শিক্ষক আক্কাছ’র বহিষ্কারের দাবিতে বশেমুরবিপ্রবিতে আন্দোলন চলছে
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২২, ১৫:৪৯
শিক্ষক আক্কাছ’র বহিষ্কারের দাবিতে বশেমুরবিপ্রবিতে আন্দোলন চলছে
বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (সিএসই) সহকারী অধ্যাপক আক্কাছ আলীকে চাকরি থেকে বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এর আগে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়।


বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলনে নামে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।


তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জামিল রায়হান বলেন, ‘আমরা মনে করি, আক্কাছ আলী শিক্ষক হিসেবে থাকার সকল নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। তিনি যদি আমাদের বিভাগে আবার ফিরে আসেন, তাহলে আমাদের বিভাগের নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। যৌন হয়রানি ছাড়াও তিনি একাধিক দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন। যেই শিক্ষক নিজেই অসংখ্য অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন, শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি করেছেন; তিনি আমাদের কি শেখাবেন? আমরা নীতি নৈতিকতাহীন এমন কাউকে আর আমাদের শিক্ষক হিসেবে দেখতে চাইনা।’


উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের এপ্রিলে দুই শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির জেরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ৮ সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান আক্কাছ আলীকে।


পরবতীতে জানা যায়, দুই শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ছাড়াও একাধিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন আক্কাছ আলী। আক্কাছ আলীর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ উভয়ই ছিলো নিয়মবহির্ভূতভাবে। এমনকি তিনি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় নিজেই মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হয়ে বশেমুরবিপ্রবির সিএসই বিভাগ থেকে তার মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে মার্ক টেম্পারিং এর অভিযোগও রয়েছে।


এসকল অনিয়ম এবং অভিযোগ নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলে ২০১৯ এর ২১ নভেম্বর ফের ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এর পর ২ বছরের অধিক সময় পার হলেও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে এখনো এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসন।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক বলেন, ‘শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে। কিন্তু, এমন কিছু বিপথগামী শিক্ষকদের জন্যই আজ শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে, সমাজে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই বিপথগামী শিক্ষকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত, যাতে আর কখনোই এরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।’


এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব এবং সিএসই বিভাগের সভাপতি মো. সালেহ আহম্মেদ বলেন, ’তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে আমরা প্রায় দুই বছর পূর্বেই তদন্ত সম্পন্ন করে প্রমাণসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এছাড়া বিভাগের পক্ষ থেকেও আমরা একাধিকবার এ বিষয়টির একটি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু, প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. একিউএম মাহবুবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি রিজেন্ট বোর্ডের সভায় উত্থাপন করা হবে।


বিবার্তা/অহনা/জামাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com