ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৮, ০০:১১
ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার রাতে বিষয়টি জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।


টানা ছয় বছর ধরে এক প্রকার গৃহবন্দীই হয়ে আছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। ২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধীর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় স্বাক্ষ্য দেন তিনি। এর জের ধরে আততায়ীর হাতে খুন হন তার ছোট ভাই মিরাজ।


ছোট ভাই হারানোর কষ্ট বুকে নিয়ে নীরবে-নিভৃতে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। সঙ্গে আছেন একমাত্র ছেলে সামির আহমেদ। এরই মধ্যে তার হার্টে ৮টি ব্লক ধরা পড়ে। জরুরি ভিত্তিতে বাইপাস সার্জারি করানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।


বুধবার ফেসবুকে এ নিয়ে স্ট্যাটাস দেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। এতে তিনি লেখেন, ‘একটি ঘরে ছয় বছর গৃহবন্দী থাকতে থাকতে আমি আজ উল্লেখযোগ্যভাবে অসুস্থ। আমার হার্টে আটটা ব্লক ধরা পড়েছে। এরই মধ্যে কাউকে না জানিয়ে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। সেখানে সিসিইউতে চার দিন ছিলাম। আগামী ১০ দিনের মধ্যে হার্টের বাইপাস সার্জারি করানোর জন্য প্রস্তুত আছি।’


ফেসবুকের এই পোস্টটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে এলে তিনি আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।


ওই স্ট্যাটাসে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আরও লিখেছেন, ‘আমি এখন ২৪ ঘণ্টা পুলিশি পাহারায় গৃহবন্দী থাকি, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে। এ এক অভূতপূর্ব করুণ অধ্যায়।’


গৃহবন্দী থাকার কারণ হিসেবে তিনি লিখেছেন, ‘বন্ধুরা, সরকারের নির্দেশে ২০১২ সালে আমাকে যুদ্ধাপরাধীর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় সাক্ষী হিসেবে দাঁড়াতে হয়েছিল। সাহসিকতার সঙ্গে সাক্ষ্য-প্রমাণ দিতে হয়েছিল ১৯৭১ সালে ঘটে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলখানার গণহত্যার সম্পূর্ণ ইতিহাস। ওই গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে আমি একজন। হত্যা করা হয়েছিল একসঙ্গে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে। কিন্তু এই সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে আমার নিরপরাধ ছোট ভাই মিরাজকে হত্যা করা হবে, তা কখনো বিশ্বাস করতে পারিনি। সরকারের কাছে বিচার চেয়েছি, বিচার পাইনি।’


চিকিৎসার জন্য কারও কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা চান না উল্লেখ করে প্রখ্যাত এই সঙ্গীতজ্ঞ লিখেছেন, ‘কোনো সরকারি সাহায্য কিংবা শিল্পী, বন্ধুবান্ধবের সাহায্য আমার দরকার নাই। আমি একাই যথেষ্ট। শুধু অপারেশনের আগে ১০ সেকেন্ডের জন্য বুকের মাঝে বাংলাদেশের পতাকা আর কোরআন শরিফ রাখতে চাই।’


ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি লেখেন, ‘তোমরা আমার জন্যে শুধু দোয়া করবে। কোনো ভয় নাই।’


বিবার্তা/হাসান/কামরুল


<<গুরুতর অসুস্থ ইমতিয়াজ বুলবুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com