ঢাবির সাংবাদিকতা বিভাগের অগ্রায়নের আয়োজন
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:৪৩
ঢাবির সাংবাদিকতা বিভাগের অগ্রায়নের আয়োজন
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আহাদুজ্জামান মো. আলী এবং অধ্যাপক আখতার সুলতানার বিদায় উপলক্ষে অগ্রায়নের আয়োজন করেছে বিভাগটি।


শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এ অগ্রায়নের আয়োজন করা হয়।


বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েনের সভাপতিত্বে এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানসহ বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌস।


অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন বলেন, এ বিভাগে সাধারণত 'বিদায়' কথাটি ব্যবহার করি না। এক্ষেত্রে আমরা 'অগ্রায়ন' শব্দটি ব্যবহার করি। আজ আমাদের দুজন অত্যন্ত সম্মানিত শ্রদ্ধেয় শিক্ষককে সম্মাননা জানাচ্ছি। তারা ৩৫ বছর ধরে আমাদের পড়িয়েছেন, আমাদের দেখার চোখকে সৃষ্টি করেছেন।


কাবেরী গায়েন বলেন, অধ্যাপক আখতার সুলতানা সব সময় বলতেন, শিক্ষকতা কোনো খন্ডকালীন বিষয় না। এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব। এর মাধ্যমে তিনি শুধু এই বিভাগের বর্তমান, সাবেক ও অনাহত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অমোঘ বাণী। আহাদুজ্জামান স্যার আমাদের 'ক্রিটিক্যাল স্কুল'সহ অনেক কিছু শিখিয়েছেন, যা আমি এখনো মেনে চলি।


তিনি আরো বলেন, এই বিভাগ থেকে কেউ কখনো বিদায় নেয় না। তারা জীবনে সামনের দিকে অগ্রসর হন এ কারণেই আমরা 'বিদায়' শব্দটি ব্যবহার না করে 'অগ্রায়ন' শব্দটি ব্যবহার করি। স্যার ও ম্যাম সারাজীবন যে শিক্ষা দিয়েছেন তা আমাদের জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে। এসময় তিনি এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত সকলকে ধন্যবাদ জানান।



সারাবাংলা ডট নেটের সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, আহাদ স্যার সম্পর্কে বলতে গেলে স্বামী বিবেকান্দের একটি কথা মনে পড়ে। তিনি বলেছিলেন, 'বিধাতা আকাশ থেকেও আসেন না বা মাটি ফুঁড়েও আসেন না। ঈশ্বর মানুষের মাঝেই বিরাজ করে।' আহাদ স্যারও এমন একজন মানুষ। আমি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর এক অনুষ্ঠানে তিনি আমাদের সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলেছিলেন। যা এখন আমরা বুঝতে পারি। তিনি একজন সুন্দর মানুষ, সুন্দর মনের মানুষ।


তিনি বলেন, আখতার সুলতানা ম্যাম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন একজন শিক্ষক যিনি কোনো ধরণের শিক্ষক রাজনীতি না করে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি আমাদের মায়ের মতোই স্নেহ করতেন। আমি তাদের দুইজনের দীর্ঘায়ু কামনা করছি।


সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান বলেন, অবসরগ্রহণ করা মানে হলো খাঁচা থেকে মুক্ত হওয়া। এতদিন ধরে চলতে থাকা অনুশাসন থেকে মুক্ত হওয়া। যেহেতু আখতার সুলতানা ও আহাদুজ্জামান খাঁচা থেকে মুক্ত হচ্ছেন। এখনো যেহেতু তারা আর খাঁচায় বন্দী নেই, তারা এখনো আরো বেশি কিছু দেশকে দিতে হবে।


অধ্যাপক আখতার সুলতানা বিভাগের ছাত্র শিক্ষকদের লক্ষ্য করে বলেন, শিক্ষক ও ছাত্র আমাদের একই গোল। সহায়তা ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক দ্বারা এটা অর্জন করা যায়। কেউ আমাদের সম্মান করবে এটা নয়, সম্মান অর্জন করতে হয়। ছাত্র ছাত্রীরা আমাদের ছেলে- মেয়ের মতো। আমরা সব সময় তাদের পাশে থাকতে হবে। তাদের সমস্যাগুলো বুঝতে হবে, প্রয়োজনে এগিয়ে যেতে হবে। এছাড়া জোর করে সম্মান আদায় করা যায় না। আজকে তিন দশক পূর্বে যাদের পড়িয়েছি, তারাও এখানে আসছে। এর চেয়ে বড় সম্পর্ক ও শ্রদ্ধাবোধ আর কি হতে পারে। এই বিভাগে চাইলেও আমি আউট হবো, আমি আছি সব সময় তোমাদের পাশে।


অধ্যাপক আহাদুজ্জামান বলেন, আমি নিজেকে শিক্ষক হিসেবে মনে করি না। আজীবন ছাত্রই রয়ে গেছি। আমি খুব শিক্ষক সুলভ ছিলাম না। আমি অনেকদিন বটতলায় ক্লাস নিয়েছি, মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদের সঙ্গে গল্প করেছি। সুতরাং আমি কখনোই শিক্ষকসুলভ ছিলাম না। শেখাটা এখনো আমার অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শেখাতে গিয়ে আমি অনেক কিছু শিখেছি, শিখছি।


অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। দুই শিক্ষককে উত্তরীয় পরিয়ে দেন কাবেরী গায়েন। তাদের একগুচ্ছ বেলীফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বিভাগের প্রভাষক তাহমিনা হক দিনা ও মো. আসাদুজ্জামান কাজল। তাদের প্রীতি উপহার দেন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহমেদ ও ড. গীতিআরা নাসরীন। তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মফিজুর রহমান ও কাবেরী গায়েন। অনুষ্ঠানে ২৩ টি প্রবন্ধ ও আহাদুজ্জামান মো. আলী ও আখতার সুলতানার দুটি সাক্ষাতকার সমৃদ্ধ 'অগ্রায়ন জার্নাল' উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


বিবার্তা/রাসেল/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com