জাবিতে হল নির্মাণের স্থান পুনঃনির্ধাণের দাবি
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ২০:২০
জাবিতে হল নির্মাণের স্থান পুনঃনির্ধাণের দাবি
জাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন ‘অপরিকল্পিতভাবে’ শিক্ষার্থীদের হল নির্মাণের স্থান পুনঃনির্ধারণের দাবি জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।


সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ’র ব্যানারে ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাত করে স্মারকলিপি প্রদান করে।


শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ: আবাসিক হল নির্মাণের স্থানগুলো পুনঃনির্ধারণ ও একনেক প্রকল্পের আওতায় নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মহাপরিকল্পনা’ জনপরিসরে প্রকাশসহ ৭দফা দাবিতে মিছিল করেছে ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐকমঞ্চ’।


বেলা একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পুরাতন প্রশাসনিক ভবন ঘুরে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেন ঐক্যমঞ্চের নেতাকর্মীরা।


অন্যান্য দাবিসমূহ হলো- প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় ক্যাম্পাসের বিশেষ এলাকাকে সংরক্ষিত প্রাকৃতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা দেয়া, পরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা, লাইব্রেরি ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংখ্যা, একাডেমিক ভবন শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, খেলার মাঠসহ অন্যান্য সকল বিষয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করা এবং একই নকশার পুনরাবৃত্তি না করে হলগুলো জন্য স্বতন্ত্র নকশা তৈরি করার দাবি জানান।


এসময় ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করে অধিকতর উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাপরিকল্পনা প্রকাশ করা হোক। যাতে ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র রক্ষায় আমরা বিকল্প প্রস্তাব দিতে পারি।



এসময় অধ্যাপক আনোয়রুল্লাহ ভূঁইয়া, অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক শামিমা সুলতানা, সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান, সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সভাপতি মাহাথির মুহাম্মদ, সম্পাদক সুদীপ্ত দে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরা: এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা বিশিষ্ট বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের তিনপাশ (উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব) ঘিরে দশতলা করে তিনটি হল নির্মাণকে জীবনযাত্রার জন্য হুমকিস্বরূপ মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। হলের সম্মুখে খেলার মাঠ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ বন্ধের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।


তাদের অন্যান্য দাবিসমূহ হলো- হলের দক্ষিণ পাশে প্রায় পাঁচ শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ভবন নির্মাণের বাতিল করা, হলের সম্মুখভাগে (পূর্ব) নির্মিতব্য হলটি হলের রাস্তা থেকে কমপক্ষে ১০০ গজ পূর্বদিকে সরিয়ে নেয়া, হলের উত্তরপাশের ফাঁকা স্থানটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার উপযুক্ত করা ও খুঁটি দিয়ে চিহ্নিত করে হলের স্থায়ী সীমানা নির্ধারণ করে দেয়ার দাবি জানান।


এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব হল নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। হল স্থানান্তরের বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছি না। তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এসব পরিকল্পনা পুনরায় বিবেচনা করতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।


এসময় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল্লাহ হেল কাফিসহ প্রায় দুইশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।


বিবার্তা/জোবায়ের/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com