‘একাদশে ভর্তি বাবদ তিন হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না’
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৯, ২২:১৫
‘একাদশে ভর্তি বাবদ তিন হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না’
ফাইল ছবি
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সরকারি সুবিধাভোগী কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বাবদ ৩ হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না। সরকার নির্ধারিত চার্জের বাইরে কোনো অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


মঙ্গলবার সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।


নিজাম উদ্দিন জলিলের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের বেশিরভাগ জেলা শহরে পাবলিক/প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।


সরকারি দলের মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্নাতক ও সমপর্যায়ের ১০ লাখ ২৮ হাজার ৮৮০ জন শিক্ষার্থীকে ৬৫৩ কোটি ৭০ লাখ ২১ হাজার ১২০টাকা উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮ লাখ ৪০ হাজার ৬২ জন নারী শিক্ষার্থী।


সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম লুৎফুন নেসা খানের এক প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে সারাদেশে সর্বমোট ১ হাজার ১১৬টি মহিলা মাদরাসা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৫৫টি দাখিল মাদরাসা, আলিম ১২৬টি, ফাজিল ২৬টি এবং কামিল মাদরাসা ৯টি।


মন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের অধীনে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কার্যক্রম চলমান। আরও ৪টি বিভাগীয় শহরে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ চলছে। এ ছাড়া ৮টি মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।


তিনি আরো বলেন, সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যক্রমের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার পাঠ্যক্রমের বেশকিছু বইয়ের সংগতি রয়েছে। কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীবান্ধব টেকনোলজি, যেমন- আর্কিটেকচার অ্যান্ড ইনটেরিয়ার ডিজাইন, গার্মেন্টস ডিজাইন অ্যান্ড প্যাটার্ন, কম্পিউটার টেকনোলজি, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটাল, হাউজ কিপিং, ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড প্রিজার্ভেশন টেকনোলজি চালু করা হয়েছে।


এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্থায়ী ক্যাম্পাসে গেলে তাদের পরিচালন ব্যয় কমে যাবে। এতে করে ছাত্রছাত্রীদের বেতন কমানো সহজ হবে এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বৈষম্য অনেকাংশে দূর হবে।


এই সংসদ সদস্যের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, গত ১০ বছরে (২০১০-২০১৯) ২৯৬ কোটি ৭ লাখ ৮৯ হাজার ১৭২টি বিনামূল্যের বই বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে ২৯৫ কোটি ১ লাখ ২০ হাজার ৭৮৪ কপি পাঠ্যবই ও শিক্ষকদের মাঝে এক কোটি ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮৮টি শিক্ষক নির্দেশিকা।


মন্ত্রী জানান, বিতরণ করা বইয়ের সংখ্যা ২০১০ সালে ছিল ১৯ কোটি ৯০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬১টি, ২০১১ সালে ২৩ কোটি ২২ লাখ ২১ হাজার ২৩৪টি, ২২ কোটি ১২ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৩টি, ২০১৩ সালে ২৬ কোটি ১৮ লাখ ৯ হাজার ১০৬টি, ২০১৪ সালে ৩১ কোটি ৭৮ কোটি ১২ হাজার ৯৬৬টি, ২০১৫ সালে ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৩টি, ২০১৬ সালে ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৬০টি, ২০১৭ সালে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি ২০১৮ সালে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি এবং ২০১৯ সালে ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২টি।


বিবার্তা/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com