ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব জমা সোমবার পর্যন্ত
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:২০
ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব জমা সোমবার পর্যন্ত
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা গঠনতন্ত্র সংশোধন করে যুগোপযোগী করতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো দাবি জানিয়েছে। আর এ জন্য ১৪ জানুয়ারি সোমবার পর্যন্ত ছাত্র সংগঠনগুলো লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারবে।


বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলোর এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে ১৩টি ছাত্র সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।


বৈঠক শেষে ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়েছিল। এরপর আর ডাকসুর কোনো নির্বাচন হয়নি। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিগগিরই ডাকসু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর, সেজন্য এই কমিটি কাজ করছে।


অধ্যাপক মিজানুর বলেন, আমরা ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করেছি। এখানে যেসব ছাত্র সংগঠন ক্রিয়াশীল রয়েছে, তারা তাদের বক্তব্য দিয়েছে। কোথায় কোথায় সংযোজন-বিয়োজন দরকার, তা কেউ কেউ লিখিতভাবে, কেউ মৌখিকভাবে জানিয়েছে। যেহেতু অনেকে দাবি করছে, তারা নিজেদের বক্তব্য বা প্রস্তাবনা উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার পর্যাপ্ত সময় পায়নি, তাই সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাত্র সংগঠনগুলোকে সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য লিখিত আকারে জমা দিতে পারবে।


এর আগে, ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ডাকসুর গঠনতন্ত্র বেশ আগে প্রণীত হয়েছিল। সর্বশেষ সংশোধন হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী করতে এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রের কোনো সংশোধনী প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে আজকের সভায় সিদ্ধান্ত হবে। এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র যাদের ভোটার বলে চিহ্নিত করবে, তারাই ভোটার হবে।


উপাচার্য বলেন, সবকিছুই স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হচ্ছে। ৩১ মার্চের মধ্যেই নির্বাচন করার পরিকল্পনায় আমরা অটল। সেভাবেই আমরা এগুচ্ছি।



ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রভোস্ট কমিটি সব হলে সহাবস্থান আছে বলে অবহিত করেছে। সব শিক্ষার্থীই ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করতে পারছে।


বৈঠকে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা নিজেদের সংগঠনের দাবিসমূহ তুলে ধরে। সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ থেকে ডাকসু নিয়ে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে, সেক্রেটারিয়েটের সংখ্যা বৃদ্ধি, নারী প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যাকেন্দ্রিক আলাদা সম্পাদকের পদ সৃষ্টি অন্যতম।


অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা ও ক্যাম্পাসে সকল সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেন সমান সুযোগ পায় সে বিষয়ে প্রস্তাব রাখা হয়।


বাম সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল করা (নিয়মিত) শিক্ষার্থীদের সদস্য রাখা, দীর্ঘদিন পরে নির্বাচন হচ্ছে বিধায় একটি নির্দিষ্ট সেশন পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দান, সভাপতির ক্ষমতা হ্রাস, এবং সেক্রেটারিয়েট বডির সদস্যদের ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নানা প্রস্তাবনা পেশ করে।


এর আগে, সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের লাউঞ্জে এই বৈঠক শুরু হয়। ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের অংশ হিসেবে ঢাবি কর্তৃপক্ষ ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধনের এই উদ্যোগ নিয়েছে। বৈঠকে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান, সদস্য অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক রহমত উল্লাহ, অধ্যাপক সুপ্রিয়া সাহা ও অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা উপস্থিত ছিলেন।


ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে ছিলেন ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ছাত্রদল ঢাবি শাখার মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দীকী, ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক তমা বর্মণ, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীরসহ ১৩টি ছাত্র সংগঠনের নেতারা।


বিবার্তা/রাসেল/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com