ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি
প্রকাশ : ৩০ মে ২০১৯, ০৮:৫১
ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আসলেও প্যানেলগুলোর অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়নি সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি।


বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের বুধবার এক সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গ্রহণ করে ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম হয়নি বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একইসাথে ডাকসু নির্বাচনের বৈধতা দেয় সিন্ডিকেট।


এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে দাবি করে কয়েকজন প্রার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত কমিটি অভিযোগকারী প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের ওপর অনুসন্ধান করে। কিন্তু তারা কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাননি।


তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি আগামী ডাকসু নির্বাচনের জন্য কিছু সুপারিশ দিয়েছে। যেমন, অমোচনীয় কালি ব্যবহার, ব্যালটে সিরিয়াল নম্বর ব্যবহার ইত্যাদি, এই বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ ডাকসু নির্বাচনের জন্য বিবেচনায় নেয়া হবে।


তিনি আরো বলেন, তদন্ত কমিটির কাছে এমন কেউ অভিযোগ করেননি, যারা ভোট দিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বা যারা সময়ের অভাবে ভোট দিতে পারেননি। এছাড়া ভোটের দিন কেউ কোনো হলের প্রভোস্টের কাছে লিখিত অভিযোগ দেননি। যারা অভিযোগ দিয়েছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন পেপার কাটিং দিয়েছেন। কিন্তু এগুলোর ভিত্তিতে তো অনিয়ম প্রমাণ করা যায় না।


সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ডাকসু নির্বাচনে কোনো ধরণের কারচুপি হয়নি। সামান্য কোনো ঘটনা ঘটে থাকলেও তা ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি।


দীর্ঘ ২৮ বছর পর ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করে এতে অংশ নেয়া পাঁচটি প্যানেল।


প্যানেলগুলোর অভিযোগ ও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ মার্চ ঢাবি উপাচার্য ও পদাধিকারবলে ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক সাজেদা বানুকে আহবায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।


কমিটিকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রথমে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও পরে ১৫ কার্যদিবস অতিরিক্ত সময় দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও সে প্রতিবেদন দিতে দুই মাসের বেশি সময় নেয় সংশ্লিষ্ট কমিটি। অবশেষে বুধবার সিন্ডিকেট সভায় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
প্রতিবেদন দাখিলের পর তা গ্রহণ করে ডাকসু নির্বাচনকে বৈধতা দিয়েছে সিন্ডিকেট।


এছাড়া এদিনের সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীসহ ৪২ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।


বিবার্তা/রাসেল/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com