সব রন্ধ্র বন্ধ হোক
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০১৭, ১৮:১২
সব রন্ধ্র বন্ধ হোক
প্রিন্ট অ-অ+

মঙ্গলবার দুপুরেই সাধারণ মানুষ জেনে যায় অমঙ্গলের বার্তাটি - পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা বিনা নোটিশে অনির্দিষ্ট কালব্যাপী ধর্মঘট শুরু করেছে। শুধু জেনেই শেষ হয়নি, দিনশেষে অফিসফেরতা লাখ লাখ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ সয়ে সেই ধর্মঘটের মূল্যও শোধ করতে হয়েছে।


প্রশ্ন হচ্ছে, এই দুর্ভোগ কি যাত্রীদের প্রাপ্য ছিল?


মালিক-শ্রমিকদের এই ধর্মঘটের কারণ ছিল আদালতের দুটি রায়। পৃথক দু'টি সড়ক দুর্ঘটনার একটিতে চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও মিডিয়াব্যক্তিত্ব মিশুক মুনিরসহ বেশ ক'জন নিহত হন। এ ঘটনায় ঘাতক গাড়ির চালককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। অপর ঘটনায় এক নারীকে ইচ্ছে করে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার দায়ে এক ট্রাকচালককে দেয়া হয় মৃত্যুদণ্ড।


এতেই ক্ষেপে যায় পরিবহন শ্রমিকরা। তাদের কথা, সড়ক দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যু হলেও দায়ী চালককে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া যাবে না। তাদের এক নেতা বলেছেন, বড়জোর তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া যেতে পারে।


আদালত পরিবহন শ্রমিক শ্রমিক ও তাদের নেতাদের কথা অনুযায়ী রায় দেননি। অতএব, শুরু হোক ধর্মঘট!


প্রশ্ন হলো, এই মামলা তো অনেক দিন ধরেই চলছে, ''সড়ক দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যু হলেও দায়ী চালককে বড়জোর তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া যেতে পারে'' - এই যুক্তিটি অবগত করতে নেতারা কি কখনো আদালত পর্যন্ত গিয়েছিলেন?
আরো প্রশ্ন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সংঘশক্তি প্রদর্শন যে সুস্পষ্ট আদালত অবমাননা - এই সহজ কথাটা কি তারা জানতেন না?


জানতেন না - একথা মোটেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। জেনেশুনেই তারা আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন, জনগণকে জিম্মি করেছেন এবং এভাবে মেতে উঠেছিলেন এক বিপজ্জনক খেলায়।


আশার কথা, সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে খেলাটি আর বেশিক্ষণ চলতে পারেনি। সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বেআইনি ধর্মঘটটি অবশেষে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। জনমনে নেমে এসেছে স্বস্তি।


মাথার ওপর থেকে এই দুর্বহ গুরুভার যথাশিঘ্র অপসারণে একমত হওয়ায় উভয়পক্ষকেই জানাই অভিনন্দন। কিন্তু তারপরেও কথা থেকে যায়। আমরা দ্বিধাহীনভাবে বলতে চাই, এরকম বেআইনি ও বিপজ্জনক খেলায় মেতে ওঠার দুঃসাহস ভবিষ্যতে আর কেউ যেন দেখাতে না পারে, সে ব্যাপারে এখনই সজাগ ও সক্রিয় হতে হবে।


সব মহলকে এ কথাটা ভালো করে জানিয়ে ও বুঝিয়ে দিতে হবে যে, আইন আইনই আর আদালতও আদালতই। কোনো আইন কারো স্বার্থের প্রতিকুলে গেলে তার যুক্তিসঙ্গত সংশোধন অবশ্যই করা যেতে পারে, কিন্তু তার জায়গা নিশ্চয়ই রাজপথ নয়। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধেও আপিলের বিধান আছে। তা না করে কোটি কোটি মানুষকে জিম্মি করে রায় বদলানোর চেষ্টা! এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, হতে পারেও না।


যারাই এরকম কোনো অগ্রহণযোগ্য পথে হাঁটতে চাইবেন তাদের ব্যাপারে সচেতন হওয়া সকলের কর্তব্য - জনগণেরও, সরকারেরও। সরকারের আরো কর্তব্য হলো, আর কেউ যেন কখনো এরকম কোনো বিপজ্জনক পথে পা বাড়ানোর চিন্তাও করতে না পারে, তার সব রন্ধ্রপথ বন্ধ করে দেয়া।


আশা করি, পরিবহন ধর্মঘট অবসানের স্বস্তিতে আমরা আমাদের দায়িত্ব বিস্মৃত হবো না।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com