৭ই মার্চের ভাষণ : অবিনাশী প্রেরণা
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০১৮, ০০:০৬
৭ই মার্চের ভাষণ : অবিনাশী প্রেরণা
প্রিন্ট অ-অ+

কবি নির্মলেন্দু গুণ লিখেছিলেন অসাধারণ একটি কবিতা : ''স্বাধীনতা, এ শব্দটি যেভাবে আমাদের হলো''। এ কবিতায় বিধৃত হয়েছে ১৯৭১ সালের একটি দিনের কাহিনী, যেদিন গোটা জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা একটি বিন্দুতে এসে মিলিত হয়েছিল। এ কবিতায় বর্ণিত হয়েছে একটি অমোঘ কণ্ঠস্বরের কথা, যে কণ্ঠস্বরের মধ্য দিয়ে মূর্ত হয়ে উঠেছিল এ দেশ ও জাতির হাজার বছরের সুপ্ত বাসনা।


আজ সেই দিন - ৭ই মার্চ। ১৯৭১ সালের এ অগ্নিঝরা দিনে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ারদী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্ঠ থেকে ধ্বনিত হয়েছিল অনাদিকাল থেকে চলে আসা শোষণ বঞ্চনা ও পরাধীনতা অবসানের ঘোষণা : ''আমাদের এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।''


মাত্র ১৮ মিনিটের একটি ভাষণ, কিন্তু কী তার তেজ, কী তার ব্যঞ্জনা! বঙ্গবন্ধু বললেন, ''ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।''


সারা দেশ জেনে গেল নেতা কী চান আর জনগণেরই বা কর্তব্য কী। নেতা বন্দী হলেন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে। কিন্তু জনতা তাতে একটুও বিভ্রান্ত হলো না। কারণ, নেতার ৭ই মার্চের ভাষণেই তারা বার্তা পেয়ে গেছে। অতএব গোটা জাতি ঝাঁপিয়ে পড়লো যুদ্ধে। প্রশিক্ষিত পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অসামরিক মানুষের এক অসম লড়াই। কিন্তু তাতে কী, তাদের কানে বাজছে এক মরণজয়ী মন্ত্র : ''যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।''


মুক্তিযোদ্ধা-জনতার মিলিত প্রতিরোধকে গুঁড়িয়ে দিতে উন্মত্ত হয়ে উঠলো শত্রু বাহিনী। তারা নির্বিচারে হত্যা করতে থাকলো মানুষকে, জ্বালিয়ে দিতে থাকলো গ্রামের পর গ্রাম, ধ্বংস করতে থাকলো অবকাঠামো। জবাবে মুক্তিযোদ্ধারাও বসে রইলো না। অল্পস্বল্প অস্ত্র আর সামান্য প্রশিক্ষণ নিয়ে তারাও গেরিলা কায়দায় ঝাঁপিয়ে পড়তে থাকলো হানাদার সেনাদের ওপর। তাদের প্রেরণা একটাই - বঙ্গবন্ধুর সেই অমোঘ বাণী : ''যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।''


বাঙালি জাতি ও তাদের মুক্তিযোদ্ধা সন্তানেরা সত্যিই শত্রুর মোকাবেলা করেছিল। নয় মাসের মাথায় শত্রু বাহিনী লেজ গুটিয়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। আর এর মধ্য দিয়েই ইতিহাসে প্রথম বারের মতো স্বাধীনতা অর্জন করেছিল এ জাতি। মুক্তির এ লড়াইয়ে আমাদের অনির্বাণ প্রেরণা ছিল ৭ই মার্চের অবিনাশী ভাষণ, যে ভাষণ মিশে আছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সাথে।


একটা সময় এসেছিল, যখন আমাদেরকে বঙ্গবন্ধু, ৭ই মার্চ, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা - সবই ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলেছিল। সেই অমারজনীর আজ অবসান ঘটেছে, এসেছে সত্যসাক্ষ্যের আলোকপ্রভা। আজ বঙ্গবন্ধু, ৭ই মার্চ, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সবকিছুর ওপর থেকে অন্ধকারের পর্দা অপসৃত হয়েছে। শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, ঐতিহাসিক ভাষণটিকে ''বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য'' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো।


এভাবেই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ হয়ে উঠেছে সমগ্র বিশ্ববাসীর। অন্যায়ের বিরুদ্ধে, দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জনতার সংগ্রামে, মুক্তির লড়াইয়ে এ ভাষণ বাঙালিকে এবং সমগ্র মানবজাতিকে চিরকাল প্রেরণা দিয়ে যাবে।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com