প্রতিবেশীর গুরুত্ব
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৭, ১৬:২২
প্রতিবেশীর গুরুত্ব
প্রিন্ট অ-অ+

একটা প্রবাদ আছে, স্ত্রী বা স্বামী বদল করা যায়, কিন্তু প্রতিবেশী বদল করা যায় না। এ কথার মানে অবশ্য এই নয় যে, স্ত্রী বা স্বামী সহজে পরিবর্তনযোগ্য। বরং বোঝাতে চাওয়া হয়েছে যে, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক দাম্পত্যসম্পর্কের চাইতেও অপরিবর্তনীয়। কারণ, সম্পর্ক অম্ল-মধুর যেমনই হোক, প্রতিবেশী তো তার আপন ভিটেমাটিতেই থাকে, অন্যের সঙ্গে সম্পর্কের কথা ভেবে সে তো আর ভিটেমাটি ছেড়ে যাবে না!


কথাগুলো আসছে এই অমোঘ বাস্তবতার নিরীখে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদ্যসমাপ্ত ভারত সফরের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে।


চার-দিনের ভারত সফর শেষে সোমবার দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ঐতিহাসিক সম্মান দেখিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে হাজির হন তিনি। আর সেদেশের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকার আমন্ত্রণ জানান।


এভাবে প্রতিবেশীকে বড় গুরুত্বই দিয়েছে ভারত। অবশ্য একথা অস্বীকার করলে অকৃতজ্ঞতা হবে যে, সেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকেই ভারত নানাভাবে আমাদের পাশে আছে, যদিও নানা কারণে সময়ে সময়ে এ সম্পর্কের উত্থানপতন ঘটেছে। সেটাই তো স্বাভাবিক। তাই বলে আমরা কি আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী এই দেশটিকে বেমালুম অস্বীকার করতে পারি, কিংবা তারা আমাদেরকে?


সেটা হয় না। যদিও অতীতে বাংলাদেশেরই কোনো কোনো সরকারের আমলে দু'দেশের সম্পর্ক অপ্রত্যাশিতভাবে নিম্নতম পর্যায়ে নেমে আসে। তবে এসবই অতীতের কথা। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উদার গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই দু'দেশের সম্পর্কে আসে কাঙ্ক্ষিত গতি, যার প্রতিফলন আমরা গত সাত বছর ধরেই যেমন দেখেছি, তেমনই দেখলাম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরকালেও।


এই সফরকালে প্রতিরক্ষা থেকে বেসামরিক পরমাণু ক্ষেত্র - সব মিলিয়ে দু’দেশের মধ্যে অন্তত ২২টি চুক্তি সই হয়েছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি বাংলাদেশের জন্য সহজ শর্তে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। ৫০ কোটি ডলার ঋণ দেয়া হবে সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য। একই সময়ে দুই প্রধানমন্ত্রী চালু করেছেন কলকাতা ও খুলনার মধ্যে একটি ট্রেন ও বাস সেবা।


প্রশ্ন উঠতে পারে, বহুলপ্রত্যাশিত তিস্তার পানিবন্টন চুক্তি তো হয়নি। এটা অবশ্যই হতাশার। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে, কারো প্রত্যাশামাফিক সবকিছু সবসময় হয় না। তিস্তা চুক্তি হয়নি - এতে আপাত হতাশার দিক থাকলেও আশার দিক হলো, ভারত কিন্তু এই চুক্তির বাস্তবতা মেনে নিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বাস দিয়েছেন, এই চুক্তি হবে। সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই আশ্বাসের পর আমরা ধরে নিতে পারি যে, ভারত এই চুক্তির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। সুতরাং আজ হোক, কাল হোক, তিস্তা চুক্তি হবেই।


দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে যে কথা বলেছেন, তাতেও আমরা আশ্বস্ত হওয়ার উপাদান খুঁজে পাই। তিনি বলেছেন, আমি তো কিছু চাইতে যাইনি, বন্ধুত্ব চেয়েছিলাম, বন্ধুত্ব পেয়েছি।


প্রতিবেশী যদি বৈরি না হয়ে বন্ধু হয় তাহলে দেনাপাওনার বিষয়গুলো আর খুব বেশি জটিল থাকে না, বরং বন্ধুত্বের নিয়মে আপনাতেই মীমাংসা হয়ে যায়।


সত্যি বলতে কী, এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের ভিত আরও মজবুত হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন দরকার যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে এই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখা। ভারতের মতো বৃহৎ প্রতিবেশী এবং ঐতিহাসিক মিত্র দেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই সব অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে পৌঁছতে হবে। ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে, অপপ্রচার চালিয়ে আমাদের কারো কোনো লাভ হবে না।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com