হত্যা নয়, আজ সত্যাগ্রহ
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২১:০৭
হত্যা নয়, আজ সত্যাগ্রহ
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল যখন বন্যায় ভাসছে, তখন এদেশে এসেছে ঈদ, যে ঈদ মহান ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর।


আমাদের প্রতিবেশী মিয়ানমার নামের দেশটির রোসাং (এখন রাখাইন) রাজ্যের ভূমিপুত্ররা যখন কেবল ধর্মবিশ্বাসের কারণে নিজ দেশে নির্যাতিত, নিহত, ধর্ষিত এবং সাত পুরুষের ভিটেমাটি থেকে উৎখাত হয়ে ঝাঁক বাংলাদেশের দিকে ছুটে আসছে, তখন বাংলাদেশে এসেছে ঈদ।
পবিত্র ঈদের আনন্দ এবং সর্বস্বহারা মানুষের বুকফাটা ক্রন্দনরোলের মধ্য দিয়েই এবার আমাদের উদযাপন করতে হবে পবিত্র ঈদুল আযহা।


আল্লাহ পাকের প্রতি অপার আনুগত্য এবং তারই রাহে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এক ঐতিহাসিক
ঘটনার স্মরণে মুসলিম বিশ্বে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে আসছে। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্শের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রতি বছর পশু কোরবানি দিয়ে আসছে।


আল্লাহ’র নবী হযরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানির জন্য মহান আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পেয়েছিলেন। পরপর দুবার তিনি পশু কোরবানি করেন। তৃতীয়বার একই নির্দেশ পেয়ে তিনি অনুধাবন করেন, পুত্র ইসমাইলের চেয়ে প্রিয় তার কেউ নেই। আল্লাহপাক তাকেই কোরবানি করতে নির্দেশ দিচ্ছেন। হযরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে আল্লাহর নির্দেশ জানালেন। শিশু ইসমাইল (আ.) নির্ভয় চিত্তে সম্মতি দিয়ে পিতাকে আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পালন করতে বলেন। কোরবানি করতে উদ্যত হযরত ইব্রাহিম (আ.) পুত্রস্নেহে যেন হৃদয় দুর্বল না হয়ে পড়েন, সে জন্য তিনি চোখ বেঁধে পুত্রের গলায় ছুরি চালিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলার অপার কুদরতে এ সময় হযরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়।


কোরবানি দেয়া আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য ওয়াজিব। সাধারণত উট, দুম্বা, গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া এসব পশুই কোরবানি করার বিধান রয়েছে। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে সমস্ত লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ, স্বার্থপরতা তথা ভেতরের পশুত্বকে ত্যাগের মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধি লাভের ভেতরেই রয়েছে কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কবিতার ভাষায় যাকে বিধৃত করেছেন – ওরে হত্যা নয় আজ, সত্যাগ্রহ, শক্তির উদ্বোধন।


বাস্তবিকই কোরবানি শুধু পশুহত্যা নয়, এ হলো মনের পশুকে হত্যারই এক প্রতীকী রূপ। যুগ যুগ ধরে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা একথা বলে আসছেন। তবুও সমাজে মানুষরূপী একদল অমানুষ নানা অঘটন ঘটিয়ে চলেছে। এসব দেখে ও শুনে মন ভারাক্রান্ত হয়। তবুও বলি, পবিত্র এই ঈদে মানুষের মাঝে সত্যিকারের মানবিক চেতনার উন্মেষ ঘটুক, সমাজে নেমে আসুক শান্তির অমিয় বারি।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com