পেঁয়াজের ঝাঁজ কমলেও ভোজ্যতেল ও সবজিতে অস্বস্তি
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ১২:১৫
পেঁয়াজের ঝাঁজ কমলেও ভোজ্যতেল ও সবজিতে অস্বস্তি
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

দেশি পেঁয়াজ ওঠায় এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করায় পেঁয়াজের ঝাঁজ বেশ খানিকটা কমলেও ভোজ্যতেল ও সবজিতে ভোগাচ্ছে সাধারণ মানুষকে।সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ৫০ টাকা পর্যন্ত।


তবে স্বস্তি দিচ্ছে না ভোজ্যতে ও সবজি। শিম, টমেটো, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগমে বাজার ভরপুর থাকলেও বেশিরভাগ সবজির দাম এখনো বেশ চড়া। এমনকি সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে দাম বাড়ারও ঘটনা ঘটেছে।


ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছেই। গত বছরের শেষদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা প্রথম দফা দাম বাড়ান। এরপর শীতের অজুহাত দিয়ে আরেক দফা দাম বাড়িয়েছেন তারা। দেড় মাসে পণ্যটির মূল্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতি লিটার পাম অয়েলে দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। আর বোতলজাত (৫ লিটার) সয়াবিন তেলে দাম বেড়েছে ৩৫ টাকা।


শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাসবো, হাতিরপুর, মালিবাগ, রামপুরা সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।


গত বছরের শেষের দিকে ভারত রফতানি বন্ধ করায় পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। রেকর্ড ২৫০ টাকায় পৌঁছে যায় পেঁয়াজের কেজি। তবে নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসার পর দাম কিছুটা কমে। নতুন দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা মধ্যে চলে আসে।


কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই নতুন দেশি পেঁয়াজ ১৮০ টাকায় ওঠে যায়। গত সপ্তাহেও বাজার ভেদে নতুন দেশি পেঁয়াজ ১৪০-১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়।


দেশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসায় কমতে শুরু করে দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ টাকা কমে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা।


পেঁয়াজের দাম কমার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হওয়ায় দাম অস্বাভাবিক বাড়ে। এখন ভারত পেঁয়াজ দেয়ার কথা বলছে, এ কারণে দামও কমছে। সামনে দাম আরো কমবে।


খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী জুয়েল বলেন, গত সপ্তাহে দুই বস্তা পেঁয়াজ কিনেছিলাম ১৩০ টাকা কেজি দরে। এখন সেই পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। কেজিতে ৩০ টাকা লোকসান। হঠাৎ করেই ভারত পেঁয়াজ দেয়ার কথা বরঅয় এমন দাম কমেছে।


তবে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে এখনো পেঁয়াজের দাম অনেক বেশি। রামপুরার এক বাসিন্দা বলেন, এখন দেশি পেঁয়াজের ভরা মৌসুম। এ সময় পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা হওয়া কিছুতেই স্বাভাবিক না। পেঁয়াজের কেজি ৫০ টাকার নিচে থাকা উচিত।


এদিকে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ২০-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া শসার দাম বেড়ে ৪০-৬০ টাকা হয়েছে। শসার মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। আগের সপ্তাহে বাজার ও মানভেদে পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা। করলা ৫০-৭০, দেশি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজি দরে।


সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজরের। ভালো মানের শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। ফুলকপি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি। মুলা পাওয়া যাচ্ছে ২০-২৫ টাকার মধ্যে।


নতুন গোল আলু ২৫-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শালগম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। বেগুন পাওয়া যাচ্ছে ৪০-৫০ টাকার মধ্যে।


রামপুরা থেকে বাজার করা আখতার খান বলেন, শীতের সময় নানারকম সবজির সরবরাহ থাকে। এ কারণে দামও কম থাকে। ফলে শীতের সময় মানুষ সবজি খেয়ে তৃপ্তি পায়। তবে প্রতি বছরের চেয়ে দাম তুলনামূলক বেশি।


এদিকে চাল ডাল লবণসহ নিত্যপণ্যের দাম স্থির রয়েছে।


বিবার্তা/জাই


সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com