ছোট ভাই আর স্ত্রীর পরিকল্পনায় খুন!
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:২২
ছোট ভাই আর স্ত্রীর পরিকল্পনায় খুন!
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের পরিকল্পনায় হত্যার শিকার হলেন মনিরুজ্জামান মনির। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এমন তথ্য জানান গুলশান জোনের ডিসি মোস্তাক আহমেদ।


তিনি জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুল এলাকা থেকে মনিরুজ্জামান মনির ওরফে মুন নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় তার ছোট ভাই আজমল হক মিন্টু ও স্বজনরা লাশ শনাক্ত করে। পরে ছোট ভাই মিন্টু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বাড্ডা থানায় মামলা করেন। এ মামলায় ভিকটিমের ছোট ভাইসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন- ভিকটিমের ছোট ভাই আজমল হক মিন্টু, ভিকটিমের স্ত্রী কাজল রেখা, কিলার আব্দুল মান্নান, শাওন, ফাহিম।


ডিসি মোস্তাক আহমেদ জানান, দেবর-ভাবির দীর্ঘ দিনের অবৈধ সম্পর্কের মাঝে কাটা হয়ে ছিলেন মনির। তাকে সরানোর জন্যই হত্যার পরিকল্পনা করেছিল তারই ছোট ভাই আজমল হক মিন্টু ও স্ত্রী কাজল রেখা। হত্যার জন্য তারা ভাড়া করেছিল ঢাকার তিনজন ভাড়াটে খুনিকে!


তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী- মিন্টু তার বড় ভাই মনিরকে বিয়ের কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসে। গত ৭ সেপ্টেম্বর মানির গাবতলী নামলে তাকে নিয়ে ফাহিম ঘুরে বেড়ায়। সন্ধ্যার পর বাড্ডায় আসে তারা। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে আসার পর ফাহিম পিছন দিক থেকে গলায় ছুরির আঘাত করলে তার গলার রগ কেটে যায়। পরে মান্নান তার গলায় আরেকটা আঘাত করে। তারপর তার পেটে ছুরির আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে শাওন।


পরে ৮ সেপ্টেম্বর সাঁতার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পশ্চিম পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই দিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মৃতের লাশ শনাক্ত করে ছোট ভাই আজমল হক মিন্টু এবং সে খুনের দায় এড়ানোর জন্য নাটক সাজিয়ে বাড্ডা থানায় একটি মামলাও করে!


হত্যাকাণ্ডের পরে পুলিশ ভিকটিমের স্ত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। কে কে এর সাথে জড়িত সব কিছু বলে দেয়। তার তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামলার অন্যতম আসামি ছোট ভাই আজমল হক মিন্টুসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে।


ডিসি মোস্তাক জানান, ভিকটিমের ছোট ভাই ঢাকার কড়াইল বস্তিতে থাকে। তাদের এই সম্পর্কে বিয়ে রূপ দিতে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা মতোই আজমল হক মিন্টু তার বন্ধুদের সাথে এই বিষয় নিয়ে এক লাখ টাকার চুক্তি করে। তার ভাইকে হত্যা করে। কিলারদের অগ্রীম ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়। আর বাকি টাকাটা হত্যাকাণ্ড পরে দেয়া হবে বলে চুক্তি হয়।



মৃত্যু নিশ্চিত করে কিলার মান্নান ভিকটিমের ভাই মিন্টুকে জানায়। পরে মিন্টু তার ভাবিকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে। তখন তারা ৩০ হাজার টাকা ভাগ করে নেয়। এতে শাওন ১৫ হাজার টাকা, মান্নান ১০ হাজার আর ফাহিম ৫ হাজার টাকা নেয়।


এ ঘটনায় মামলার অগ্রগতি চলছে বলে জানান গুলশান জোনের ডিসি মোস্তাক আহমেদ।


বিবার্তা/খলিল/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com