কুবির লাইব্রেরি আধুনিকায়নে উপাচার্যের নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২০, ২১:২৮
কুবির লাইব্রেরি আধুনিকায়নে উপাচার্যের নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

দীর্ঘদিনের সঙ্কট আর নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি)কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। পর্যাপ্ত বইয়ের সঙ্কট, আসন সঙ্কট, আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবসহ নানা সমস্যা এখানে বিদ্যমান ছিল।


ফলে এখানে পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। এই সঙ্কটের সমাধানে শিক্ষার্থীরা দাবি জানালেও কোনো সমাধান হচ্ছিল না। তাদের আক্ষেপ ছিল কবে হবে লাইব্রেরির এসব সঙ্কটের সমাধান। অবশেষে তাদের সেই আক্ষেপের অবসান ঘটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিকে আধুনিকায়নে নানামুখী উদ্যোগ নিয়ে সেগুলো বাস্তবায়নও করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী।


জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী। যোগদানের পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির লাইব্রেরিকে প্রত্যাশিত উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিগত যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির জন্য বই, জার্নাল, রিপোর্ট, ই-রিসোর্স বৃদ্ধি করার পাশাপাশি অন্যান্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে ছাত্র-ছাত্রীদের লাইব্রেরিমুখী করার লক্ষ্যে ২০১৮ সাল থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়নও করেছেন।



এদিকে লাইব্রেরির বইয়ের সঙ্কট সমাধানে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালের শুরুতেই বই ক্রয়ের জন্য উদ্যোগ নেন উপাচার্য। গত দুই বছরে যথাযথ ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে OTM পদ্ধতিতে প্রায় ২৪ লাখ টাকার বই ক্রয় করা হয়। পাশাপাশি লাইব্রেরিতে বিদ্যমান ‘বঙ্গবন্ধু কর্ণারকে সমৃদ্ধ করার জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু’বিষয়ক বই সংগ্রহ করা হয়েছে।


আরো জানা যায়, প্রতি বছরের বই ক্রয়ের এ ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় বর্তমানে লাইব্রেরিতে প্রায় ৩০ হাজার বই রয়েছে। ফিজিক্যাল বইয়ের পাশাপাশি লাইব্রেরিকে ই-রিসোর্স দিয়ে সমৃদ্ধ করার জন্যে ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অধীনে ইউনিভার্সিটি ডিজিটাল লাইব্রেরী (UDL) এর সদস্যপদ নবায়ন করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ACM, Wiley, Emerald, JStore,IEEE নামক বিখ্যাত প্রকাশকদের ই-রিসোর্স সাবস্ক্রিপশানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে লাইব্রেরি থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা ব্যবহার করতে পারছে। ই-রিসোর্সগুলো সঠিকভাবে ব্যবহারের স্বার্থে ২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারি উপাচার্য লাইব্রেরিতে একটি‘ই-রিসোর্স সেন্টার’স্থাপন করেন। পাশাপাশি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে রাজস্ব খাত থেকে প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয় করে লাইব্রেরিকে সম্পূর্ণ শীতাতপকরণের (AC) ব্যবস্থা করা হয়।



শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিকে ডিজিটাল ও অটোমেটেড লাইব্রেরিতে উন্নীতকরণের উদ্যোগ নিয়েছেন উপাচার্য। তারই অংশ হিসেবে সম্প্রতি KOHA নামক Online Based Library Management Software (কাস্টোমাইজ) করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ডাটা সার্ভার ক্রয় করা হয়েছে। বর্তমানে লাইব্রেরিতে মজুত সকল রিসোর্স সমূহের ডাটা এন্ট্রির কাজ চলছে এবং শেষ পর্যায়ে আছে। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-শিক্ষকরা বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে লাইব্রেরিতে কি কি তথ্য আছে তা সহজেই খুঁজে নিতে পারবে এবং বই ইস্যূ-রিটার্নের কাজগুলো সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে অটোমেটেড পদ্ধতিতে সম্পাদন করতে পারবে।



এদিকে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি লাইব্রেরিকে পরিপূর্ণ অটোমেটেড করতে বিশ্ববিদ্যাল প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে RFID (Radia frequency Identification Technology ) প্রযুক্তি সংযোজন এবং এই প্রযুক্তি ব্যবহারের আনুষাঙ্গিক বিষয়ে উপাচার্য ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ এনে সকল বিভাগীয় প্রধানদের উপস্থিতিতে ভার্চূয়াল প্রেজেন্টেশান দেখেছেন।



এছাড়া বই পড়া ও জ্ঞানার্জনের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদেরকে উৎসাহিত করতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যেক বছর ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’যথাযথভাবে উদযাপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা এবং সকলের দাবি একটি স্বতন্ত্র লাইব্রেরি ভবন করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। যা ১৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার মেগা প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে করা হবে।



লাইব্রেরির উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বিবার্তাকে বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হচ্ছে লাইব্রেরি। এটি ভালো না হলে শিক্ষার আলো জ্বলবে কি করে ? অথচ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব নেয়ার সময় এখানের লাইব্রেরিকে অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় দেখলাম। তারপর নানামুখী উদ্যোগ নিয়ে লাইব্রেরির আধুনিকায়নে কাজ করেছি।


তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল সন্ধ্যার পরও লাইব্রেরি খোলা রাখা। তাদের সে দাবিও রেখে রাত ৮ টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা রাখার ব্যবস্থা করলাম। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে "ই লাইব্রেরি করেছি। সেখানে দেশ -বিদেশের খ্যাতনামা বইগুলো স্থান পেয়েছে।



কুবি উপাচার্য বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানের ১০ তলা ভবনের ১-৫ তলা লাইব্রেরির জন্য রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।


বিবার্তা/রাসেল/জাই

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com