সরকার কেন এ দায় নেবে?
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৮:৪৯
সরকার কেন এ দায় নেবে?
প্রিন্ট অ-অ+

কবি লিখেছেন, 'ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালিকণা, বিন্দু বিন্দু জল/গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল।' কথাটার সত্যতা নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের দৈনন্দিন অসংখ্য কাজের মধ্য দিয়েই গঠিত হয় আমাদের জীবন, নিরূপিত হয় আমাদের সাফল্য-ব্যর্থতা। এটা যেমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে সত্য, তেমনি সমষ্টির ক্ষেত্রেও। তাই কোনো ভুল বা বিচ্যুতি, তা যতোই ছোট হোক না কেন, এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।


অথচ অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের ঘুষের টাকাসহ ধরা পড়ে জেলখাটা এক সরকারি কর্মকর্তার কোনো রকম সাজা তো হয়ইনি, উল্টো তাকে এখন পদোন্নতি দিয়ে পুরস্কৃত করার তোড়জোড় চলছে।


খবরটি ছাপা হয়েছে ৭ ফেব্রুয়ারি দৈনিক যুগান্তরে। শেষ পাতায়, সিঙ্গল কলামে অর্থাৎ একেবারে ছোট করে।
খবরে বলা হয়, পাসপোর্ট কর্মকর্তা আবু সাইদ সিলেট আঞ্চলিক অফিসে সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত অবস্থায় প্রকাশ্যে মোটা অংকের ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়েন। আটকের পর তার বিরুদ্ধে মামলা করে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো। আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তিনি সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত হন। কিন্তু বেশিদিন তাকে জেলে থাকতে হয়নি। অজ্ঞাত কারণে এ সংক্রান্ত মামলাও মাঝপথে আটকে যায়। ফলে সবাইকে অবাক করে তিনি জেল থেকে ছাড়া পান এবং দু’বছরের মাথায় সদর্পে চাকরিতে পুনর্বহাল হন। এরপর কয়েকটি প্রাইজপোস্টিং ছাড়াও তিনি উপপরিচালক পদে পদোন্নতি পান। সূত্র বলছে, এমন বিতর্কিত এই কর্মকর্তাকে এখন পরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়ার তোড়জোড় চলছে। সৌভাগ্যবান ও প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার নাম আবু সাইদ। বর্তমানে তিনি পাসপোর্ট ও বহির্গমন অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে উপপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে 'দায়িত্ব পালন' করছেন।


খবরটি যতো ছোট করেই ছাপা হোক, এর তাৎপর্য কিন্তু বিশাল। আমাদের সমাজ এবং মানুষ হিসেবে আমরা কতোটা নিচে নেমে গেছি, এই 'ছোট' খবরটির মধ্যেই তার একটি বিশাল প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।


তবে আমাদের আলোচনা কিন্তু এই সমাজতাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে নয়, আমাদের কথা সোজাসাপ্টা, প্রশ্নটাও অতি সরল : চিহ্নিত দুর্নীতিবাজকে পুনর্বাসন ও পুরস্কৃতকরণ প্রক্রিয়ার দায় কে নেবে?


আমাদের সমাজের একটা 'ঐতিহ্য' হচ্ছে, যা কিছু ঘটুক, কেষ্টা ব্যাটাই চোর। এক্ষেত্রে 'কেষ্টা' হতে হতে হয় অবশ্যম্ভাবীভাবে সরকারকে। সব দোষ সরকারের - একথা ভেবে ও বলেই আমরা খালাস!


কিন্তু 'আমরা' স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে খালাস পেয়ে গেলেও সরকার বেচারা কিন্তু খালাস পায় না, তাকে কোনো-না-কোনো ফর্মে এর মাশুল গুণতে হয় - জনপ্রিয়তা হারিয়ে অথবা নির্বাচনে ভালো না করে।


অথচ বাস্তবতা হলো, দুর্নীতিবাজকে পুনর্বাসন ও পুরস্কৃত করার জন্য সরকারের কোনো আইন নেই। তারপরেও দুর্নীতিবাজরা পুনর্বাসিত হচ্ছে, এমনকী পুরস্কৃতও হচ্ছে। আর তার দায় নিতে হচ্ছে সরকারকে।


আমাদের বক্তব্য হলো, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজকে তো বটেই, পাশাপাশি যে বা যারাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত অপপ্রক্রিয়ায় জড়িত, তাদের সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। দুর্নীতিবাজদের সুস্পষ্ট বার্তা দেয়া হোক, দুর্নীতি করে রেহাই পাওয়ার দিন শেষ।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com