‘জাবির বিতর্কিত উপধারা দুটি নিপীড়নমূলক হয়ে উঠবে’
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৯
‘জাবির বিতর্কিত উপধারা দুটি নিপীড়নমূলক হয়ে উঠবে’
জাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কিত ছাত্র শৃঙ্খলা বিধির ৫(ঞ) এবং ৫(থ) উপধারা দুটি বাংলাদেশের সংবিধানের পরিপন্থী এবং শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের জন্য নিপীড়নমূলক হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।


সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক’র ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে যোগ দিয়ে তিনি এই কথা বলেন।


তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো পরিস্থিতির তৈরি হয়নি যেখানে ঢালাওভাবে উপধারায় উল্লেখিত কর্মকাণ্ড সংঘঠিত হতে পারে। উপরন্তু, অসত্য, তথ্য বিকৃতি, অশালীন বার্তা বা অসৌজন্যতামূলক বার্তার কোনো সংজ্ঞা কিংবা ব্যাখ্যা না থাকার ফলে উপধারা দুটি নিপীড়নমূলক হয়ে উঠবে এটাই স্বাভাবিক।


আনু মুহাম্মদ বলেন, শিক্ষার্থীদের আচরণবিধি অংশে উল্লেখিত ৫(ঞ) এবং ৫(থ) উপধারা দুটি বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ (চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা) এবং অনুচ্ছেদ ৪০ (পেশা বৃত্তির স্বাধীনতা) এর পরিপন্থী। সংবিধান পরিপন্থী উপধারা বাতিলের দাবি জানান তিনি।


জাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি তারিক প্লাবন বলেন, ধারা দুটি সংযোজন করে প্রশাসন কর্তৃত্বপরায়ণ মানসিকতার জানান দিচ্ছে। এটা অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার গণমাধ্যমকর্মী ও প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের থামিয়ে দেয়ার প্রয়াস। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মহান প্রতিষ্ঠানে এমন নিবর্তনমূলক নীতিমালা লজ্জাকর। প্রশাসনকে অবশ্যই এটি বাতিল করতে হবে।


বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জাবিসাস) সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মাহমুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে আরো বক্তব্য রাখেন, জাবি সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জাবি শাখার আহ্বায়ক শাকিলুজ্জামান, শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ দিদার, দ্য ডেইলী স্টারের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান, বাংলাট্রিবিউনের প্রতিনিধি সজিবুর রহমান শোয়েব, বাংলাদেশের খবরের প্রতিনিধি শাহিনুর রহমান শাহিন প্রমুখ।


উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন পেয়েছে ধারা দুটি। জানাজানি হওয়ার পর এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভেতরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, ধারা দুট স্বাধীন মতপ্রকাশ ও মুক্ত সাংবাদিকতা চর্চাকে রুদ্ধ করার জন্যই প্রণয়ন করা হয়েছে।


সংশোধিত বিধিতে ধারা দুটি লঙ্ঘন করার শাস্তির কথা বলা হয়েছে- লঘু শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা। সতর্কীকরণ এবং গুরু শাস্তি হিসেবে আজীবন বহিষ্কার, বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার, সাময়িক বহিষ্কার ও পাঁচ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে যেকোনো পরিমাণ জরিমানা করা হবে।


বিবার্তা/জোবায়ের/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com