অবরুদ্ধ ঢাবি উপাচার্যকে উদ্ধার করলো ছাত্রলীগ
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৪৪
অবরুদ্ধ ঢাবি উপাচার্যকে উদ্ধার করলো ছাত্রলীগ
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলতে এলে তাকে অপদস্থ করেছে আন্দোলনকারী বাম সংগঠনের শিক্ষার্থীরা।


এ সময় এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ভিসির গায়ে হাত তোলার অভিযোগ ওঠে। ওই শিক্ষার্থীর নাম তানভীর আহমেদ। তিনি মৃৎশিল্প বিভাগে ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত।


আর এ ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে ছাত্রলীগ প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকা ভিসিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে।


মঙ্গলবার দুপুর থেকে নিজের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকার পর বিকাল পৌনে ৪টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ২০-২৫ জনের একটি দল তাকে মুক্ত করে নিয়ে যায়।


উপাচার্যকে উদ্ধারে আন্দোলনকারীদের উপর কয়েক দফা হামলা চালিয়ে তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।


এসময় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র মাসুদ আল মাহাদী, ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির এবং সমাজতান্দ্রিক ছাত্রফ্রন্টের প্রগতি বর্মনকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল শাখার নেতাকর্মীরা মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে গত ১৫ জানুয়ারির আন্দোলন কর্মসূচিতে ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের ‘নিপীড়নের’ প্রতিবাদে বর্তমানের ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দের’ ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়।


অধিভুক্তি সমস্যার সমাধান ছাড়াও নিপীড়নে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বহিষ্কার ও প্রক্টরের অপসারণসহ চার দফা দাবিতে গত সপ্তাহ থেকে এই আন্দোলন চালিয়ে আসছে তারা।


এদিন দুপুর ১২টায় উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে এসে অন্তত তিনটি ফটক একে একে ভেঙে বেলা দেড়টার দিকে উপাচার্যের দরজার সামনের করিডোরে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।


তিন ঘণ্টার বেশি অবরুদ্ধে থাকার পর বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বোর্ড অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজের একটি সভায় অংশ নিতে সিনেট ভবনে যেতে নিজের কার্যালয়ের পেছনের ফটক দিয়ে বের হন উপাচার্য; পথে উপাচার্যের চারপাশ ঘিরে অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।


এ সময় আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র মাসুদ আল মাহাদী উপাচার্যের কাছে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরে তা পূরণের দাবি জানান।


জবাবে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিকভাবে একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


জবাবে আন্দোলনকারীরা প্রক্টরের পদত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যাহারের দুটি দাবি তৎক্ষণাৎ ঘোষণা দিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তাদের ভাষ্য, এটার জন্য কোনো প্রক্রিয়ার দরকার নেই।


এর মধ্যেই বেলা পৌনে ৪টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসানসহ ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তারা উপাচার্যকে মুক্ত করে ফের তার কার্যালয়ে নিয়ে যান।



এসময় উপাচার্যের কক্ষের সামনের করিডোরে অবস্থান নেয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের রড নিয়ে তাড়া করে কয়েকজনকে মারধরও করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।


এরপর অবরোধকারীদের উপাচার্যের দরজা সামনে রেখে সরে গেলেও বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিভিন্ন হল থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের অবস্থানে হামলা চালায়।


হামলার পর উপাচার্য তার কার্যালয় থেকে সিনেট ভবনের দিকে যাওয়ার ফটক দিয়ে চলে যেতে চাইলেও সেখানে আরেকদল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর হামলার শিকার হয় আন্দোলনকারীরা।


ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া করলে প্রশাসনিক ভবনের ভেতর দিয়ে মূল ফটক হয়ে বেরিয়ে যেতে চান আন্দোলনকারীরা। কিন্তু ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া করে আন্দোলনকারীদের মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।


এসময় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


এছাড়া আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র মাহাদী, ছাত্র ফেডারেশন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির এবং সমাজতান্দ্রিক ছাত্রফ্রন্টের প্রগতি বর্মন ও ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হয়েছেন।


বার্তা/রাসেল/মৌসুমী/কাফী


>>ফটক ভেঙে ঢাবি ভিসির কার্যালয়ে অবস্থান, প্রক্টর অবরুদ্ধ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com