বাঙালির প্রেরণার নন্দিত দিনক্ষণ পহেলা বৈশাখ
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৭, ০৫:২২
বাঙালির প্রেরণার নন্দিত দিনক্ষণ পহেলা বৈশাখ
প্রিন্ট অ-অ+

শুভ বাংলা নববর্ষ, স্বাগতম ১৪২৪। প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্য এক আশ্চর্য সুন্দর উপলক্ষ পহেলা বৈশাখ। কল্যাণ ও নতুন জীবনের শ্বাশত প্রতীক। নববর্ষে ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’


মহাকালের রথে চড়ে প্রাকৃতিক নিয়মে চিরনতুনের কেতন উড়িয়ে আবার এলো বৈশাখ।এটা বাঙালির প্রাণের সংস্কৃতির নববর্ষ। এর সঙ্গে বিদায় হলো ঘটনাবহুল আরও একটি বছরের। রঙিন উষার আভা ছড়িয়ে শুরু হলো বছর ১৪২৪ বঙ্গাব্দ। পহেলা বৈশাখ আবহমানকাল ধরে বাঙালির প্রিয় দিন।



পুবের আকাশে আজকের মনোরম সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রভাত নতুন প্রাণের নিপাট বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে বাঙালির ঘরে ঘরে। ধর্মবর্ণনির্বিশেষে দেশজুড়ে আজ মানুষের ঘরে ঘরে জেগেছে নতুন প্রাণের নব স্পন্দন। আজ শুরু হলো নতুন আশা ও উদ্দীপনার নতুন বছর। নতুন বছর সবার জন্য মঙ্গলময় হয়ে উঠুক- এই প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে আজকের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে। আবহমান কাল ধরে এই নববর্ষ বাঙালির জীবন-সংস্কৃতির অঙ্গ।


বিশ্বের অনেক দেশের মতো আমাদের দেশেও নাগরিক জীবনের এবং সরকারি কর্মকাণ্ডের সবকিছু চলে ইংরেজি ক্যালেন্ডার ধরে। তারপরও বাঙালির গভীর মানসে বাংলা নববর্ষের স্থান অনেক অনেক উঁচুতে। এ দেশের কৃষক-শ্রমিক, জেলে-তাঁতি, কামার-কুমারসহ নানা পেশার মানুষ যুগ যুগ ধরে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে আসছে আনন্দ-উৎসবে। প্রযুক্তির উৎকর্ষের পরও ব্যবসায়ীরা হিসাবের নতুন খাতা-হালখাতা খোলেন বৈশাখের প্রথম দিনে। মিষ্টান্নের আয়োজনও থাকে। নববর্ষ উপলক্ষে দেশে গ্রামেগঞ্জে নদীর পাড়ে, খোলা মাঠে কিংবা বটগাছের ছায়ায় মেলার আয়োজন করা হয়। দোকানিরা মুড়ি, মুড়কি, পুতুল, খেলনা, মাটির তৈরি হাঁড়িপাতিল, বাঁশিসহ বাঁশ-বেত-কাঠ-মাটির তৈরি বিভিন্ন পসরা নিয়ে বসেন।


আমাদের নাগরিক জীবনেও নববর্ষের আবেদন কম নয়। স্বাধীনতা পরবর্তীকাল থেকেই ছায়ানটের উদ্যোগে রমনার বটমূলে বৈশাখের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশাখ বরণ উৎসব শুরু হয় মহাসমারোহে। ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের চারু কলার উদ্যোগে বৈশাখী র‌্যালির আয়োজন করা হয়। রঙবেরঙের মুখোশ পরে নানা সাজে সজ্জিত হয়ে র‌্যালিতে অংশ নেয় সকল শ্রেণীর মানুষ।



বৈশাখ আসে আমাদের প্রাণের উৎসব হয়ে। আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলা সনের উৎপত্তির সঙ্গে জড়িত এই দেশের সংস্কৃতির জীবনধারা এবং প্রকৃতির অবস্থার সঙ্গে ফসলের মৌসুম এবং খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন তারিখ তথা পঞ্জিকার প্রবর্তন হলেও এ নববর্ষ উৎসব বাঙালির চিন্তা-চেতনার সঙ্গে মিশে গেছে। বাংলা নববর্ষ অসুর দূর করে সুর সঙ্গীতের, মেলা ও মিলনের আনন্দ ও উৎসবের, সাহস ও সংকল্পের প্রেরণা যোগায়। দুঃখ-গ্লানি, অতীতের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে তাই এগিয়ে যাওয়ার শপথ নেয়ার দিনও পহেলা বৈশাখ। দেশের কল্যাণে সকলেই এক কাতারে শামিল হয়ে এগিয়ে যাওয়ার অগ্নিশপথ নেয়ার দিনও এটি।


নতুন বছরে আমাদের চেতনা হোক শাণিত, সম্প্রীতির বন্ধন হোক আরও সুদৃঢ়। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি মুছে প্রাণময় নতুন উদ্যমে পথযাত্রা শুরু হোক নতুন বছরে। প্রতিটি ভোরেই আমাদের উচ্চারণ হোক- নতুন সূর্য, নতুন প্রাণ; নতুন সুর, নতুন গান; নতুন উষা, নতুন আলো; নতুন বছর কাটুক ভালো; কাটুক বিষাদ, আসুক হর্ষ, শুভ হোক নববর্ষ।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com