময় লাগে ৭০থেকে ৮০দিন। এখানে কৃত্রিম উপায়ে ডিম ফুটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে খামারে ৪০টি পুকুর ও ১০টি হ্যাচারি রয়েছে।


২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার সারওয়াত কুমির ফার্ম থেকে দেড় কোটি টাকা দিয়ে আরও ৪০টি ব্রিডার কুমির কেনা হয়। সব মিলিয়ে বর্তমানে এ খামারে ৬০টি মা কুমির রয়েছে। এছাড়া এ খামারে নিজস্ব উৎপাদিত ছোট বড় মিলে প্রায় দুই হাজার কুমির রয়েছে যেগুলির দৈর্ঘ্য তিন ফুট থেকে সারে ছয় ফুট পর্যন্ত লম্বা।


বিবার্তা/জিয়া


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com