ফেসবুকে প্রশ্ন বিক্রি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম মামলা
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:৩৩
ফেসবুকে প্রশ্ন বিক্রি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম মামলা
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ভাইবার, ইমো, হোয়াটস্অ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র বিক্রি করে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে একটি চক্রে। এই অভিযোগে ওই চক্রের পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।


আটকদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইন হওয়ার তিনদিনের মাথায় এই মামলা করা হলো। এটাই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম মামলা।


বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এমন তথ্য জানিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম। রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল।


নজরুল ইসলাম বলেন, গত ৫ অক্টোবর সারা দেশে মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ওই পরীক্ষার আগে একটি চক্র ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শতভাগ কমনের নিশ্চয়তায় টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র বিক্রি করেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে মো: গাজী কাওছার (১৯) ও মো: সোহেল মিয়া (২১) নামের দুইজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দু’টি মোবাইল ফোন ও বিকাশ সিম রেজিস্ট্রেশন করার খাতা জব্দ করা হয়।


তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে কাওসার জানায়, সে তার ভূয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২০১৮ সালের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাওয়া যায় বলে প্রচার চালায়। আর তার এমন প্রচারে আকৃষ্ট হয়ে ভর্তিচ্ছু ছাত্ররা তার ফেসবুকে যোগাযোগ করে। পরবর্তীতে ভর্তির প্রশ্নপত্র নিতে আগ্রহীদের নিয়ে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ভাইবার, ইমো, হোয়াটস্অ্যাপে গ্রুপ তৈরি করে। এক পর্যায়ে তারা ওই গ্রুপগুলোর সদস্যদের কাছ থেকে বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করে।



তিনি আরো বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে সে ব্যর্থ হয়ে পূর্ববর্তী বছরের পরীক্ষার প্রশ্ন এবং বাজারে বিক্রি বিভিন্ন সাজেশন বই থেকে নিজে প্রশ্ন বাছাই করে মেসেঞ্জার গ্রুপে প্রশ্নপত্র দিয়ে প্রতারণা করে। এ সময় কাওসারকে তার বন্ধু সোহেল মিয়া অন্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে অপরাধ করতে সহায়তা করে। তাই তাকেও আটক করা হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ বলেন, কাওছার আগে প্রশ্নপত্র পেলেও বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার কারণে প্রশ্নপত্র না পাওয়ায় এভাবে অনলাইনে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়েছে।


এদিকে আটক কাওছার ও সোহেলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর বাড্ডার আলিফনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো তিনজনকে আটক করা হয়। তারা হলো- মো. তারিকুল ইসলাম শোভন (১৯), মো. রুবাইয়াত তানভির ওরফে আদিত্য ও মো. মাসুদুর রহমান ইমন। তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন সেট এবং দুটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। পরে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।


সিআইডির এই কর্মকর্তা আরো বলেন, শোভন suzon.mahmud17 নামে ফেসবুকের আইডি খুলে মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র টাকার বিনিময়ে দিতে পারবে বলে প্রচারণা চালায়। তার এই প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে অনেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল এ যোগাযোগ করে এবং পরবর্তীতে বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করে তাদের সাথে প্রতারণা করে। একাজে তাকে কয়েকজন সহযাগিতা করে। তবে তাদের মধ্যে রুবাইয়াত ও ইমনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের জন্য অভিযান অব্যহত রয়েছে।


বিবার্তা/খলিল/জাকিয়া


>>মেডিকেল প্রশ্নফাঁসকারী চক্রের ৫ সদস্য আটক

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com