''সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে মেহেদীকে খুন''
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:১৮
''সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে মেহেদীকে খুন''
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

দক্ষিণখান থানা এলাকায় ছুরিকাঘাত করে মেহেদী (১৭) হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাইফসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরেই মেহেদীকে খুন হরা হয়।


রবিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে, এই তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান।


তিনি জানান, শনিবার রাতে রাজধানীর দক্ষিণখান ও উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মো. সাইফ, মনির, আরাফাত, সাইফুল, মেহেরাব, আপেল, সিফাত ও সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।


উপ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান জানান, দক্ষিণখান থানাধীন চেয়ারম্যানবাড়ী ইউপির নগরিয়া বাড়ী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্ব এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে শান্ত ও আরাফাত গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই হাতাহাতি ও মারামারি হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। দক্ষিণখান থানাধীন চেয়ারম্যানবাড়ী এলাকায় উঠতি বয়সী ছেলেদের বিভিন্ন গ্রুপ (জিম-জিয়াদ গ্রুপ, শান্ত গ্রুপ, আরাফাত গ্রুপ, কামাল গ্রুপ ও আনছার গ্রুপ) সক্রিয় রয়েছে। এই গ্রুপগুলো ওই এলাকায় চাঁদাবাজি, ইভ টিজিং, ছিনতাই, হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরনের অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে।


এক পর্যায়ে গত ঈদ-উল ফিতরের ১০ থেকে ১৫ দিন আগে আরাফাত গ্রুপের সদস্য কাউসার ওরফে কডা শান্ত গ্রুপের হুন্ডা মেহেদীকে 'তুই' বলে সম্বোধন করে। ওই ঘটনার রেশ ধরে শান্ত গ্রুপের হুন্ডা মেহেদী ও ভিকিটিম মেহেদী আরাফাত গ্রুপের কাউসার ওরফে কডাকে মারধর করে। গত ১৮ আগস্ট ভিকিটিম মেহেদীসহ শান্ত গ্রুপের সদস্যরা আরাফাত গ্রুপের সাইফকে মারধর করে।



পরবর্তীতে ৩১ আগস্ট শান্ত গ্রুপের ভিকটিম মেহেদী এবং নাজমুল ফজল হাজীর ছেলে আরাফাত গ্রুপের তৌকিরর বাম হাতের কব্জিতে ও বুকের বাম পাশে সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এই ঘটনার পর থেকে আরাফাত গ্রুপের সদস্যরা মেহেদী ও নাজমুলকে মারার জন্য খুঁজতে থাকে। একই দিন বিকেল বেলায় কেসি কনভেনশন হলে একটি জনসভায় শান্ত গ্রুপের লোকজন মিছিল নিয়ে আসার সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আরাফাত গ্রুপের সদস্যরা মিছিলের উপর আক্রমন করে। আরাফাত গ্রুপের সানি ও সোহেল মেহেদীকে জড়িয়ে ধরে এবং সাইফ চাকু দিয়ে মেহেদীর বাম কানের নিচে স্টেপ করে এবং অন্যান্যরা লাঠি দিয়ে মারধর করে। আহত অবস্থায় ভিকটিম মেহেদীকে প্রথমে কেসি হাসপাতালে পরবর্তী সময়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে।



তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় মামলা করেন। এই মামলায় থানা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।


বিবার্তা/খলিল/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com